নওশাদ বললেন, "কতটা শক্তিশালী হবে সেটা আমরা ভাবছি না। একজন অনুতপ্ত, তিনি মূল স্রোতে আসতে চাইছেন। দায়িত্বশীল নাগরিক হতে চাইছেন। তাই সেই প্ল্যাটফর্মটা আমরা দিচ্ছি।"

শেষ আপডেট: 19 March 2026 18:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভাঙড়ে অশান্তির আঁচে গাড়ির কাচ ভেঙে গিয়েছিল আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকীর। হামলার অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলাম ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে। সেই ভাঙা কাচ এখনও একইভাবে আছে। কিন্তু বদলে গেছে বাকিটা। একদা ভাঙড়ের দাপুটে তৃণমূল নেতা তৃণমূল ছেড়ে যোগ দিলেন আইএসএফে।
সাংবাদিকদের প্রশ্ন ধেয়ে আসতেই মুচকি হেসে নওশাদ বললেন, "এটাইতো রাজনীতি। শোধরাবার বা সংশোধনের জায়গা আইএসএফ দেয়। আমরা কাউকে মূল স্রোত থেকে খারাপের দিকে ফেলে দিতে পারি না।"
আরাবুলের যোগদান কি আইএসএফকে আরও শক্তিশালী করবে? এই প্রশ্নে অবশ্য অনেকটাই ডিফেন্সিভ নওশাদ। বললেন, "কতটা শক্তিশালী হবে সেটা আমরা ভাবছি না। একজন অনুতপ্ত, তিনি মূল স্রোতে আসতে চাইছেন। দায়িত্বশীল নাগরিক হতে চাইছেন। তাই সেই প্ল্যাটফর্মটা আমরা দিচ্ছি।"
বৃহস্পতিবার জাঙ্গিপাড়ার ফুরফুরা শরীফে এসে তৃণমূল ছেড়ে আইএসএফে যোগ দেন ভাঙড়ের একসময়কার অবিসংবাদী তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলাম। বললেন, 'নওশাদ আমার নেতা।" তারপরেই আইএসএফএর পতাকা ধরলেন আরাবুল ইসলাম।
গত কয়েক দিন ধরেই রাজনীতির শিরোনামে ছিল ভাঙড়ের আরাবুল ইসলাম। জল্পনা চলছিল আগামী দিনে তাঁর রাজনৈতিক পথচলা নিয়ে। অবশেষে সব জল্পনার অবসান ঘটল। ভাঙড়ে এক সময় তিনিই ছিলেন শেষ কথা। পরবর্তীতে দলের বিধায়ক শওকত মোল্লার সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্ব নিয়ে চাপানউতোর শুরু হয়। কিছুদিন আগে জাঙ্গিপাড়ায় ফুরফুরা শরীফে এসে তৃণমূল ত্যাগ করার কথা জানান আরাবুল। ফুরফুরার একাধিক পীরজাদার সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। কিন্তু তখনও তিনি আইএসএফে যোগ দেবেন কিনা তা স্পষ্ট করেননি। গত মঙ্গলবার তৃণমূলের তরফে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়। সেখানে দেখা যায় ভাঙড় থেকে তৃণমূলের প্রার্থী করা হয়েছে শওকত মোল্লাকে। এরপরই ফুরফুরা শরীফে আইএসএফ এর রাজ্য অফিসে এসে দলে যোগ দেওয়ার কথা জানান আরাবুল ইসলাম।
এদিকে ভাঙড়ে বোম বিস্ফোরণে মৃত্যু প্রসঙ্গে এদিন নওশাদ বলেন, "শওকত মোল্লা ভাঙড়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই হিংসা বেড়েছে। ভাঙড়ের চালতাবেরিয়া অঞ্চলের ১৫৭ নম্বর বুথে বোমা তৈরি হচ্ছিল। আইএসএফ কর্মীদের মারার জন্য বোমা তৈরি করা হচ্ছিল। সেই বোমা তৈরির সময় অনেকে ক্ষতিগ্ৰস্থ হয়েছেন। পুলিশ সঠিক তদন্ত না করলে আমরা NIA কে চিঠি দেব। কারণ এটা সীমান্ত জেলা। এই ঘটনায় আমরা আতঙ্কিত। শওকত মোল্লার গাড়ি-সহ সমস্ত গাড়ি চেক করা দরকার। প্রয়োজনে নওশাদ সিদ্দিকীর গাড়িও চেক করা হোক।"