নওশাদের মূল দাবি, যে ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম এখনও ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় রয়েছে, তাঁদের ভোটদানের বিশেষ ব্যবস্থা করতে হবে কমিশনকে।

নওশাদ সিদ্দিকি ও আরাবুল ইসলাম
শেষ আপডেট: 16 March 2026 14:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রোববার বিকেলে দিল্লির বিজ্ঞান ভবন থেকে রাজ্যের ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar)। আর তার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই সোমবার সাতসকালে ভাঙন দেখল ভাঙড় (Bhangar)। একদিকে, ‘বিবেচনাধীন’ (Under Adjudication) ভোটারদের অধিকার রক্ষায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি; অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের ‘তাজা নেতা’ আরাবুল ইসলাম (Arabul Islam) তৃণমূলের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা করে নতুন জল্পনা উসকে দিলেন।
ভোটার তালিকা নিয়ে নওশাদের আইনি লড়াই
এ বার বাংলায় ভোট হবে দুই দফায়— ২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল। কিন্তু অসম্পূর্ণ ভোটার তালিকা নিয়ে শুরু থেকেই সরব আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি (Naushad Siddiqui)। সোমবার তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। তাঁর মূল দাবি, যে ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম এখনও ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় রয়েছে, তাঁদের ভোটদানের বিশেষ ব্যবস্থা করতে হবে কমিশনকে। নওশাদের বক্তব্য, “কোনও বৈধ ভোটার যেন তাঁর গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতেই এই আইনি পদক্ষেপ।” ভোটের ফলপ্রকাশের আগেই এই জনস্বার্থ মামলা কমিশনের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
‘তাজা নেতা’র প্রস্থান: ভাঙড়ে ঘাসফুলে ভাঙন
ভোট ঘোষণার পরেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে বড় ধাক্কা খেল শাসকদল। দীর্ঘদিনের দাপুটে নেতা আরাবুল ইসলাম সোমবার সকালে জানিয়ে দিলেন, তিনি আর তৃণমূল কংগ্রেসে নেই। ফুরফুরা শরিফের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগে কান্নায় ভেঙে পড়ে আরাবুল বলেন, “সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের সময় থেকে নেত্রীর পাশে থেকেছি। যে দলের জন্য পাঁচবার জেলে গেলাম, তিনবার সাসপেন্ড হলাম, সেই দল আজ আমায় চিনতে পারল না। বড় দুঃখে দল ছাড়ছি।”
আরাবুল আইএসএফে যোগ দেবেন কি না, তা নিয়ে খোলসা না করলেও ভাঙড়ের রাজনৈতিক সমীকরণ যে ওলটপালট হয়ে গেল, তা নিয়ে নিশ্চিত ওয়াকিবহাল মহল। তৃণমূলের একাংশের মতে, আরাবুলের মতো ‘মাঠের নেতা’ হাতছাড়া হওয়া ভাঙড়ের ভোটে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে।
উত্তপ্ত দক্ষিণবঙ্গ
একদিকে নওশাদের আইনি প্যাঁচ আর অন্যদিকে আরাবুলের বিদ্রোহ— এই দুই ঘটনায় ভোটের প্রথম লগ্নেই দক্ষিণবঙ্গের রাজনীতির এপিসেন্টার হয়ে উঠল ভাঙড়। ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটের আগেই এই ‘ভাঙন’ ও ‘মামলা’র খেলা কতদূর গড়ায়, এখন সেটাই দেখার। ৪ মে ফলপ্রকাশের দিনে এই সমীকরণগুলোর প্রতিফলন কতটা স্পষ্ট হয়, নজর থাকবে সেদিকেও।