
শেষ আপডেট: 3 November 2023 13:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লকডাউনের সময় থেকে পর পর তিনবছর। নদিয়া জেলাতে রেশন দুর্নীতি নিয়ে থানায় দায়ের হয়েছিল তিনটি অভিযোগ। কোতোয়ালি, নবদ্বীপ ও কৃষ্ণনগর-তিনটি থানা অভিযোগের তদন্তও করে। আদালতে জমা দেওয়া হয় চার্জশিটও। কিন্তু ২০২০, ২০২১ এবং ২০২২ সালের ওই রেশন দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে কোথাও নাম ছিল না নদিয়ার চালকল মালিক বাকিবুর রহমানের।
সূত্রের দাবি, ওই তিনটি মামলা খতিয়ে দেখতে গিয়ে ইডি কর্তারা বেনিয়মের পদে পদে বাকিবুরের ছাপ পেয়েছেন। অথচ রাজ্য পুলিশের নজর এড়িয়ে গেল কীভাবে? সেই সময় ঘটনার তদন্তে নেমে রাজ্য পুলিশ স্থানীয় কয়েকটি ছোট মিলে হানা দিলেও বাকিবুরের রাইস মিলের তল্লাশি চালায়নি। কেন? মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ঘনিষ্ঠ হওয়ার সূত্রেই কি রাজ্য পুলিশ বাকিবুরের ‘অপরাধ’ দেখেও দেখেননি?
সূত্রের খবর, রেশন দুর্নীতির তদন্তে নেমে স্থানীয় পুলিশের ভূমিকার বিষয়ে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। যার ভিত্তিতে রেশন কাণ্ডে পুলিশি যোগসাজশও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তাঁরা। এবিষয়য়ে আদালতেও তদন্তকারীরা রিপোর্ট জমা দিতে চলেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর।
ইতিমধ্যে তদন্তে নেমে তদন্তকারীরা আরও জানতে পেরেছেন যে শুধু চাল নয়, রেশনের আটার ক্ষেত্রেও বিস্তর দুর্নীতি হয়েছে। কেন্দ্র থেকে রাজ্যে রেশনের যে গম আসে, তা ভাঙিয়ে আটা তৈরি করা হয় নির্দিষ্ট কিছু মিলে। সেখান থেকে ডিস্ট্রিবিউটারদের হাতে যায় আটা। অভিযোগ, বাকিবুরের মিল থেকেই সরাসরি সরকারি আটা চলে যেত খোলাবাজারে। এই বিষয়ে পুলিশ বা খাদ্য দফতর কোনও পদক্ষেপ করেনি বলে অভিযোগ।
ইতিমধ্যে রেশন দুর্নীতির দায়ে গত ১৩ অক্টোবর বাকিবুরকে গ্রেফতার করেছে ইডি। ২৬ অক্টোবর গ্রেফতার করা হয় রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রীকেও। রেশন দুর্নীতিতে পুলিশি যোগসাজশ খতিয়ে দেখতে বাকিবুর ও জ্যোতিপ্রিয়কে মুখোমুখি বসিয়ে জেরার করারও পরিকল্পনা রয়েছে তদন্তকারীদের।