
শেষ আপডেট: 27 August 2020 18:30
সেটা কেন? ওয়েক ফরেস্ট স্কুল অব মেডিসিনের অধ্যাপক লিয়েন গ্রোবান বলেছেন, সার্স-কভ-২ আরএনএ ভাইরাসের স্পাইক (S) প্রোটিন মানুষের দেহকোষের ACE-2 (অ্যাঞ্জিওটেনসিন কনভার্টিং এনজাইম-২) প্রোটিনের সঙ্গে জোট বেঁধেই কোষে ঢুকতে পারে। ভাইরাসের ‘রিসেপটর বাইন্ডিং ডোমেন’ দেহকোষের এই রিসেপটর প্রোটিনকে খুব ভালভাবে শনাক্ত করতে পারে। শরীরের নানা অঙ্গের কোষেই থাকে এই রিসেপটর প্রোটিন। হার্ট, কিডনি, লিভার, ফুসফুসে এই রিসেপটর প্রোটিনের সাহায্যে কোষে ঢুকে প্রতিলিপি তৈরি করে সংখ্যায় বাড়ে করোনাভাইরাস।
গবেষক লিয়েন বলছেন, ইস্ট্রোজেন হরমোন এই রিসেপটর প্রোটিনের কার্যকারিতাকেই কমিয়ে দেয়। ইস্ট্রোজেন কিডনিতে এসিই-২ রিসেপটর প্রোটিনের কাজ করার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এখন দেখা যাচ্ছে হার্টেও এই রিসেপটর প্রোটিনের প্রভাব কমিয়ে দিচ্ছে ইস্ট্রোজেন। এই প্রোটিনের প্রকাশ যদি কমে তাহলেই ভাইরাস আর এই রিসেপটরকে চিহ্নিত করতে পারবে না। ফলে কোষে ঢোকার রাস্তাটাই খুঁজে পাবে না। গবেষকরা দাবি করছেন, পুরুষদের শরীরে এই রিসেপটর প্রোটিনের সংখ্যা মহিলাদের থেকে বেশি থাকতে পারে। সেই কারণেই পুরুষের শরীরে ভাইরাসের সংক্রমণের হারও অধিক।
নিউ ইয়র্কে কোভিড পজিটিভ রোগীদের শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোন প্রয়োগ করে তার প্রভাব দেখা হচ্ছে। ১৮ বছর থেকে ৬০ বছর বয়সী পুরুষ ও মেনোপজ হয়ে গেছে এমন মহিলাদের উপরেই হরমোনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ হচ্ছে। এদের প্রত্যেকেরই হয় নিউমোনিয়া, বা জ্বর, নয়তো তীব্র শ্বাসের সমস্যা রয়েছে। গবেষকরা বলেছেন, ইস্ট্রোজেন হরমোনের পাশাপাশি প্রজেস্টেরন হরমোনও প্রয়োগ করে তার ফল দেখা হচ্ছে। এই দুই হরমোন কীভাবে রোগীদের শরীরে কাজ করবে সেটা সঠিক তথ্য পাওয়ার পরেই জানা যাবে।