দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার সলিডারিটি ট্রায়ালে ৭০ রকম ওষুধের মধ্যে অ্যান্টি-রেট্রোভিয়াল রেমডেসিভিরকেই এগিয়ে রেখেছিল মার্কিন সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন। আমেরিকার প্রায় সব হাসপাতালেই করোনা রোগীদের চিকিৎসায় রেমডেসিভির ওষুধের প্রয়োগ হচ্ছিল। কিন্তু সম্প্রতি আমেরিকার হাসপাতালগুলি জানিয়েছে, ওষুধের আকাশছোঁয়া দাম এবং সীমিত গণ্ডিতেই ব্যবহারের কারণে রেমডেসিভিরের প্রয়োগ কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, ওষুধের কার্যকারীতা নিয়েও খুব একটা খুশি নন অনেক ডাক্তারই।
শীতের আগে রেমডেসিভির ওষুধের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছিল ওষুধের নির্মাত সংস্থা গিলিয়েড সায়েন্সেস। কিন্তু আমেরিকার অন্তত আটটি হাসপাতাল দাবি করে, ওষুধের পর্যাপ্ত যোগান নেই। তার উপরে ৬টি ভায়ালের (১০০ মিলিগ্রাম) প্রায় ২ লক্ষ টাকার কাছাকাছি। এত দামি ওষুধে রোগীদের থেরাপি করা অসম্ভব ব্যাপার হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তা ছাড়াও রেমডেসিভিরের প্রয়োগ নিয়ে নানা মতামতও আছে। গিলিয়েড বলেছিল সার্বিকভাবে এই ওষুধের প্রয়োগ করা যাবে। কিন্তু মার্কিন সিডিসি জানিয়েছিল, শুধুমাত্র সঙ্কটাপন্ন কোভিড রোগীদের থেরাপিতেই এই ওষুধের প্রয়োগ সম্ভব। মাঝারি উপসর্গের রোগীদের উপর এই ওষুধ তেমন প্রভাব ফেলবে না, উল্টে ফল খারাপও হতে পারে।
ইবোলার প্রতিষেধক হিসেবে তৈরি হলেও এই ওষুধ ইবোলা সারাতে কার্যকরী ভূমিকা দেখায়নি। অথচ সার্স ও মার্স ভাইরাস প্রতিরোধে কিছুটা হলেও কাজ করেছিল রেমডেসিভির। সেই রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য এই ওষুধকে বেছে নিয়েছিল ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ। মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ)অনুমোদনে করোনা রোগীদের উপরে রেমডেসিভিরের কন্ট্রোলড ট্রায়াল শুরু করে গিলিয়েড সায়েন্সেস। রেমডেসিভির ওষুধের ক্লিনিকাল ট্রায়ালে সুফল দেখা গিয়েছিল বলেই দাবি করেছিল গিলিয়েড। আমেরিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশিয়াস ডিজিজের ডিরেক্টর ও হোয়াইট হাউসের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ডক্টর অ্যান্থনি ফৌজি বলেছিলেন, ইউরোপ, আমেরিকা ও এশিয়ার নানা জায়গায় এই ওষুধের প্রয়োগে সুফল পাওয়া গেছে। গিলিয়েডও তাদের রিপোর্টে বলেছিল, এই ওষুধ করোনায় মৃত্যুহার কমাচ্ছে, রেমডেসিভিরের ইঞ্জেকশন দেওয়া রোগীদের অধিকাংশকেই ভেন্টিলেটর সাপোর্ট দেওয়ার প্রয়োজন হয়নি।
ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আদর্শ ভীমরাজ বলেছেন, শুধুমাত্র ভেন্টিলেটর সাপোর্ট বা অক্সিজেন সাপোর্ট দিতে হবে যে করোনা রোগীদের তাদের থেরাপিতেই ব্যবহার করা যেতে পারে রেমডেসিভির। সাম্প্রতিক সময় এই ওষুধের কার্যকারীতা নিয়ে যে দাবি করা হয়েছে তাতেও খুব একটা সন্তোষ মেলেনি বলেই জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালের ডাক্তার রাজেশ গান্ধী বলেছেন, সীমিত পরিসরেই কোভিড রোগীদের উপর এই ওষুধের থেরাপি করা যাবে। তার উপর প্রতিটি ভায়ালের দাম আকাশছোঁয়া। তাই রেমডেসিভির ওষুধের প্রয়োগ কমিয়ে দিচ্ছে আমেরিকার অনেক হাসপাতালই। জরুরি ভিত্তিতে শুধুমাত্র জটিল রোগে আক্রান্ত কোভিড রোগীদের চিকিৎসার কাজেই ব্যবহার করা যেতে পারে এই ওষুধ।