
শেষ আপডেট: 17 September 2020 18:30
সাপ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পিট ভইপারদের বিষ মারাত্মক। একবার শরীরে ঢুকলে ভেতরে ও বাইরে রক্তক্ষরণ শুরু হয়ে যায়। সারা শরীরে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে বিষ। পিট ভাইপারদের প্রায় ১৫১ রকম প্রজাতি রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার সুন্দা আইল্যান্ডে এই জাতীয় পিট ভাইপার বেশি দেখা যায়। নীল ও সবুজ পিট ভাইপারে ভর্তি ইন্দোনেশিয়ার বালি। সেখানে ভাইপারের ছোবলে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা আকছার ঘটে।
হোয়াইট-লিপড আইল্যান্ড পিট ভাইপার (Trimeresurus insularis) ইন্দোনেশিয়ায় বেশি, হোয়াইট লিপড ভাইপার (T. albolabris) মূলত সবুজ রঙেরই বেশি হয়, এদের নিবাস দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। অস্ট্রেলিয়ার হারপেটোলজিস্ট স্টিফেন ম্যাহনি বলছেন, ব্লু পিট ভাইপাররা অন্টোজেনেটিক নয়, এদের রঙ ঘন গাঢ় নীলই থাকে। আবার হলুদ রঙের প্রজাতিও দেখা যায়। এদের বিষকে বলে হেমোর্যাজিক ভেনম, যা মাংস চিড়ে ঢোকে এবং শুরুতেই প্রচণ্ড যন্ত্রণায় কাতর হয়ে যায় আক্রান্ত। ধীরে ধীরে বিষ ছড়াতে থাকে সারা শরীরে। ছোবলের জায়গা তো বটেই শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ অকেজো হতে শুরু করে। অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ শুরু হয়ে যায়।
হারপেটোলজিস্টরা বলছেন, দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকাতেও বিষাক্ত ভাইপারদের দেখা মেলে। জলবায়ুর ভেদে বিভিন্ন দেশে এদের আকার ও রঙ ভিন্ন হয়। ২০১১ সালে চিনে বিশ্বের সবচেয়ে ছোট ভাইপার পাওয়া গিয়েছিল যার নাম মাও-ল্যান পিট ভাইপার (Protobothrops maolanensis), দৈর্ঘ্যে ছিল ২ ফুটের কাছাকাছি। দীর্ঘতম ভাইপারের খোঁজ মেলে আমেরিকায় যার নাম সাউথ আমেরিকান বুশমাস্টার (Lachesis muta), দৈর্ঘ্যে ১১ ফুটেরও বেশি।
এই পিট ভাইপারদের মাথায় হিট সেন্সিং অর্গান থাকে। গিরগিটি, ইঁদুর, ছোটখাটো স্তন্যপায়ী প্রাণী, পাখি এদের পছন্দের শিকার। হারপেটোলজিস্ট অ্যান্ড্রু সোলে বলছেন, বিষ না ঢেলেও এরা শিকারের শরীরে দাঁত ফোটাতে পারে। মুখ হাঁ করতে পারে ১৮০ ডিগ্রি। সাপ বিশেষজ্ঞরা এদের ‘ডেডলি ভাইপার’ বলেন।