দ্য ওয়াল ব্যুরো: নোভেল করোনাভাইরাসকে দমাতে হিমশিম খাচ্ছে গোটা বিশ্ব। চিনে মহামারীর মতো ছড়য়ি পড়ছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। বাড়ছে মৃত্যুমিছিল। তার মাঝেই চিন্তা বাড়িয়ে ফের তাণ্ডব শুরু করল সোয়াইন ফ্লু। এইচওয়ানএনওয়ান ভাইরাসের হানায় তাইওয়ানে ইতিমধ্যেই মৃত্যু হয়েছে ৫৬ জনের। সংক্রামিত অনেক।
করোনাভাইরাস ও সোয়াইন ফ্লুয়ের জোড়া থাবায় নাভিশ্বাস উঠেছে তাইওয়ানের। সে দেশের স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত অন্তত ১০ জন। তাঁদের আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা চলছে। সোয়াইন ফ্লু-তে কতজন সংক্রামিত সেই রিপোর্ট এখনও আসেনি। তাইওয়ানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, গত সপ্তাহেই ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এইচওয়ানএনওয়ান ভাইরাসের সংক্রমণে। তবে বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্রে খবর, গত একমাসে মোট ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে সোয়াইন ফ্লু-এর হানায়। অর্থাৎ করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময়েই পাল্লা দিয়ে তাণ্ডব চালাচ্ছিল সোয়াইন ফ্লু।

তাইওয়ানের স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, মৃতদের বয়স ৪৭ বছর থেকে ৯৭ বছরের মধ্যে। প্রত্যেকেই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। গত বছর ডিসেম্বরে ৮০ বছরের এক মহিলা নিউমোনিয়া ও রেসপিরেটারি সিন্ড্রোমে আক্রান্ত হন। তাঁকে জ্বরের ভ্যাকসিনও দেওয়া হয়। তবে সংক্রমণ ছড়িয়ে গিয়েছিল সারা শরীরেই।
তাইওয়ানের সেন্ট্রাল এপিডেমিক কম্যান্ড সেন্টারের রিপোর্ট বলছে, গত তিনমাস ধরেই ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত প্রায় ৭৭১ জন। তাঁদের অধিকাংশের শরীরেই সোয়াইন ফ্লুয়ের ভাইরাস বাসা বেঁধেছে।
গত বছরই সোয়াইন ফ্লুয়ের তাণ্ডবে আমাদের দেশে মৃত্যু হয় দুশোরও বেশি। অন্তত সাড়ে চার হাজারেরও বেশি মানুষের রক্তে মিলেছিল সোয়াইন ফ্লুয়ের ভাইরাস। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এটি এমন একটি ভাইরাস ঘটিত রোগ যা চট করে ধরা পড়ে না। উপসর্গ আর পাঁচটা ভাইরাসঘটিত জ্বরের মতোই। ফলে চিকিৎসা শুরু করতেই বেশ খানিকটা সময় লেগে যায়। ফলে দাপটও বাড়ে রোগের। জ্বর, শ্বাসকষ্ট, হাঁচি-কাশি, মাথা ব্যথা, গায়ে যন্ত্রণা, পেটের সমস্যা থেকে মানসিক অবসাদ—এই ভাইরাসঘটিত রোগের উপসর্গ একাধিক। করোনাভাইরাসের মতোই, প্রয়োজনীয় নমুনা পরীক্ষায় সোয়াইন ফ্লু ধরা পড়লেই আক্রান্তকে আলাদা ভাবে রাখা হয়। কারণ এই সংক্রমণ ছড়ায় হাঁচি-কাশি, আক্রান্তের সংস্পর্শ থেকেই। ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত বছর সোয়াইন ফ্লু আক্রান্তের মধ্যে মৃতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ছিল রাজস্থান, গুজরাত, মধ্যপ্রদেশ এবং মহারাষ্ট্রে। এ রাজ্যেও আক্রান্তের সংখ্যা ছিল শতাধিক।