হায় গরুরও পরীক্ষা ভগবান! শিং থাকবে না যাবে তা নিয়ে ভোট দান
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গরুর শিঙের গুঁতোয় লেজে গোবরে হয়েছেন কখনও? বাঁকানো ধনুকের মতো এক জোড়া শিং দেখে ভিরমি খান বা না খান, এই শিং নিয়ে এখন মাতামাতি হচ্ছে সুদূর সুইৎজারল্যান্ডে। শিং উঁচিয়ে তেড়ে আসা গরু মোটেই পছন্দ নয় সুইসদের। বাছুর থেকেই গরুদের শ
শেষ আপডেট: 22 November 2018 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গরুর শিঙের গুঁতোয় লেজে গোবরে হয়েছেন কখনও? বাঁকানো ধনুকের মতো এক জোড়া শিং দেখে ভিরমি খান বা না খান, এই শিং নিয়ে এখন মাতামাতি হচ্ছে সুদূর সুইৎজারল্যান্ডে। শিং উঁচিয়ে তেড়ে আসা গরু মোটেই পছন্দ নয় সুইসদের। বাছুর থেকেই গরুদের শিং ছাড়া করে ছেড়েছে তাঁরা। তবে, এখন গরুরা থুড়ি গরুর মালিকরা প্রতিবাদ করেছে। শিং হল গরুর গর্ব। তাকেই নাকি ছেঁটে ফেলা, নৈব নৈচ চ। এ অসম্মান মানা যায় না। তাই গরুর শিং থাকা উচিত না উচিত নয় সেই নিয়েই গণভোট হতে চলেছে সুইৎজারল্যান্ডে। নেপথ্যে গরু-প্রেমীরা।
সুইৎজারল্যান্ডের দুধেলা গরু বা ‘সুইস কাউ’ বিশ্বে বেশ জনপ্রিয়। এমন নধর গরুরা দুধও দেয় অঢেল। দেশের জাতীয় প্রতীক গরু। আমাদের দেশের মতো গো-মাতা বাতিক না থাকলেও গরুদের বেশ স্নেহের চোখেই দেখা হয় সুইৎজারল্যান্ডে। তবে শিং নিয়ে সুইসদের মধ্যে একটা মতবিরোধ আছে। গরু ভাল, তবে তার শিং মোটেই নিরাপদ নয়। বড়, বাঁকানো শিং নিয়ে খামারে বেশ ঠাসাঠাসি হয়। তার উপর যখন-তখন গরুতে-গরুতে ঝামেলা বাঁধলে রক্তারক্তি ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। দুধ দুইতে গিয়ে শিঙের গুঁতোয় কুপোকাৎ হওয়ার আশঙ্কাও কিছু কম নয়। এতএব শিঙের ‘নো এন্ট্রি’।
ঝামেলার শুরুটা এখান থেকেই। একদলের মত যদি হয় শিং থাকা উচিত নয় অর্থাৎ নিরাপদ নয়, তো অপর দলের যুক্তি শিং ছাড়া গরু বেমানান। এই শিং-আন্দোলনের একজন পথ প্রদর্শক আরমিন কাওপল ঝাণ্ডা নিয়েই গরুদের শিঙের পক্ষে আওয়াজ তুলেছেন। উত্তর-পশ্চিম সুইৎজারল্যান্ডের বাসিন্দা বছর ছেষট্টির এই কৃষকের বাড়িতেও রয়েছে ছোটখাটো একটা খামার। নিজের খামারের গরুদের শিং অবশ্য তিনি ছাঁটেননি। নিজেকে বিদ্রোহী বলে পরিচয় দেওয়া আরমিনের কথায়, ‘‘গরুদের সম্মান জানানো উচিত। গরুরা যখন হাঁটে দেখেছেন কি, তারা মাথা তুলে শিং নাড়তে নাড়তে হাঁটে। এই শিং হল গরুদের গর্ব, তাদের মনের ভাব বোঝানোর মাধ্যম।’’ শিং কেটে ফেলা মানে গরুদের অসম্মান করা।
গরুর শিং কেটে ফেলার বিরুদ্ধে বহুদিন ধরেই আন্দোলন চালাচ্ছেন আরমিন। তাঁর মতে এই শিং কাটার পদ্ধতিও যন্ত্রণাদায়ক। নানা জায়গায় এই বিষয়ে প্রচার ও কর্মশালা করেছেন তিনি।

সুইৎজারল্যান্ডে বেশিরভাগ গরুর মাথাতেই শিং নেই। শিং গজানোর মুহূর্তেই সেটা হয় বিশেষ উপায় পুড়িয়ে দেওয়া হয় যাতে আর না গজায়, অথবা কেটে দেওয়া হয় যাতে সেটা বাড়তে না পারে। তা ছাড়া, বংশগত ভাবেও শিং ছাড়া গরুরা রয়েছে। মাথায় বড় শিং সমেত গরু রাখতে গেলে খামার মালিকদের সুইস সরকারকে বছরে মোটা টাকা ভর্তুকি দিতে হয়। শিং সমেত গরু পিছু ভর্তুকি বছরে ১৯০ সুইস ফ্রাঙ্ক (ভারতীয় টাকায় প্রায় ১৩,৪৭০ টাকা)। মোটা টাকা ভর্তুকি গুনতে গুনতে বিপর্যস্ত আরমিনও। বলেছেন, “শিং দিয়েই গরুরা কথা বলে, মনের ভাব বোঝায়। দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণও করে এই শিং। এটা কেটে ফেলা অন্যায়। আর শিং রাখতে হলে ভর্তুকি দেওয়াটাও বড় অন্যায়। আমরা এর বিরুদ্ধে।”
আগামী রবিবার সুইৎজারল্যান্ডে গণভোট। ইতিমধ্যেই কয়েক লাখ গরুপ্রেমীর সই যোগাড় করে ফেলেছেন আরমিন। অন্যদিকে শিং কাটার বিপক্ষেও তৈরি হয়েছে জনমত। বেশ উত্তপ্ত পরিবেশ। এখন ভোটে কারা জেতে সেটাই দেখার।