
শেষ আপডেট: 11 August 2019 18:30
সোমবার হংকং বিমানবন্দরে বিক্ষোভকারীদের জমায়েত[/caption]
বিতর্কিত প্রত্যর্পণ বিলের বিরোধিতা করে জুন মাসে দশ লক্ষেরও বেশি মানুষ নেমেছিলেন হংকংয়ের রাস্তায়। প্রবল চাপে সেই বিল আনা আপাতত স্থগিত রেখেছেন স্বশাসিত এই অঞ্চলের প্রশাসনিক প্রধান ক্যারি লাম। তবে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ফের রাস্তায় নামেন হাজার হাজার হংকংবাসী। দাঙ্গা রুখতে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিও হয় বিক্ষোভকারীদের। রবিবার রাতে পরিস্থিতি চরমে ওঠে। পুলিশ জানায়, প্রতিবাদী জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের ৮০০ গ্রেনেড ছুড়তে হয়েছে তাদের।
হংকংয়ের গণতন্ত্রকামী নেতাদের বক্তব্য, বিক্ষোভ থামাতে যথেচ্ছ ভাবে পেপার স্প্রে, লাঠি, বর্মের প্রয়োগ করে পুলিশ। কাঁদানে গ্যাস, রবার বুলেট ছোড়া হয়। তাতে আহত হন বহু মানুষ। তাঁদের বক্তব্য, মেট্রো স্টেশনে, রাস্তায় যখন বিক্ষোভকারীদের বেধড়ক মারা হচ্ছিল, তখনই পুলিশের কাছে সাহায্য চেয়ে ফোন যায়। কিন্তু ঘটনার অন্তত এক ঘণ্টা পরে সেখানে এসে হাজির হয় পুলিশ বাহিনী। তত ক্ষণে রক্তে ভেসে গেছে ইউয়েন লংয়ের রাস্তা। পুলিশের ভূমিকার প্রতিবাদ করতেই বিমানবন্দরে এই জমায়েত। বিক্ষোভকারীদের প্ল্যাকার্ডেও লেখা ছিল, ‘হংকং আর সুরক্ষিত নেই। পুলিশের লজ্জা হওয়া উচিত।’
বিমানবন্দরেই প্ল্যাকার্ড হাতে বসেছিলেন ২৯ বছরের নার্স নোয়েল সে। তিনি বলেছেন, ‘‘আমরা ধিক্কার জানাচ্ছি। রবিবার রাতে পুলিশ যে বর্বরোচিত আচরণ করেছে তা ক্ষমার অযোগ্য।’’ তাঁর কথায়, এই গণ-প্রতিবাদ আর রাজনৈতিক স্তরে নেই। এখন এটা ঠিক আর ভুলের লড়াই।
বহু বছর ব্রিটেনের উপনিবেশ ছিল হংকং। ২২ বছর আগে ক্ষমতা হস্তান্তরিত হয় চিনের কাছে। তার পর থেকে স্বশাসিত এই অঞ্চলের মূল কর্তৃত্ব বেজিংয়ের হাতে। মাসখানেক আগে চিনের অনুগত ক্যারি ল্যাম প্রত্যর্পণ বিল আনার প্রস্তাব দেন পার্লামেন্টে। যা আইন হলে বিচারের প্রয়োজনে কোনও অপরাধীকে হংকং থেকে চিনে প্রত্যর্পণ করতে আর বাধা থাকবে না। এর পরেই ল্যামের ইস্তফা চেয়ে রাস্তায় নামেন মানুষজন। প্রবল প্রতিবাদে আপাতত সেই বিল আনা স্থগিত রেখেছেন ল্যাম।