দ্য ওয়াল ব্যুরো: অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন ঠি্ক কতটা কার্যকরী হচ্ছে সে নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা তর্ক-বিতর্ক দানা বেঁধেছে। ৯০ শতাংশ নাকি থেকে ৬০-৭০ শতাংশ, দু’রকম তথ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। যাবতীয় জল্পনা কল্পনার মধ্যেই অক্সফোর্ড ঘোষণা করেছে, তাদের চ্যাডক্স টিকার ডোজ কমবয়সীদের শরীরে ৯০ শতাংশ কার্যকরী। টিকার কম ডোজেই হুড়হুড়িয়ে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। আর বেশি ডোজ তথা ভ্যাকসিনের দুটি শট কম কার্যকরী হচ্ছে বলে যে খবর ছড়িয়েছে সেটা আদতে বয়স্কদের ক্ষেত্রে।
ব্যাপারটা ঠিক কী? অক্সফোর্ড টিকার তৃতীয় পর্বের প্রাথমিক রিপোর্ট সামনে আসার পরেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। শোনা যায়, অক্সফোর্ড টিকার একটি ডোজ দিলে নাকি তা ৯০ শতাংশ কার্যকরী হচ্ছে। অথচ যদি টিকার সম্পূর্ণ ডোজ অর্থাৎ ২৮ দিনের ব্যবধানে দুটি ডোজ দেওয়া হয় স্বেচ্ছাসেবকদের তাহলে নাকি টিকার কার্যকারিতা ফের ৬০-৭০ শতাংশে নেমে যাচ্ছে। কেন এমন হচ্ছে বা কীভাবেই হচ্ছে, সে নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়ে পাঠায় ব্রিটেনের ভ্যাকসিন রেগুলেটরি কমিটি।
অক্সফোর্ড জানিয়েছে, বিভ্রান্তির কোনও কারণ নেই। টিকার ডোজ যেমন কমবয়সীদের দেওয়া হয়েছে তেমনি ষাটোর্ধ্ব প্রবীণদেরও দেওয়া হয়েছে। বয়সের ফারাকে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় তারতম্য তৈরি হয়। ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সীদের শরীরে যতটা অ্যাডাপটিভ ইমিউনিটি বা মেমরি বি-কোষ সক্রিয় হবে, প্রবীণদের শরীরে ততটা নয়। টিকার ডোজেও তাই হেরফের দেখা যাবে। তেমনটাই হয়েছে অক্সফোর্ড টিকার ক্ষেত্রেও।
কমবয়সীদের টিকার একটি ডোজ দিলেই তা ৯০ শতাংশ কার্যকরী হয়েছে। বি-কোষ সক্রিয় হয়ে অ্যান্টিবডি তৈরি করেছে। আবার অ্যাকটিভ হয়েছে ঘাতক টি-কোষও। খুব তাড়াতাড়ি ২৮ দিনের মধ্যেই শরীরে ইমিউনিটি তৈরি হয়েছে। বয়স্কদের ক্ষেত্রে টিকার ডোজ কাজ করতে কিছুটা সময় বেশিই লাগবে। তাই দুটি ডোজ ৬২ শতাংশ কার্যকরী হয়েছে বলে দেখা গেছে। তবে এই ট্রায়াল রিপোর্ট ৫৫ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে।
অক্সফোর্ড টিকার কম ডোজে ফল ভাল হচ্ছে আবার বেশি ডোজ দিলেই তা কম কার্যকরী হচ্ছে, এ প্রসঙ্গে নিজের মতামত দিয়েছেন ভ্যাকসিন গ্রুপের মুখ্য গবেষক সারা গিলবার্ট। তাঁর মতে, চ্যাডক্স টিকা অ্যাডেনোভাইরাসকে ভেক্টর হিসেবে ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে। এই ভেক্টর ভাইরাসের কাজ হল শরীরে ঢুকে ইমিউন সিস্টেমকে সক্রিয় করে তোলা। যেহেতু ভাইরাসকে আগে থেকেই নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছে তাই এর সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষমতা নেই। সারা বলছেন, এমন হতে পারে ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজে অ্যাডেনোভাইরাস যখন শরীরে ঢুকছে তার প্রতিরোধে অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে। এক ধাক্কায় বি-কোষ ও টি-কোষ জেগে উঠে ইমিউন পাওয়ার বাড়িয়ে তুলছে। তাই দেখা যাচ্ছে, টিকা বেশিমাত্রায় কার্যকরী হচ্ছে। ইমিউন রেসপন্স তৈরি হয়েই থাকছে শরীরে।
এবার যখন দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হচ্ছে তখন শরীরের কোষে আর নতুন করে কোনও সাড়া জাগছে না। অর্থাৎ প্রথম ডোজের পরেই শরীরের ইমিউন কোষগুলো ভাইরাসকে চিনেই রাখছে এবং তার প্রতিরোধে সুরক্ষা বলয় তৈরি করে ফেলছে। দ্বিতীয়বার যদি বেশি ডোজ দেওয়া হয় তাহলে তার প্রভাব চাপা পড়ে যাচ্ছে। তাই এমন মিশ্র ফল দেখিয়েছে। তবে তৃতীয় পর্বের সম্পূর্ণ ট্রায়াল রিপোর্ট আসার পরেই নিশ্চিত তথ্য দেওয়া যাবে বলেও জানিয়েছেন সারা।