টিকায় কাজ দিল কতটা, আগামীকালই খবর দেবে অক্সফোর্ড
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের খবর সামনে আসার পর থেকেই হইচই চলছে। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি যে কোনও সময়েই তাদের টিকা নিয়ে সুখবর দিতে পারে এমন জল্পনাও চলছে। অক্সফোর্ডের টিকা কবে বিশ্বের বাজারে আসছে এই ব্যাপারে নিশ্চিত তথ্য এখনও মেলেন
শেষ আপডেট: 18 July 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের খবর সামনে আসার পর থেকেই হইচই চলছে। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি যে কোনও সময়েই তাদের টিকা নিয়ে সুখবর দিতে পারে এমন জল্পনাও চলছে। অক্সফোর্ডের টিকা কবে বিশ্বের বাজারে আসছে এই ব্যাপারে নিশ্চিত তথ্য এখনও মেলেনি। তবে অক্সফোর্ড জানিয়েছে একদম শুরু থেকে মানুষের শরীরে তাদের টিকা কেমন কাজ করেছে তার বিস্তারিত ফলাফল তারা আগামীকাল অর্থাৎ সোমবার জনসমক্ষে আনবে। ল্যানসেট মেডিক্যাল জার্নালে টিকার প্রথম পর্যায়ের ট্রায়ালের রিপোর্ট সবিস্তারে জানানো হবে।
অক্সফোর্ডের টিকার ট্রায়াল শুরু হয়েছিল এপ্রিল থেকেই। প্রথম দু’জনের শরীরে ইনজেক্ট করা হয়েছিল ভ্যাকসিন। তাঁদের মধ্যে একজন মহিলা বিজ্ঞানী। নাম এলিসা গ্রানাটো। তারপর প্রথম পর্যায়ে কম সংখ্যক মানুষের শরীরে টিকার পরীক্ষা করা হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে হাজারের বেশি জনকে টিকা দেওয়া হয়। এই দুই পর্যায়ের ট্রায়ালের রিপোর্টই ইতিবাচক বলে খবর সামনে এসেছিল। প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল চালাচ্ছিল অক্সফোর্ড। এই পর্যায়ের ট্রায়ালেও টিকার প্রভাব সন্তোষজনক বলেই দাবি করা হয়েছে। যদিও টিকার ডোজ বা ক্লিনিকাল ট্রায়ালের রিপোর্ট সামনে আনা হয়নি।
ব্রিটেনে অক্সফোর্ডের টিকার তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল চলার সময়েই ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকাতে এই টিকার ট্রায়াল শুরু হয়। ব্রাজিলে করোনার হটস্পট সাও পাওলো ও রিও দে জেনিরোতে তিন হাজারজনকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। অন্যদিকে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির তত্ত্বাবধানেই দক্ষিণ আফ্রিকায় এই টিকার হিউম্যান ট্রায়াল শুরু করে উইটওয়াটারস্র্যান্ড ইউনিভার্সিটি তথা উইটস। বেছে নেওয়া হয় ২ হাজার জন স্বেচ্ছাসেবককে। ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকায় অক্সফোর্ডের টিকার ট্রায়ালের রিপোর্টও ভালর দিকেই বলে জানায় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

জেন্নার ইউনিভার্সিটির গবেষকদের সাহায্যে ডিএনএ (ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড) টেকনোলজি ব্যবহার করে ভেক্টর ভ্যাকসিন ChAdOx1 nCoV-19 ক্যানডিডেট ডিজাইন করেছে অক্সফোর্ডের ভাইরোলজিস্ট সারা গিলবার্টের টিম। এই গবেষণায় রয়েছেন অধ্যাপক অ্যান্ড্রু পোলার্ড, টেরেসা লাম্বে, ডক্টর স্যান্ডি ডগলাস ও অধ্যাপক অ্যাড্রিয়ান হিল। পরে অক্সফোর্ডের সঙ্গে এই ভ্যাকসিন গবেষণায় যুক্ত হয় ব্রিটিশ-সুইডিশ ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি অ্যাস্ট্রজেনেকা। সারা গিলবার্টের টিম জানিয়েছে, অ্যাডেনোভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করে তৈরি এই ভেক্টর ভ্যাকসিন মানবদেহের বি-কোষ (B-Cell) ও টি-কোষকে (T-Cell) উদ্দীপিত করে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি করবে। যেহেতু নিষ্ক্রিয় ভাইরাসকে ভেক্টর হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে তাই এই ভ্যাকসিনের কোনও ‘অ্যাডভার্স এফেক্ট’দেখা যাবে না মানুষের শরীরে। এই ডিএনএ ভ্যাকসিন সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সুরক্ষিত বলেই দাবি করা হযেছে।
বিশ্বের ১৪০ রকম ভ্যাকসিনের মধ্যে যে ১৪টি ভ্যাকসিন মানুষের শরীরে ট্রায়াল করা হয়েছে তাদের মধ্যে এগিয়ে রয়েছে ব্রিটেনের অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রজেনেকা ও আমেরিকার মোডার্না বায়োটেক। এর মধ্যে মোডার্না তাদের প্রথম পর্যায়ে ভ্যাকসিন ট্রায়ালের রিপোর্ট সামনে এনেছে। সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে ৪৫ জন প্রাপ্তবয়স্ককে ২৫ মাইক্রোগ্রাম, ১০০ মাইক্রোগ্রাম ও ২৫০ মাইক্রোগ্রাম ডোজে ২৮ দিনের ব্যবধানে ভ্যাকসিনের দুটি করে শট দেওয়া হয়। তাঁরা এতদিন পর্যবেক্ষণে ছিলেন। দেখা গেছে, প্রত্যেকের শরীরেই আরএনএ ভাইরাসের প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। ‘নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন’-এ এই গবেষণার রিপোর্ট সামনে এনেছে মোডার্না। এবার অপেক্ষা অক্সফোর্ডের ক্লিনিকাল ট্রায়ালের রিপোর্টের। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাথমিক পর্যায়ের ট্রায়ালের রিপোর্টের উপর অনেক কিছুই নির্ভর করছে। প্রথম পর্যায়ে যাঁদের টিকা দেওয়া হয়েছিল এতদিনে তাঁদের শরীরে কী পরিমাণ অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কতটা বেড়েছে সেটা দেখেই ভবিষ্যতে টিকা কতটা কার্যকরী প্রমাণিত হবে তার আভাস পাওয়া যাবে। এই রিপোর্টের ভিত্তিতেই টিকার সম্ভাব্য ডোজ ঠিক করা হবে।