দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সংক্রমণের বড় প্রভাব পড়তে পারে এইচআইভি ও ক্যানসারের রোগীদের শরীরে। তৃতীয় স্তরের ট্রায়ালে এবার এইচআইভি পজিটিভ রোগীদের শরীরে টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু করল মার্কিন ফার্মা জায়ান্ট মোডার্না বায়োটেকনোলজি।
মোডার্না আগে জানিয়েছিল ১৮ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে শুধুমাত্র সুস্থ ব্যক্তিদের শরীরেই টিকার ট্রায়াল হবে। ক্যানসার রোগী ও এইচআইভি রোগীদের টিকা দেওয়া হবে না। পরিবর্তিত গাইডলাইনে মোডার্না জানায় মেসেঞ্জার আরএনএ (রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) সিকুয়েন্সকে কাজে লাগিয়ে তৈরি এমআরএনএ-১২৭৩ ভ্যাকসিন এইচআইভি রোগীদের শরীরেও নিরাপদ। সেফটি ট্রায়ালে সে প্রমাণ মিলেছে। তাই কম ডোজের ইঞ্জেকশন দিয়ে রোগীদের পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।
মোডার্নার তৈরি এমআরএনএ-১২৭৩ ভ্যাকসিনের প্রথম পর্যায়ের ট্রায়ালের রিপোর্ট সামনে এসেছে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিরও আগে। এই টিকাও মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি করেছে বলে খবর। মোডার্নার সিইও স্টিফেন ব্যানসেল জানিয়েছেন, তৃতীয় ও চূড়ান্ত পর্বে টিকার ট্রায়াল শুরু হয়েছে। ৩০ হাজার জনকে টিকা দেওয়া হচ্ছে। এই ট্রায়ালের তত্ত্বাবধানে রয়েছে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ (NIH) ও বায়োমেডিক্যাল অ্যাডভান্সড রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (BARDA) ।
https://twitter.com/moderna_tx/status/1291056643464192001
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকসিয়াস ডিজিজের ডিরেক্টর এবং হোয়াইট হাউসের মুখ্য স্বাস্থ্য উপদেষ্টা এপিডেমোলজিস্ট অ্যান্থনি ফৌজির তত্ত্বাবধানে এমআরএনএ ভ্যাকসিন বানিয়েছে মোডার্না। এই গবেষণায় রয়েছেন এনআইএইচের অধীনস্থ ভ্যাকসিন রিসার্চ সেন্টারের (VRC)বিজ্ঞানীরা। সুইৎজারল্যান্ডের অন্যতম বড় ভ্যাকসিন ও ওষুধ নির্মাতা সংস্থা লোনজ়া গ্রুপ এজির সঙ্গে ১০ বছরের চুক্তিও হয়েছে মোডার্নার। সিইও স্টিফেন জানিয়েছেন, তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালে অনেক বড় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এইচআইভি রোগীদের শরীরে টিকার প্রয়োগ শুরু হয়েছে। এই ট্রায়াল সফল হলে পরবর্তী পরিকল্পনা করা হবে।
বাল্টিমোরের এইডস অ্যাকশন টিমের গ্রুপের ডিরেক্টর লিন্ডা ডে জানিয়েছেন, এইডসের রোগীদের মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেশি। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এমনিতেই কম থাকে। করোনার সংক্রমণ হলে মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছবে। তাই সতর্কতা দরকার। তবে এইচআইভি রোগীদের আলাদা করে কন্ট্রোলড ট্রায়াল হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মোডার্নার তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালে ২৫ মাইক্রোগ্রাম, ১০০ মাইক্রোগ্রাম ও ২৫০ মাইক্রোগ্রাম ডোজে টিকার ইঞ্জেকশন দেওয়া হচ্ছে রোগীদের। তবে এইচআইভি রোগীদের ক্ষেত্রে ডোজ আলাদা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মোডার্না।
কোভিড ভ্যাকসিনের তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল শুরু করতে চলেছে মার্কিন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি ফাইজারও। জার্মান সংস্থা বায়োএনটেকের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে সেপ্টেম্বর থেকে টিকার তৃতীয় স্তরের ট্রায়াল শুরু করবে ফাইজার। তাদের প্রথম পর্যায়ের ট্রায়ালের রিপোর্ট বেশ ভালর দিকেই। ফাইজার জানিয়েছে, মোডার্নার মতোই তাদের তৈরি এমআরএনএ ভ্যাকসিন ৯০% মানুষের শরীরে করোনা-প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি করেছে। তবে ফাইজার টিকার ট্রায়াল গ্রুপ থেকে এইচআইভি ও হেপাটাইটিস বি ও সি আক্রান্ত রোগীদের বাদ রেখেছে। মোডার্নার নতুন পদক্ষেপ থেকে ফাইজার জানিয়েছে, তারাও এইচআইভি রোগীদের শরীরে টিকার ট্রায়াল করে দেখবে। তবে হেপাটাইসিসের রোগীদের এখনই টিকার ট্রায়ালের জন্য বেছে নেওয়া হবে কিনা সেটা জানায়নি ফাইজার।