
শেষ আপডেট: 21 November 2019 18:30
ঘটনা চিনের ঝেজিয়াং প্রদেশের। ৪৩ বছরের ঝু জং ফা-র অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঝেজিয়াং ইউনিভার্সিটির মেডিসিন বিভাগের ডাক্তার ওয়াং জিয়ান জানিয়েছেন, হটপট পর্কের সঙ্গে ফিতাকৃমির ডিম কোনওভাবে রোগীর পেটে চলে যায়। দীর্ঘ একমাসে সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৭০০ ফিতাকৃমির জন্ম হয়েছে রোগীর শরীরে। মস্তিষ্কে শুধু নয়, পাকস্থলী, ফুসফুস, অন্ত্রেও ছড়িয়ে পড়েছে তারা। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ।
ডাক্তার ওয়াং জানিয়েছেন, ‘চেস্ট ক্যাভিটি’ ভরে গেছে ফিতাকৃমিতে। পেশীতে ছড়িয়ে পড়েছে কৃমির লার্ভা। তাই বারে বারেই খিঁচুনি, কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসছে রোগীর। অস্ত্রোপচার করে গোটা শরীর থেকে শয়ে শয়ে ফিতাকৃমি বার করতে হবে। তাতে সময় লাগে কয়েক ঘণ্টা। অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক ড্রাগও দেওয়া হবে রোগীকে। যাতে কৃমির কোনও অংশ শরীরে থেকে গেলে সেটা নষ্ট হয়ে যায়।
এই ফিতাকৃমি টিনিয়া সোলিয়াম। আসলে পর্ক টেপ ওয়ার্ম। যারা শূকরের পেটে থাকে। অনেক সময় গরুর পেটেও পাওয়া যায় এই ধরনের ফিতাকৃমি থাকে বলা হয় টিনিয়া স্যাজিনাটা। ভাল করে রান্না না করে অর্ধ সিদ্ধ শূকর বা গরুর মাংস খেলে সেই কৃমির ডিম বা লার্ভা চলে আসে শরীরে। মানুষের শরীরে একবার ঢুকতে পারলেই তারা বংশবৃদ্ধি করে সংখ্যায় বাড়তে থাকে। শুধু সংখ্যা নয় আকারেও বাড়তে থাকে ফিতাকৃমিরা। টিনিয়াসিসে আক্রান্তদের শরীরে হাজার হাজার ফিতাকৃমির ডিমও দেখা গেছে। টিনিয়াসিসে আক্রান্তদের রক্তাস্পতা, হাইপারটেনশনে ভুগতেও দেখা যায়। সঠিক সময় চিকিৎসা না করালে এই রোগ প্রাণঘাতীও হতে পারে।