
শেষ আপডেট: 14 July 2020 18:30
১৯১৮ সালে প্রথম মহামারীর আতঙ্ক দেখেছিল বিশ্ব। ১৯১৮ সাল থেকে ১৯২০ সালের এপ্রিল অবধি পৃথিবীজুড়ে তাণ্ডব দেখিয়েছিল এইচওয়ানএনওয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা-এ ভাইরাস। মানব ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ও প্রাণঘাতী সেই মহামারীর নাম ছিল ‘স্প্যানিশ ফ্লু’ । পৃথিবীর প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষেরই মৃত্যু হয়েছিল সেই মহামারীতে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফোর্ট রিলে, হাসকেল কাউন্টি, কানসাস, নিউইয়র্কে ইনফ্লুয়েঞ্জা-এ ভাইরাসের প্রকোপ মারাত্মক হয়ে ওঠে। ব্রিটেন, জার্মানি, ফ্রান্সেও ছড়িয়ে পড়েছিল সেই ভাইরাসের সংক্রমণ। ১৯১৮-র সেই মহামারী নিয়ে বই লিখেছিলেন লন্ডন কুইন ম্যারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ওয়েলকাম ট্রাস্টের এক গবেষক মার্ক হনিগসবাউম। সেই বইতে বলা হয়েছিল, স্প্যানিশ ফ্লু-এর প্রথম ধাক্কা এসেছিল আমেরিকাতেই। মনে করা হয় আমেরিকার সেনা ক্যাম্প থেকেই ছড়িয়েছিল ভাইরাস। স্প্যানিশ ফ্লু নামকরণের কারণ হল স্পেনের সংবাদমাধ্যম এই মহামারীর খবর সবিস্তারে সামনে এনেছিল। কারণ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সেই পর্যায়ে মহামারীর খবর তেমনভাবে প্রকাশ্যে আনেনি ব্রিটেন ও জার্মানি।
ফৌজি বলছেন, এইচওয়ানএনওয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা-এ ভাইরাসের সঙ্গে মিল রয়েছে করোনাভাইরাসের। এই ভাইরাসও তেমনভাবেই সংক্রমণ ছড়িয়ে দিতে পারে। মার্কিন এপিডেমোলজিস্ট আগেই বলেছিলেন, জিনের গঠন বিন্যাস বদলে নতুনত্ব আনছে করোনা। যার কারণেই মানুষের শরীরে দ্রুত বিভাজিত হয়ে প্রতিলিপি তৈরির ক্ষমতা বাড়ছে। আরও বেশি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে মারণ ভাইরাস। করোনার প্রথম ভ্যাকসিনেই যে এই ভাইরাসকে পুরোপুরি নির্মূল করা যাবে না সে সম্ভাবনার কথাও বলেছিলেন ফৌজি। কারণ হিসেবে তিনি বলেছিলেন, সার্স-কভ-২ আরএনএ ভাইরাস বারে বারেই জিনের গঠন বদলাচ্ছে (জেনেটিক মিউটেশন)। এর প্রতিটি স্ট্রেন একে অপরের থেকে আলাদা। তাই এই ভাইরাসের উৎসের খোঁজ এখনও মেলেনি। যেসব স্ট্রেন থেকে ভ্যাকসিন বানানো হচ্ছে তার বাইরেও করোনার একাধিক সংক্রামক স্ট্রেন রয়েছে যার সবকটির খোঁজ এখনও মেলেনি। তাই ভ্যাকসিন সাময়িকভাবে একটা পর্যায় অবধি সুরক্ষা দিতে পারবে, অনন্তকাল ধরে এর প্রভাব টিকবে না। ভবিষ্যতে যদি এই ভাইরাস ফের তার চেহারা বদল করে ফিরে আসে, তাহলে তার মোকাবিলা এই ভ্যাকসিনে হবে কিনা সেটা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।