দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকার মোডার্না বায়োটেকনোলজি, ব্রিটেনের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির পরে এবার মানুষের শরীরে কোভিড ভ্যাকসিনের ট্রায়াল শুরু করল ইম্পিরিয়াল কলেজ অব লন্ডন। পশ্চিম লন্ডনের একটি ক্লিনিকাল সেন্টারে ভ্যাকসিনের ট্রায়াল শুরু হয়েছে। কম ডোজে ভ্যাকসিন ইনজেক্ট করা হয়েছে একজনের শরীরে।
আরএনএ টেকনোলজিতে (রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড)তৈরি হয়েছে এই ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট। বিশেষত
সেল্ফ-অ্যাম্পলিফাইং আরএনএ (saRNA) টেকনোলজি ব্যবহার করে এই ভ্যাকসিন বানিয়েছে ইম্পিরিয়াল কলেজের মিউকোসাল ইনফেকশন ও ইমিউনিটি বিভাগের প্রধান
অধ্যাপক রবিন শ্যাটকের টিম। ভ্যাকসিন ট্রয়ালের দায়িত্বে থাকা ইম্পিরিয়াল কলেজের ইনফেকসিয়াস ডিজিজ বিভাগের চিফ ইনভেস্টিগেটর
ডক্টর ক্যাটরিনা পোলক বলেছেন, হিউম্যান ট্রায়ালের আগে সেফটি ক্লিনিকাল ট্রায়াল করা হয়েছিল। প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে ল্যাবরেটরিতে পশুদের উপর এই ভ্যাকসিনের ট্রায়ালে সুফল দেখা যায়। সেল্ফ-অ্যাম্পলিফাইং টেকনোলজিতে তৈরি এই ভ্যাকসিন সম্পূর্ণ নিরাপদ ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই দেখেই মানুষের শরীরে প্রয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
[caption id="attachment_232865" align="alignnone" width="800"]
ডক্টর ক্যাটরিনা পোলক[/caption]
সেল্ফ-অ্যাম্পলিফাইং টেকনোলজিতে কীভাবে তৈরি হয়েছে এই ভ্যাকসিন?
গবেষক রবিন শ্যাটক বলেছেন, মোডার্না বায়োটেকনোলজিও আরএনএ টেকনোলজিতে ভ্যাকসিন তৈরি করেছে, তবে ইম্পিরিয়ালের ভ্যাকসিন গবেষণা তাদের থেকে একটু আলাদা। সেল্ফ অ্যাম্পলিফাইং আরএনএ টেকনোলজির কাজ হল শরীরের মধ্যেই ভাইরাসের প্রোটিনের অনুরূপ প্রোটিন তৈরি করা যাতে তার প্রতিরোধে শরীর অ্যান্টিবডি তৈরি করতে পারে। RepRNA কে বলা হয় সেল্ফ অ্যাম্পলিফাইং মেসেঞ্জার আরএনএ। ভাইরাসের জিনোম থেকে নেওয়া প্রোটিন বিশেষ উপায় পিউরিফাই করে এমনভাবে ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট তৈরি হয় যা শরীরে ঢুকে নিজে থেকেই ট্রান্সলেট হয়ে প্রতিলিপি তৈরি করতে পারে। ঠিক যে ভাবে সার্স-কভ-২ ভাইরাস প্রতিলিপি তৈরি করে কোষে ছড়িয়ে পড়ে, ল্যাবরেটরিতে তৈরি ভাইরাল প্রোটিন ঠিক সেভাবেই প্রতিলিপি তৈরি করতে পারে। তবে এই প্রোটিন অতটা সংক্রামক নয়। কারণ আগে থেকেই বৈজ্ঞানিক উপায় তার সংক্রামক ক্ষমতাকে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়। এর কাজ হল দেহকোষের বি-কোষকে জাগিয়ে তোলা। যাতে ভাইরাল অ্যান্টিজেনের খোঁজ পেয়েই বি লিম্ফোসাইট কোষ বিভাজিত হয়ে তাদের অসংখ্য ক্লোন তৈরি করতে পারে এবং রক্তরসে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিবডি তৈরি করতে পারে।
[caption id="attachment_232867" align="alignnone" width="1181"]
অধ্যাপক রবিন শ্যাটক[/caption]
কীভাবে চলছে ভ্যাকসিনের ট্রায়াল?
ডক্টর ক্যাটরিনা পোলক বলেছে প্রথম ট্রায়ালে কম ডোজে ভ্যাকসিন ইনজেক্ট করা হয়েছে। যে ব্যক্তিকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে তাকে আগামী চার সপ্তাহ পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। পরবর্তী পর্যায়ে ডোজের মাত্রা সামান্য বাড়িয়ে আরও ৩০ জনকে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। এই ট্রায়ালের রিপোর্ট সন্তোষজনক হলে সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে ৩০০ জনের শরীরে ভ্যাকসিন ইনজেক্ট করা হবে।
ইম্পিরিয়াল কলেজ জানিয়েছে, অক্টোবরে এই ভ্যাকসিন ট্রায়ালের বৃহত্তর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। হিউম্যান ট্রায়ালের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই কোটি কোটি ভ্যাকসিনের ডোজ তৈরি হবে। বিশ্ব বাজারে ওই টিকা পৌঁছে দিতে ভ্যাকইকুইটি গ্লোবাল হেলথ (VGH)নামে একটি কোম্পানিও খুলেছে ইম্পিরিয়াল কলেজ। এই উদ্যোগে তাদের পাশে রয়েছে লাইফ সায়েন্স ইনভেস্টর হংকংয়ের মর্নিংসাইড। ইম্পিরিয়াল ও মর্নিংসাইড যৌথ উদ্যোগে আরও একটি স্টার্টআপ কোম্পানি খুলেছে যার নাম ভ্যাক্সইকুইটি (VXT) । ভিজিএইচ ও ভিএক্সটি-র সাহায্যে সারা বিশ্বেই কোভিড ভ্যাকসিন ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ইম্পিরিয়াল কলেজ।