
শেষ আপডেট: 2 July 2020 18:30
করোনার জিনোম ট্রেসিং[/caption]
ফৌজি বলছেন, মনে করা হচ্ছে করোনার জিনের সিঙ্গল অ্যামাইনো অ্যাসিড কোড বদলাচ্ছে। জিনের একটা রিডিং ফ্রেম থাকে, তাতে তিনটে বেস থাকে। প্রতি বেসে একটি করে অ্যামাইনো অ্যাসিডের কোড থাকে। ফৌজি বলছেন, হতেই পারে এই অ্যামাইনো অ্যাসিডের কোড গুলো বদলে দিচ্ছে ভাইরাস। এতে তার লাভ হল, কোড বদলে গেলে সে আবার নতুন করে জিনের গঠন সাজিয়ে নিতে পারব। তার চেহারাও বদলে যাবে। হিউম্যান ট্রান্সমিশন বা এক মানুষের শরীর থেকে অন্য মানুষের শরীরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে হলে এই বদলটা দরকার। কারণ, একজনের শরীরে অসংখ্য প্রতিলিপি তৈরি করার পরে ভাইরাল স্ট্রেন দুর্বল হতে থাকে। তাই জিনের গঠন বিন্যাস না বদলালে তার অন্য শরীরে ঢুকে নতুন করে প্রতিলিপি তৈরির ক্ষমতা থাকে না। এই বিষয়ে ইউনিভার্সিটি কলেজ অব লন্ডনের ভাইরোলজিস্টরা বলছিলেন, একসঙ্গে ২০০ বার জিনের গঠন বদলাতে দেখা গেছে এই ভাইরাসকে। প্রতিটা বদলেই সে হয়ে উঠেছে আরও সংক্রামক। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বদলে যাওয়া ভাইরাল জিনোমগুলি যদি পরপর বিশ্লেষণ করা হয়, তাহলে তার তল খুঁজে পাওয়া যাবে না। একেবারে শুরুতে সে কেমন ছিল, তখন তার মতিগতিও বা কেমন ছিল, কিছুই বোঝা যাবে না।
এই বদলের আরও একটা কারণ হল, মানুষের শরীরের নানা অঙ্গে সংক্রমণ ছড়ানো। ভাইরোলজিস্টরা বলেন, যে ভাইরাল স্ট্রেন ফুসফুসে ঢুকতে পারবে, সে চট করে লিভার বা হার্টের কোষে ঢুকতে পারবে না। শুরুতে তাই দেখা যাচ্ছিল সার্স-কভ-২ ভাইরাস ফুসফুসের সংক্রমণই বেশি ঘটাচ্ছে। ‘সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটারি সিন্ড্রোম’-এ আক্রান্ত হচ্ছে রোগী। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে ফুসফুস শুধু নয়, লিভার, হার্ট, কিডনি, খাদ্যনালী এমনকি অন্ত্রেও করোনার সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। আর এটা সম্ভব হচ্ছে জিনের গঠন বদলের কারণে। নতুন ভাইরাল স্ট্রেন মানব শরীরের প্রায় সব অঙ্গেরই রিসেপটর প্রোটিন চিনে নিতে পারছে। কাজেই কোষে ঢোকার রাস্তাটাও সহজ হয়ে যাচ্ছে তার কাছে। হৃদপেশীতে ঢুকে পড়লে আচমকা হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে, আবার লিভার, পাকস্থলীতে বাসা বাঁধলে রোগের ধরনে বদল আসছে। কোথাও আবার রক্ত জমাট বাঁধতে দেখা যাচ্ছে। রোগীর শরীরেও নতুন নতুন উপসর্গ দেখা যাচ্ছে।