Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ইরানের সব পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে‌ দেওয়া হয়েছে, দাবি আমেরিকার, চিন্তা ইরানি ল্যান্ডমাইনও Poila Baisakh: দক্ষিণেশ্বর থেকে কালীঘাট, নববর্ষে অগণিত ভক্তের ভিড়, পুজো দিতে লম্বা লাইনপয়লা বৈশাখেই কালবৈশাখীর দুর্যোগ! মাটি হতে পারে বেরনোর প্ল্যান, কোন কোন জেলায় বৃষ্টির পূর্বাভাসমেয়েকে শ্বাসরোধ করে মেরে আত্মঘাতী মহিলা! বেঙ্গালুরুর ফ্ল্যাটে জোড়া মৃত্যু ঘিরে ঘনীভূত রহস্য UCL: চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ চারে পিএসজি-আতলেতিকো, ছিটকে গেল বার্সা-লিভারপুল‘ইরানকে বিশ্বাস নেই’, যুদ্ধবিরতির মাঝে বিস্ফোরক জেডি ভ্যান্স! তবে কি ভেস্তে যাবে শান্তি আলোচনা?১৮০ নাবালিকাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে শোষণ! মোবাইলে মিলল ৩৫০ অশ্লীল ভিডিও, ধৃতের রয়েছে রাজনৈতিক যোগ ৩৩ বছর পর মুখোমুখি ইজরায়েল-লেবানন! ওয়াশিংটনের বৈঠকে কি মিলবে যুদ্ধবিরতির সমাধান?ইউরোপের আদালতে ‘গোপনীয়তা’ কবচ পেলেন নীরব মোদী, জটিল হচ্ছে পলাতক ব্যবসায়ীর প্রত্যর্পণ-লড়াইইরানের সঙ্গে সংঘাত এবার শেষের পথে? ইঙ্গিত ভ্যান্সের কথায়, দ্বিতীয় বৈঠকের আগে বড় দাবি ট্রাম্পেরও

চিনে বিউবনিক প্লেগের আতঙ্ক! করোনার পরে নতুন মহামারীর আশঙ্কা, জারি চূড়ান্ত সতর্কতা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: একের পর এক মহামারীর আতঙ্ক চিনে। করোনার পরে নতুন সোয়াইন ফ্লুয়ের আশঙ্কায় জেরবার চিন। এইচওয়ানএনওয়ান ভাইরাসের নতুন সংক্রামক স্ট্রেন ‘জি৪’ খুঁজে পেয়েছেন চিনের বিজ্ঞানীরা। মানুষের শরীরেও এই নতুন ভাইরাল স্ট্রেন প্রতিলিপি তৈরি করে

চিনে বিউবনিক প্লেগের আতঙ্ক! করোনার পরে নতুন মহামারীর আশঙ্কা, জারি চূড়ান্ত সতর্কতা

শেষ আপডেট: 5 July 2020 18:30

দ্য ওয়াল ব্যুরো: একের পর এক মহামারীর আতঙ্ক চিনে। করোনার পরে নতুন সোয়াইন ফ্লুয়ের আশঙ্কায় জেরবার চিন। এইচওয়ানএনওয়ান ভাইরাসের নতুন সংক্রামক স্ট্রেন ‘জি৪’ খুঁজে পেয়েছেন চিনের বিজ্ঞানীরা। মানুষের শরীরেও এই নতুন ভাইরাল স্ট্রেন প্রতিলিপি তৈরি করে ছড়াতে পারে বলেই ধারণা। শুয়োরের লালারসের নমুনা সংগ্রহ করে জি৪ ভাইরাল স্ট্রেনের খোঁজ চলছে হন্যে হয়ে। এরই মাঝে নতুন উপদ্রব। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে খবর ছড়িয়েছে, নতুন করে বিউবনিক প্লেগের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে মঙ্গোলিয়া এলাকায়। দু’জন এই প্লেগ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। লেভেল-৩ পর্যায়ের সতর্কতা জারি হয়েছে মঙ্গোলিয়ায়। মহামারী যাতে ছড়িয়ে না পড়ে সে জন্য চিনের অন্যান্য প্রদেশেও চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করা হচ্ছে। জিনহুয়া সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গোলিয়ার বায়ান্নুর এলাকায় বছর সাতাশের এক যুবক সংক্রমণজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। যে ধরনের উপসর্গ দেখা দিয়েছে তার সঙ্গে বিউবনিক প্লেগের উপসর্গের মিল রয়েছে। রোগীর শারীরিক জটিলতাও সে দিকেই ইঙ্গিত করছে। যদিও এই ব্যাপারে সুনিশ্চিত তথ্য এখনও মেলেনি। ওই যুবকের ভাইও একইরকম সংক্রমণে আক্রান্ত। তাঁর শরীরেও বিউবনিক প্লেগের মতোই উপসর্গ দেখা গেছে। বায়ান্নুরের দুটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে তাঁদের। ওই যুবক ও তাঁর ভাইয়ের সংস্পর্শে আসা ১৪৬ জনকে চিহ্নিত করে তাঁদের ভর্তি করা হয়েছে স্থানীয় হাসপাতালে। প্রত্যেকের থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরি টেস্টের জন্য পাঠানো হয়েছে।  

বিউবনিক প্লেগ কী?

কোভিড-১৯ যেমন আরএনএ ভাইরাস (সার্স-কভ-২) ঘটিত সংক্রমণ, বিউবনিক প্লেগ হল ব্যাকটেরিয়া ঘটিত সংক্রমণ। ইয়ারসিনিয়া পেস্টিস (Yersinia pestis) নামে একধরনের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে এই রোগ হয়। ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের অন্তত সাতদিন পরে জ্বর, সর্দি-কাশি, পেট খারাপ-বমির মতো উপসর্গ দেখা দিতে থাকে। ত্বকের যেখান দিয়ে ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করে সেখানকার লসিকাগ্রন্থি ফুলে ফেটে যায়। জ্বালাপোড়ার মতো ব্যথা শুরু হয়। এই জাতীয় সংক্রামক রোগ ছড়ায় মূলত ইঁদুর বা ওই জাতীয় প্রাণীর থেকে। মধ্যবর্তী বাহক হল মাছি। প্রাণীর মৃতদেহ, মল-মূত্র থেকে মাছি বাহিত হয়ে এই ব্যাকটেরিয়া মানুষের শরীরে ছড়াতে পারে। করোনার মতো বিউবনিক প্লেগও ছোঁয়াচে। এই সংক্রমণের হিউম্যান ট্রান্সমিশন (Human Transmission) সম্ভব। অর্থাৎ এক শরীর থেকে অন্য শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে ব্যাকটেরিয়া। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-এর সংক্রামক রোগ বিষয়ক গাইডলাইনে রয়েছে, তিন ধরনের প্লেগ মহামারীর আকার নিতে পারে--সেপটিসেমিক প্লেগ (Septicemic Plague), নিউমোনিক প্লেগ (Pneumonic Plague) ও বিউবনিক প্লেগ (Bubonic Plague)। যার মধ্যে বিউবনিক প্লেগ ছড়াতে পারে ছোট প্রাণীদের থেকেই। আর চিনের বাজারে ইঁদুর বা রডেন্ট জাতীয় প্রাণীর কাঁচা মাংস দেদাড় বিক্রি হয়। ইঁদুর খাওয়ার অভ্যাসও রয়েছে চিনের বাসিন্দাদের। যে দু’জন বিউবনিক প্লেগে আক্রান্ত হয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, তাঁরাও রোগ ধরা পড়ার কয়েকদিন আগে ইঁদুরের মাংসই খেয়েছিলেন। চতুর্দশ শতকে এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকায় যে প্লেগ মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়েছিল সেটা বিউবনিক প্লেগ ছিল বলেই মনে করা হয়। মৃত্যু হয়েছিল প্রায় পাঁচ কোটি মানুষের। এই প্লেগকে ‘ব্ল্যাক ডেথ’  বলা হয়। হু-র বিশেষজ্ঞরা বলেন, সংক্রমণের চিকিৎসা সঠিক সময় শুরু না হলে রোগীর মৃত্যুও ঘটতে পারে। সংক্রমণ যদি বেশিমাত্রায় ছড়িয়ে পড়ে তাহলে খিঁচুনি, পেশীর সংকোচন এমনকি রক্তবমিও (Hematemesis) হতে পারে। রোগ কতটা ছড়িয়েছে তার উপর নির্ভর করে এক সপ্তাহ থেকে দশদিনের মধ্যে প্লেগ আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হতে পারে। এই প্লেগ প্রতিরোধের কোনও কার্যকরী টিকা নেই। চিকিৎসার শুরুতে রোগীকে স্ট্রেপটোমাইসিন, জেনটামাইসিন, ডক্সিসাইক্লিন জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। [caption id="attachment_236916" align="aligncenter" width="591"] জি৪ ইএ এইচ১এন১[/caption] কিছুদিন আগেই চিনের কয়েকটি ইউনিভার্সিটি ও চাইনিজ সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানিয়েছিল, নতুন রকম সোয়াইন ফ্লু ভাইরাল স্ট্রেন জি৪ এর খোঁজ পাওয়া গেছে চিনের কয়েকটি প্রদেশে। এই স্ট্রেন পরিচিত  এইচ১এন১ (H1N1) সোয়াইন ফ্লু ভাইরাসের স্ট্রেনের মতোই তবে কিছুটা আলাদা। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এইচ১এন১ স্ট্রেনই জিনের গঠন বদলে নতুন রূপে ফিরে এসেছে। এই ভাইরাল স্ট্রেনের বাহক শুয়োর। যদিও মানুষের শরীরে এই ভাইরাল স্ট্রেন ছড়িয়েছে কিনা তার খোঁজ এখনও মেলেনি।

```