
শেষ আপডেট: 21 November 2019 18:30
প্রাথমিকভাবে বানদুংয়ের ১০টি স্কুলে প্রায় ২০০০ মুরগির ছানা ও ১৫০০ লঙ্কা গাছের বীজ বিলি করেছেন সরকারি আধিকারিকরা। মেয়র ওডেড এম ড্যানিয়েল বলেছেন, ‘‘মাত্র এক সপ্তাহে অবিশ্বাস্য ফল পাওয়া গেছে। দেখা গেছে পোষ্যদের সামলাতে শিশুরা এতটাই ব্যস্ত যে মোবাইলে গেম খেলা ভুলে গেছে। টিভি দেখার বদলে বদলে মুরগির ছানার লালন পালনেই বেশি সময় দিচ্ছে তারা।’’ সরকারি উদ্যোগে খুশি অভিভাবকরাও। তাঁদের অনেকেই বলেছেন, শিশুদের পড়াশোনাতেও উন্নতি হয়েছে। ইন্টারনেটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটানোর বদলে তারা এখন পরিবেশ, প্রকৃতির সান্নিধ্য বেশি পছন্দ করছে। ঠিক সময় ঘুম থেকে উঠে পোষ্যের দেখভাল করে। পড়াশোনা, খাওয়া, ঘুমও সময় ধরে করছে। টিভিতে কার্টুন দেখাও ভুলে গেছে অনেক শিশু। পরীক্ষামূলকভাবে বানদুং-এ শুরু হয়েছিল এই 'চিকেনাইজেশন প্রোগ্রাম'। এখন গোটা ইন্দোনেশিয়ায় এই কর্মসূচি চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
গ্লোবাল ডিজিটাল রিপোর্ট ২০১৯ মাফিক ইন্দোনেশিয়ায় ইন্টারনেট ব্যবহারকীরার প্রতিদিন ৮ ঘণ্টারও বেশি সময় নেট সার্ফিং, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ-সহ সোশ্যাল মিডিয়ায় কাটিয়ে দেন। এদের মধ্যে স্কুল, কলেজ পড়ুয়াদের সংখ্যা সিংহভাগ। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, ইন্টারনেট বা সোশ্যাল সাইটে অতিরিক্ত আসক্তি আসলে একটা রোগ। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলে Internet Addiction Disorder। বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩১০ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। যার মধ্যে প্রায় ২১০ কোটিরও বেশি ইন্টারনেট অ্যাডিকশন ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত।
আমাদের দেশে ন্যাশনাল মেন্টাল হেলথ সার্ভের রিপোর্ট বলছে, ১৮ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে থাকা ছেলেমেয়েদের মানসিক ভাবে অবসাদগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা ৭.৩৯ শতাংশ বেড়েছে। অতিরিক্ত ইন্টারনেটে মজে থাকার জন্য দেশের যুব সম্প্রদায়ের ২০ থেকে ২৫ শতাংশই কোনও না কোনও ভাবে মানসিক বৈকল্যের শিকার হয়ে পড়ছেন।
ইন্দোনেশিয়া পেরেছে, আমরা কবে পারব সেটাই লাখ টাকার প্রশ্ন।
আরও পড়ুন:
https://www.four.suk.1wp.in/lifestyle-health-how-to-children-from-the-ill-effects-of-the-internet-2019/