সম্প্রতি কৃষ্ণনগরের একটি সভা থেকে মহুয়াকে বলতে শোনা যায়, “সারা বছর তৃণমূল, আর ভোটের সময় সনাতনী! এটা কী অঙ্ক ভাই?” এখানেই না থেমে তিনি বলেন, “কাঠের মালা পরে সব তো চলে আসেন ভাই ভাতা নিতে! তখন কী হয়?”
.jpeg.webp)
মহুয়া মৈত্র ও মমতাবালা ঠাকুর।
শেষ আপডেট: 4 September 2025 20:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের বিতর্কের কেন্দ্রে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। মতুয়া সমাজ (Matua) নিয়ে তাঁর একটি মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই উত্তাল রাজনীতি। ঠাকুরবাড়ির দুই বিবদমান পক্ষ একযোগে মুখ খুলেছে মহুয়ার বিরুদ্ধে। এবার সেই তালিকায় নাম লেখালেন তৃণমূলেরই আর এক সাংসদ মমতাবালা ঠাকুরের অনুগামীরা (Mamata Bala Thakur's followers)।
বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) লেখা এক খোলা চিঠিতে (Letter to Chief Miniter) ‘অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘ’-এর সাধারণ সম্পাদক সুকেশচন্দ্র চৌধুরী অভিযোগ করেন, মহুয়ার মন্তব্য মতুয়া ও নমঃশূদ্র সমাজের ধর্মীয় অনুভূতি ও আত্মসম্মানে আঘাত করেছে। চিঠিতে দাবি, ‘‘আচারমালা’’ নিয়ে কটাক্ষ করে মহুয়া ‘কাঠের মালা’ বলে যা বলেছেন, তা ঘোরতর অবমাননাকর।
চিঠির সঙ্গে রয়েছে মমতাবালা ঠাকুরের নামও, ‘সঙ্ঘাধিপতি’ হিসাবে। যদিও সাংসদ মমতাবালা নিজে সরাসরি মুখ খুলতে চাননি মহুয়ার বিরুদ্ধে। তাঁর বক্তব্য, ‘‘এটা ধর্মীয় সংক্রান্ত বিষয়। সাংসদ হিসেবে সেখানে আমি সরাসরি হস্তক্ষেপ করিনি। সংগঠন থেকে যা বলার বলা হয়েছে।’’
তবে তিনি স্বীকার করেছেন, চিঠি লেখার সিদ্ধান্ত তাঁর অনুমোদিত। মুখ্যমন্ত্রীকে না বলে সরাসরি মহুয়ার সঙ্গে কথা না বলার বিষয়ে তাঁর জবাব, ‘‘যিনি এই ধরনের মন্তব্য করতে পারেন, তাঁর সঙ্গে আমার কোনও কথা বলার ইচ্ছেই নেই।’’
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি কৃষ্ণনগরের একটি সভা থেকে মহুয়াকে বলতে শোনা যায়, “সারা বছর তৃণমূল, আর ভোটের সময় সনাতনী! এটা কী অঙ্ক ভাই?” এখানেই না থেমে তিনি বলেন, “কাঠের মালা পরে সব তো চলে আসেন ভাই ভাতা নিতে! তখন কী হয়?”
এই মন্তব্য ছড়িয়ে পড়তেই, মতুয়া সমাজে প্রবল ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঠাকুরবাড়ির বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর তীব্র নিন্দা করেন মহুয়ার।
তৃণমূলের অন্দরে অবশ্য মহুয়ার মন্তব্য নিয়ে বরাবরই অস্বস্তি ছিল। আগেও তাঁর মা কালী বিষয়ক মন্তব্যে দলকে অস্বস্তিতে ফেলেছিলেন। তখন দল কৌশলে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছিল।
তবে এ বার মমতাবালার অনুগামীদের সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা চিঠি বিষয়টিকে নতুন মাত্রা দিল বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।