দ্য ওয়াল ব্যুরো : পরিযায়ী শ্রমিক ও অন্যান্য গরিব মানুষের দুঃখ-দুর্দশার কথা শুনতেই পাচ্ছে না সরকার। মনে হচ্ছে সরকার বোবা-কালা হয়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় শুরু বিবৃতি দিয়ে লাভ হবে না। বিরোধী দলগুলির পথে নামা উচিত। নিজের প্রাক্তন দল বিজেপির সরকারের বিরুদ্ধে এভাবে বিরোধীদের আন্দোলনে নামার আহ্বান জানালেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী যশবন্ত সিনহা। শনিবার তিনি টুইট করে বলেন, “পিটিশন দিয়ে আর স্টেটমেন্টবাজি করে আর্থিকভাবে দুর্বল শ্রেণিগুলির কোনও উপকার করা যাবে না।”
https://twitter.com/YashwantSinha/status/1264095502376697857
শুক্রবার কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী ২২ টি বিরোধী দলের সঙ্গে ভারচুয়াল মিটিং করেন। সরকার কীভাবে করোনা অতিমহামারী ও পরিযায়ী শ্রমিকদের সমস্যার মোকাবিলা করছে, তা নিয়ে আলোচনা হয়। এর পরেই নরেন্দ্র মোদী সরকারের কঠোর সমালোচক যশবন্ত বলেন, “বিরোধী দলগুলির উচিত পথে নামা। এই সরকার গরিবদের দুঃখকষ্ট দেখতে পায় না। তাদের কথা শুনতেও পায় না। এই অবস্থায় শুধু বিবৃতি দিয়ে কাজ হবে না।”
গত সপ্তাহে যশবন্ত দাবি তোলেন, পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরানোর জন্য সশস্ত্র বাহিনীর সাহায্য নেওয়া হোক। এই দাবিতে তিনি রাজঘাটে ধরনায় বসেন। দিল্লি পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে।
পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরানোর জন্য সরকার ইতিমধ্যে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে। তা নিয়ে উঠেছে অভিযোগ। শ্রমিকরা বলছেন, ট্রেনে দেওয়া হচ্ছে পচা খাবার। কামরার অবস্থাও খুব খারাপ। সবচেয়ে বড় কথা, ট্রেন চলছে খুব ধীর গতিতে। মাঝে মাঝেই দাঁড়িয়ে থাকছে। কখন গন্তব্যে পৌঁছবে জানা যাচ্ছে না।
অন্ধ্রের বিশাখাপত্তনম থেকে বিহারগামী একটি ট্রেনকে দীনদয়াল উপাধ্যায় রেলওয়ে জংশনে ১০ ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। বিহারী শ্রমিকরা ট্রেন থেকে নেমে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। ধীরেন রাই নামে এক পরিযায়ী শ্রমিক বলেন, শুক্রবার রাত ১১ টার সময় ট্রেন দীনদয়াল উপাধ্যায় স্টেশনে পৌঁছায়। আমরা গত দু’দিন খাবার পাইনি। ট্রেনে ওঠার জন্য প্রত্যেককে ১৫০০ টাকা করে দিতে হয়েছে।
অপর একটি ট্রেন মহারাষ্ট্রের পানভেল থেকে উত্তরপ্রদেশের জৌনপুরে ফিরছিল। বারাণসীর কাছে সেই ট্রেনটিকেও ১০ ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। গভীর রাতে তোলা ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, পরিযায়ী শ্রমিকরা লাইনে বসে আছেন। অন্য ট্রেন আসা সত্ত্বেও তাঁরা উঠতে চাইছেন না। পরে পুলিশ এসে তাঁদের তুলে দেয়। তাঁদের খাবার দেওয়া হয়। পরে ট্রেনটি ফের জৌনপুরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।
ট্রেনের যাত্রী গোবিন্দ কুমার রাজভর বলেন, “মহারাষ্ট্রে আমরা খাবার পেয়েছি। কিন্তু উত্তরপ্রদেশে কিছু পাইনি। বারাণসীতে প্রথমে ট্রেনটি সাত ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল। পরে ট্রেন চলতে শুরু করে। কিছুক্ষণ গিয়ে আবার দাঁড়িয়ে থাকে দু’ঘণ্টা। আবার চালু হয়ে কিছুক্ষণ পরে থেমে যায়।”
শুক্রবার সন্ধ্যায় পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে একটি ট্রেন গুজরাত থেকে ফিরছিল বিহারে। উত্তরপ্রদেশের কানপুর জংশনে শ্রমিকদের খাবার দেওয়া হয়েছিল। স্টেশনেই তাঁরা খাবার ফেলে দেন। অভিযোগ, তাঁদের পচা খাবার দেওয়া হয়েছে। কানপুর স্টেশনে তোলা ভিডিও চিত্রে দেখা গিয়েছে, উত্তেজিত শ্রমিকরা রেলের নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে তর্ক করছেন। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘ যাত্রাপথে পানীয় জল পাননি। শৌচাগারেও জল ছিল না। যে খাবার দেওয়া হয়েছিল, তা সম্ভবত রান্না করা হয়েছে চার-পাঁচদিন আগে।