মূল মন্দিরের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য তৈরি হবে প্রসাদ বিতরণ কেন্দ্র, স্যুভেনির আর্কেড, ক্যাফেটেরিয়া, ডালা কমপ্লেক্স এবং পুরোহিতদের থাকার জন্য আলাদা আবাসন ব্যবস্থা।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 16 January 2026 19:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার শিলিগুড়িতে (Siliguri) প্রস্তাবিত মহাকাল মন্দিরের (Mahakal Temple) শিলান্যাস হতেই নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে এই মন্দির ঘিরে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) নিজেই অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে জানিয়েছেন, মাটিগাড়া-লক্ষ্মী টাউনশিপ এলাকায় গড়ে উঠতে চলা এই মন্দিরের নাম হবে - ‘মহাকাল মহাতীর্থ মন্দির’ (Mahakal Mahatirtha Mandir)।
মোট ১৭.৪১ একর জমির ওপর নির্মিত এই মন্দির চত্বরকে ঘিরে যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তা অনুযায়ী এটি হবে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম মহাকাল মন্দির (World's Highest Mahakal Temple), দাবি মুখ্যমন্ত্রীর। দৈনিক প্রায় এক লক্ষ দর্শনার্থী একসঙ্গে মন্দির প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে।
চার কোণে চার দেবতা
মুখ্যমন্ত্রী জানান, শিবালয়ের প্রাচীন রীতি মেনেই মন্দির চত্বরের চার কোণে চার দেবতার অবস্থান থাকবে। দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে থাকবেন গণেশ, উত্তর-পশ্চিমে কার্তিক, উত্তর-পূর্বে শক্তি এবং দক্ষিণ-পূর্বে থাকবেন বিষ্ণুনারায়ণ।
মূল মন্দিরের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য তৈরি হবে প্রসাদ বিতরণ কেন্দ্র, স্যুভেনির আর্কেড, ক্যাফেটেরিয়া, ডালা কমপ্লেক্স এবং পুরোহিতদের থাকার জন্য আলাদা আবাসন ব্যবস্থা।
২১৬ ফুটের মহাকাল মূর্তি
এই মহাকাল মন্দির প্রকল্পের অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে বিশ্বের উচ্চতম মহাকাল মূর্তি। মোট উচ্চতা হবে ২১৬ ফুট। এর মধ্যে ১০৮ ফুট উচ্চতার ব্রোঞ্জের মহাকাল মূর্তি এবং ১০৮ ফুট উচ্চতার প্যাডেস্টাল বা ভিত। এই ১০৮ ফুটের প্যাডেস্টাল ব্লকের মধ্যেই থাকবে দুটি নন্দীগৃহ, যা পূর্ব ও পশ্চিম দিকে অবস্থান করবে।
জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে সংস্কৃতি হল
মন্দির চত্বরের সীমানা বরাবর তৈরি হবে ১২টি অভিষেক লিঙ্গ মন্দির। পাশাপাশি ভারতের ১২টি জ্যোতির্লিঙ্গের প্রতিরূপ স্থাপন করা হবে। দর্শনার্থীদের জন্য থাকবে একটি মিউজিয়াম ও সংস্কৃতি হল, যেখানে মহাকাল ও শৈব সংস্কৃতির ইতিহাস তুলে ধরা হবে।
এছাড়াও থাকছে দুটি পৃথক প্রদক্ষিণ পথ, যেখানে একসঙ্গে প্রায় ১০ হাজার ভক্ত চলাচল করতে পারবেন। দুই পাশে দুটি সভামণ্ডপ, যেখানে একসঙ্গে ৬ হাজারের বেশি মানুষ বসতে পারবেন।
দিঘার জগন্নাথ মন্দির ও নিউটাউনের দুর্গা অঙ্গনের পর, উত্তরবঙ্গেও বড় আকারের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিকাঠামো গড়ে তুলতে চলেছে রাজ্য সরকার। প্রশাসনিক সূত্রের মতে, শিলিগুড়ির এই মহাকাল মহাতীর্থ মন্দির সেই বৃহত্তর পরিকল্পনারই গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সব মিলিয়ে, শুধু একটি মন্দির নয় - শিলিগুড়ির মহাকাল মহাতীর্থকে ঘিরে গড়ে উঠতে চলেছে এক বিশাল ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও পর্যটন কেন্দ্র, যা আগামী দিনে উত্তরবঙ্গের মানচিত্রে আলাদা গুরুত্ব পাবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।