
শেষ আপডেট: 25 June 2022 11:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার সকাল থেকেই তাঁকে নিয়ে তোলপাড় কাণ্ড। মল্লিকবাজারের ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেস কলকাতার (INK) ৮ তলার কার্নিশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন অনেকেই। শোরগোল পড়ে যায় তাঁকে নিয়ে। উদ্ধার করতে আসে দমকল। কিন্তু ঝাঁপ দেওয়ার ভয় দেখাচ্ছিলেন তিনি। এক সময় ওই কার্নিশ থেকেই ঝাঁপ দেন তিনি। আই এনকে-র উঠোনে পড়ে যান। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক (Critical)। মাথায়, বুকে, পায়ে চোট লেগেছে বলে জানায় আইএনকে কর্তৃপক্ষ।
শনিবার সকালে সকাল থেকে ওই রোগীকে নিয়ে তোলপাড় পড়ে গেছে মল্লিকবাজারে (Kolkata)। সুজিত অধিকারী নামে ওই রোগী হাসপাতালের আট তলার কার্নিশ থেকে ঝাঁপ দেওয়ার ঘটনায় উঠেছে নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন। এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিল, নিরাপত্তার গাফিলতি যে হয়েছে তা বলা যায় না। তবে সব ঘটনা থেকেই শিক্ষা নিতে হয়। কীভাবে সুজিত অধিকারী এই কাণ্ড ঘটাল তা অবশ্যই তদন্ত করে দেখা হবে। তারপর সেইমত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এখন কেমন আছেন ওই রোগী? হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, আগের থেকে অবস্থা আরও সঙ্কটজনক। তবে চিকিৎসা চলছে। বর্তমানে তাঁকে ভ্যান্টিলেশনে রাখা হয়েছে। মাথায়, বুকে ও পায়ে গুরুতর চোট পেয়েছেন।
কীভাবে সকলের চোখের আড়ালে এমন কাণ্ড ঘটালেন তিনি? হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমান, বেড স্ক্রু দিয়ে ভোল্ট কেটে জালনা দিয়ে বেরিয়ে পড়েন তিনি। সকাল ১১ টা নাগাদ এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন তিনি। তবে নজরদারি কি ছিল না? কর্তৃপক্ষের তরফে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে যে, সবসময় নার্সিং স্টাফ থাকেন না, সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই জালনা খুলে বেরিয়ে পড়েছিলেন তিনি।
কিন্তু কেন এমন কাণ্ড ঘটালেন সেই ব্যাপারে স্পষ্ট কোনও ধারণা নেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। এমনকি কার্নিশে দাঁড়িয়ে মিডিয়া ও পুলিশ ডাকার কথা কেন বলেছিলেন তাও জানা যায়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, আজই ছুটি দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। এই ঘটনা ঘটার আগে পর্যন্ত সুস্থই ছিলেন তিনি। এমনকি পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে তাঁর। তারপরে কেন এমন করলেন তা বোঝা যাচ্ছে না।
সকাল থেকে আর একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল, তা হল আর্থিক কারণেই এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন তিনি। হাসপাতালের বিল বেড়ে যাওয়ায় তা মেটানো সম্ভব ছিল না বলেই এমন ঝাঁপ দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেই দাবি উড়িয়ে দিয়ে বলে, তাঁর চিকিৎসা পুরোটাই ইন্স্যুরেন্স কভার ছিল। টাকা পয়সার কোন কারণ ছিল না। তবে কেন এমন ঘটাল সেই কারণ এখনও ধোঁয়াশাই থেকে গেল।
উল্লেখ্য, গত পরশু সুজিত অধিকারী ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সে নার্ভের সমস্যা নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। শনিবার সকালে হঠাৎ ৮ তলার জানলা দিয়ে বেরিয়ে পড়েন তিনি। জানলার ধার বেয়ে পৌঁছে যান কার্নিশে। তাঁকে উদ্ধার করতে ঘটনাস্থলে পৌঁছন দমকল কর্মীরা। কিন্তু কিছুতেই তাঁকে সেখান থেকে নামানো যাচ্ছিল না। হাইড্রোলিক ল্যাডার দিয়ে তাঁকে নামানোর চেষ্টা করছিলেন দমকল কর্মীরা। শেষে কার্নিশ থেকে ঝাঁপ দিয়েছিলেন ওই রোগী। সাত তলার কার্নিশে কিছুক্ষণ দু’হাতে ভর করে ঝুলেছিলেন তিনি। তবে পরে হাত ফস্কে পরে যান উঠোনে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
মল্লিকবাজারের রোগী ৮ তলা থেকে ঝাঁপ দিলেন! আইএনকে-র উঠোনে হুলস্থূল