দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাত বাড়লে ক্রমেই লাল বর্ণ নেবে চাঁদ। ধীরে ধীরে পুরোপুরি উধাও হয়ে যাবে চাঁদটি। রাত ১০টা বেজে ৫৩ মিনিট থেকেই চন্দ্রগ্রহণের প্রভাব শুরু হবে। শনিবার সকাল পাঁচটা নাগাদ পুরোপুরি গ্রহণমুক্ত হবে চাঁদ। ২১ শতকের সবথেকে বড় চন্দ্রগ্রহণ। আর তাই শাস্ত্র মেনে শুক্রবার দুপুরের পর থেকেই বন্ধ রাখা হবে দেশের বহু মন্দিরের দরজা।
সূর্যাস্তের আগেই মন্দিরের পুজো সেরে ফেলা হবে। এগিয়ে আনা হবে বারাণসী, হরিদ্বার, এলাহাবাদে গঙ্গা আরতির সময়ও। সন্ধ্যায় যে গঙ্গা আরতি করা হয় তা দুপুর একটার মধ্যেই হয়ে যাবে, এমনই জানা গিয়েছে।
রীতি মেনে চন্দ্রগ্রহণের সময় বন্ধ রাখা হবে তিরুপতি মন্দিরের দরজা। 'শুদ্ধি'র পর ফের তা খুলে দেওয়া হবে। বদ্রীনাথ, কেদারনাথের দরজাও বন্ধ থাকবে শুক্রবার দুপুর থেকেই। কোনওরকম পুজোপাঠই এই সময় মন্দিরে হবে না। মন্দির সূত্রে খবর, এ দিন দুপুর সাড়ে বারোটার পরই বন্ধ হয়ে যাবে বদ্রীনাথ মন্দিরের দরজা। অন্যদিকে কেদারনাথের মন্দিরের দরজা বন্ধ হবে দুপুর ২টো বেজে ৫৪ মিনিট নাগাদ। গ্রহণ শেষ হলেই মন্দিরের দরজা ফের খুলে দেওয়া হবে দর্শনার্থীদের জন্য।
কাশীর বিশ্বনাথের মন্দিরের দরজাও বন্ধ রাখা হবে দুপুর দু'টো থেকে। একইভাবে সঙ্কটমোচন ও মা অন্নপূর্ণার মন্দিরও এ দিন বন্ধ হবে নির্ধারিত সময়ের আগেই। সাড়ে বারোটায় ভোগ-আরতির পরই বন্ধ করে দেওয়া হবে সঙ্কটমোচন মন্দিরের দরজা। মা অন্নপূর্ণার মন্দিরের দরজা বন্ধ হবে দুপুর দু'টো নাগাদ।
তিরুমালা মন্দিরও এ দিন বন্ধ হবে বিকেল পাঁচটায়। শনিবার ভোরে ফের মন্দিরের দরজা খুলে ভেঙ্কটেশ্বরের সেবা দেওয়া হবে। গ্রহণের জন্য এদিন ভক্তদের মধ্যে অন্নপ্রসাদ বিতরণও বিকেল পাঁচটার মধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হবে। মন্দির সূত্রে খবর, কর্ণাটকের চামুণ্ডেশ্বরীর মন্দিরের দরজাও রাত ন'টায় বন্ধ হবে এদিন।
কিন্তু কেন এই সিদ্ধান্ত ভারতের বিখ্যাত সব মন্দির ও তীর্থস্থানের। তিরুপতি মন্দিরের প্রধান পূজারি জানিয়েছেন, শাস্ত্রমতে গ্রহণের সময় অশুভ শক্তির প্রভাব বাড়ে। অপবিত্রতার ছোঁয়া পড়ে সর্বত্র। তাই এই সময় কোনও শুভ কাজ তো করার প্রশ্নই নেই। তাই বন্ধ রাখা হয় মন্দির, এমনকী গর্ভগৃহের দরজাও।