
শেষ আপডেট: 24 February 2023 05:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চাঁদের কলঙ্ক জানা ছিল এতদিন। সূর্যের (Sun) গায়েও কি লেগেছে কলঙ্কের ছাপ!
সূর্যের পিঠে বিশাল বড় কালো দাগ (sunspot) দেখতে পেয়েছেন ভারতের সৌরবিজ্ঞানীরা। পালানি হিলের উপরে কোদাইক্যানালের সোলার অবর্জাভেটরি দেখে সূর্যের পিঠে বড়সড় ওই স্পট দেখা গেছে। লাদাখ থেকেও দেখা গেছে। বড় সোলার টেলিস্কোপে চোখ লাগিয়ে সেই দাগের কারণ খোঁজার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা।
এই কলঙ্কের ছাপকে সৌরবিজ্ঞানের ভাষায় বলে সানস্পট (Sunspot)। সৌরপদার্থবিজ্ঞানী দেখিয়েছেন, সূর্য কখন রেগে উঠবে এবং গনগনে আগুনের ফুলকি ছুঁড়ে দেবে তা নির্ভর করে এই ফলে, সৌরকলঙ্ক (সানস্পট), সৌরবায়ু (সোলার উইন্ড), সৌরঝড় (সোলার স্টর্ম), করোনাল মাস ইজেকশান (সিএমই)-এর উপরে। এরা সূর্যের ভয়ঙ্কর সব অস্ত্র যাদের পরাস্ত করা সম্ভব নয় কোনওভাবেই। সৌরঝড়ের সামান্য ঝাপটাও যদি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে এসে লাগে তাহলে তছনছ হয়ে যাবে সব। উড়ে যাবে জিপিএস, রেডিও নেটওয়ার্ক থেকে যোগাযোগের সমস্ত মাধ্যম। সানস্পট বা সৌরকলঙ্ক জানান দিতে পারে, ঠিক কখন সূর্য তেতে উঠবে, তার রোষানলে দাপুটে সৌরঝড় আর সৌরবায়ু ছিটকে বেরবে মহাকাশে।

সূর্য থেকে যে ভয়ঙ্কর করোনাল মাস ইজেকশান হয় তার জন্ম ওই কালো দাগ বা সানস্পটের জন্যই হয়। , আমাদের পৃথিবীর যেমন অ্যাটমস্ফিয়ার আছে, সূর্যের তেমন অ্যাটমস্ফিয়ার আছে। সূর্যের পিঠ (সারফেস) ও তার উপরের স্তর যাকে বলে সোলার করোনা। সারফেসের গড় তাপমাত্রা ৫৬০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। কোথাও ৫৮০০ ডিগ্রি আবার কোথাও ৫২০০ ডিগ্রি সেলসিয়ারের কাছাকাছি। করোনার তাপমাত্রা সেখানে প্রায় ২ লক্ষ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। কখনও তারও বেশি। এই তাপমাত্রার তারতম্য হতে থাকে সবসময়।
এই করোনা স্তর যেখানে শেষ হচ্ছে সেখান থেকেই সৌরঝড়ের জন্ম হয়। এই করোনা উচ্চতাপমাত্রার প্লাজমা আবরণে ঢাকা। এখান থেকেই বেরিয়ে আসে তড়িদাহত কণার স্রোত। প্রচণ্ড গতিতে ছড়িয়ে পড়ে মহাকাশে। একেই বলে সৌরঝড়। আর ঠিক সৌরপৃষ্ঠেই তৈরি হয় সানস্পট। সূর্যের পিঠ থেকে নীচে আরও ৩০ শতাংশ গভীরতায়। বড় সানস্পটগুলির ব্যাস হতে পারে ২০ থেকে ৩০ মেগা মিটারের (মানে, ১০ হাজার মিটার) মধ্যে। তা ৫০ মেগা মিটারও হতে পারে। সেগুলি ‘জায়ান্ট সানস্পট’। আবার তা হতে পারে খুব ছোট ১ মেগা মিটার ব্যাসেরও। সানস্পটগুলি আদতে খুব শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র। জায়ান্ট সানস্পট মানে তা প্রায় ১০টা পৃথিবীর সমান বড়।

সূর্যের গোটা জীবনচক্রে (Solar Cycle) এমন অজস্র সানস্পট তৈরি হতে পারে। একটা সোলার সাইকেল হয় ১১ বছরে, আবার তা বেড়ে ১২ বছর, কমে ১০ বছরও হতে পারে। একটা সাইকেলে তিন হাজারের মতো সানস্পট (sunspot ) তৈরি হতে পারে। তারা আবার কিছুদিন দেখা দিয়ে মিলিয়ে যায় বা সূর্যের অন্য পাশে সরে যায়।
সূর্য কখন রেগে উঠবে তা জানান দেবে সৌরকলঙ্ক
এই সানস্পটই বলতে পারবে সূর্য কখন গনগনে আগুনের স্রোত বিকিরণ করবে। সেই সৌর বিকিরণের মাত্রা কতটা হবে, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে তা আছড়ে পড়বে কিনা। সৌর বিকিরণের বেগ বেশি হলে তা মহাকাশের তাপমাত্রাতেও বদল ঘটাবে। সূর্য তেতে উঠলে বাড়বে পৃথিবীর তাপমাত্রা।

আবার সৌর বিকিরণ কমতে শুরু করলে পৃথিবী ও তার পরিমণ্ডলের তাপমাত্রা কমতে শুরু করবে। সৌর বিকিরণ কমে যাওয়ার ঘটনাটা যদি একনাগাড়ে বছরের পর বছর চলে থাকে তাহলে পৃথিবীতেও একসময় বরফ জমতে জমতে তুষার-যুগ শুরু হয়ে যাবে। সুদূর অতীতে যা হয়েছিল। সূর্যের অন্দরে চৌম্বক ক্ষেত্রগুলির শক্তি ও সূর্যের বিকিরণের তেজ কমতে থাকলে সেই যুগ চলে আসবে অচিরেই। তবে তার সম্ভাবনা কতটা সেটা সৌরকলঙ্কদের সাইকেল দেখেই বুঝতে পারবেন বিজ্ঞানীরা।