গাড়িচালক দীপ ঘোষ, পবন গুপ্তাদের অভিযোগ, পুলিশ মাঝপথে গাড়ি আটকাচ্ছে, মামলা দিচ্ছে এবং মোটা টাকা জরিমানা আদায় করছে। এই হয়রানির প্রতিবাদে শনিবার থেকে ট্যাঙ্কারে তেল তোলা বন্ধ করে দিয়েছেন তাঁরা।

শেষ আপডেট: 30 August 2025 16:21
শনিবার সকাল থেকে গাড়ি চালানো বন্ধ করে দেন মৌড়ীগ্রাম ইন্ডিয়ান অয়েল ডিপোর ট্যাঙ্কার চালক ও খালাসিরা। তাদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির জেরে ওই ডিপো থেকে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, নদিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় তেল সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ডিপোর ভিতরে আটকে রয়েছে প্রায় তিনশো ট্যাঙ্কার।
চালকদের অভিযোগ, নতুন নো-এন্ট্রি নিয়মে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে তাদের কাজ। হাওড়ার আন্দুল রোডে প্রচণ্ড যানজটের কারণে দিনের বেলায় ভারী গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে সিটি পুলিশ। সম্প্রতি ট্যাঙ্কার চলাচলের জন্য নতুন সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। পুলিশের নির্দেশ অনুযায়ী দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ট্যাঙ্কার ঢুকতে পারবে, বাকি সময়ে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। কিন্তু চালকদের বক্তব্য, আগে যেখানে সকাল ৯টা থেকে ১১টা এবং সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টা পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা ছিল, সেখানে এখন মাত্র চার ঘণ্টার অনুমতি থাকায় জ্বালানি সরবরাহ অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
গাড়িচালক দীপ ঘোষ, পবন গুপ্তাদের অভিযোগ, পুলিশ মাঝপথে গাড়ি আটকাচ্ছে, মামলা দিচ্ছে এবং মোটা টাকা জরিমানা আদায় করছে। এই হয়রানির প্রতিবাদে শনিবার থেকে ট্যাঙ্কারে তেল তোলা বন্ধ করে দিয়েছেন তাঁরা।
এর জেরে জ্বালানি সরবরাহ বিপর্যস্ত হতে শুরু করেছে। ওয়েস্ট বেঙ্গল পেট্রোলিয়াম ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট প্রসেনজিৎ সেন আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, "কর্মবিরতি চলতে থাকলে শনিবার বিকেলের পর থেকেই কলকাতা, হাওড়া সহ একাধিক জেলায় পাম্প ড্রাই হয়ে যেতে পারে। এমনকি কলকাতা বিমানবন্দরেও তেলের সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে।"
অ্যাসোসিয়েশনের তরফে ইতিমধ্যেই হাওড়া সিটি পুলিশ কমিশনার ও প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁদের আশা, দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে এবং কর্মবিরতি উঠে যাবে, না হলে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে।