
শেষ আপডেট: 28 July 2023 12:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বয়স কম করেও ৬০ কোটি বছর। পৃথিবী পৃষ্ঠ যখন শ্বেতশুভ্র বরফে ঢাকা ছিল সেই তুষার যুগে যাকে ভৌগোলিক ভাষায় বলা হয় স্নো-বল আর্থ গ্লেসিয়েশান (Snowball Earth glaciation), সেই সময়ে ওই সুপ্রাচীন মহাসাগর ছিল। কালের গর্ভে সেই সমুদ্র হারিয়ে যায়। বর্তমান হিমালয়ের (Himalayas) পাথর, খনিজের মধ্যে এখনও নাকি ফসিল হয়ে রয়েছে সেই মহাসাগরের চিহ্ন। ভারতীয় ও জাপানি বিজ্ঞানীরা এই খোঁজ দিয়েছেন।
বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ সায়েন্স, জাপানের নিগাটা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা হিমালয়ের পাথরের মধ্যেও খুঁজে পেয়েছেন জলের অস্তিত্ব (Himalayas)। মনে করা হচ্ছে. ৬০ থেকে ৭০ কোটি বছর আগেই সেই জায়গাতেই ছিল এক মহাসাগর। সেই সাগর হারিয়ে যায় বা ক্রিস্টালে পরিণত হয়। অক্সিজেনেশনের (Oxygenetion) মাধ্যমে সেই জলের অস্তিত্ব এখনও রয়ে গেছে সুউচ্চ পর্বতমালার খাঁজে-ভাঁজে। এমনটাই দাবি বিজ্ঞানীদের।

হিমালয় পর্বতমালার উৎপত্তিকে দুই ভাবে ব্যাখ্যা করা যায়–১) মহীখাত তত্ত্ব বা জিওসিনক্লাইন থিওরি, ২) প্লেট টেকটনিক থিওরি। ধারণা করা হয়, বর্তমানে যে অঞ্চলটিতে হিমালয় পর্বতমালা অবস্থান করছে, সেখানে টার্সিয়ারি যুগে টেথিস নামক এক অগভীর সমুদ্র বা মহীখাত ছিল। এই অগভীর সমুদের উত্তরে আঙ্গারাল্যান্ড এবং দক্ষিণে গণ্ডোয়ানাল্যান্ড নামক বিশাল ভূখন্ড দ্বারা পরিবেষ্টিত ছিল। কোটি কোটি বছর ধরে এই দুটি প্রাচীন ভূখন্ড থেকে ক্ষয়প্রাপ্ত পলি টেথিস মহীখাতে সঞ্চিত হতে থাকলে সেই সঞ্চিত পলির চাপে টেথিস মহীখাতে ভূ -আন্দোলনের সৃষ্টি হয়। এই ভূ - আন্দোলনের ফলে গণ্ডোয়ানা ল্যান্ডের তলদেশে ভারতীয় পাত এবং আঙ্গারাল্যান্ড এর তলদেশের এশীয় পাত সচল হয়ে পড়ে। ভারতীয় পাতের গতিবেগ বেশি হওয়ায় তা এশীয় পাতের দক্ষিণে প্রবল আঘাত করে। ফলে এই দুটি বিশাল ভূখন্ড এর মধ্যবর্তী স্থানে সঞ্চিত পলি প্রবল পার্শ্ব চাপের ফলে ভাঁজ খেয়ে সুবিশাল হিমালয় পর্বতের সৃষ্টি হয়। ভাঁজ থেকে সৃষ্টি হয় বলে হিমালয়কে বলা হয় নবীন ভঙ্গিল পর্বত।

আইআইএসসি এর সেন্টার ফর আর্থ সায়েন্সের গবেষক প্রকাশ চন্দ্র আর্য বলেন, হিমালয়ে পাথরে (Himalayas) ও খনিজের মধ্যে যে জলবিন্দু পাওয়া গেছে তা সেই তুষার যুগের। এই জলের মধ্যে ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম কার্বোনেট প্রচুর পরিমাণে রয়েছে। মনে করা হচ্ছে, সেই সময় পৃথিবীতে অক্সিজেন প্রচুর পরিমাণে ছিল। অক্সিজেনেশন প্রক্রিয়াও চলত। সেডিমেন্টারি বেসিন যে অঞ্চলগুলি ছিল সেখানে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ মারাত্মকভাবে কমে গিয়েছিল। এর ফলে সেখানে ম্যাগনেশিয়ামের পরিমাণ রেকর্ড হারে বেড়ে যায়৷ জলের মধ্যে ম্যাগনেশিয়াম কার্বনেট জমা হতে থাকে। একটা সময়ে গিয়ে জল ক্রিস্টালে পরিণত হয়। হারিয়ে যায় সুপ্রাচীন সেই মহাসাগর।