নৌকায় থাকা ২৮ জনের কারওরই ভারতীয় জলসীমায় মাছ ধরার কোনও বৈধ অনুমতি ছিল না। নৌকায় থাকা মাছধরা সরঞ্জাম ও তাজা মাছ স্পষ্ট করে দেয় যে তারা নিষিদ্ধ এলাকায় সক্রিয়ভাবে মাছ ধরছিল।

ধৃত বাংলাদেশি মৎস্যজীবী
শেষ আপডেট: 21 November 2025 16:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তর বঙ্গোপসাগরে (Bay of Bengal) টহলের সময় ভারতীয় জলসীমা পেরনোয় ধরা পড়ল একটি বাংলাদেশি মৎস্যজীবীদের নৌকা (Bangladeshi Fishermen Boat)। ভারতীয় উপকূল রক্ষী বাহিনীর (ICG) জাহাজ ‘অমৃত কৌর’ গত ২০ নভেম্বর ভারতের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন (EEZ)-এর ভিতরে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করা নৌকাটিকে আটক করে। নৌকায় ছিলেন ২৮ জন বাংলাদেশি মৎস্যজীবী।
আইসিজি-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সীমারেখা (IMBL) বরাবর নজরদারির সময় একটি মাছধরা নৌকার অস্বাভাবিক গতিবিধি নজরে আসে। এরপর জাহাজটি দ্রুত তাকে থামিয়ে মৎস্যজীবীদের (Fishermen) পরিচয় যাচাই করে বুঝতে পারে - এটি বাংলাদেশি মাছধরা নৌকা, যা ভারতের সাগরসীমায় প্রবেশ করেছে।

পরবর্তী তল্লাশিতে ধরা পড়ে, নৌকায় থাকা ২৮ জনের কারওরই ভারতীয় জলসীমায় মাছ ধরার কোনও বৈধ অনুমতি ছিল না। নৌকায় থাকা মাছধরা সরঞ্জাম ও তাজা মাছ স্পষ্ট করে দেয় যে তারা নিষিদ্ধ এলাকায় সক্রিয়ভাবে মাছ ধরছিল।
ঘটনার পর নৌকাসহ সকলকে আটক করে নামখানা (Namkhana) মৎস্যবন্দরে নিয়ে আসে উপকূল রক্ষী বাহিনী। সেখানে বাংলাদেশি নৌকা ও ২৮ জন মৎস্যজীবীকে আরও আইনি প্রক্রিয়ার জন্য মেরিন পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

এই সপ্তাহে বাংলাদেশি নৌকা (Bangladeshi Boat) আটক হওয়ার এটি চতুর্থ ঘটনা। কয়েকদিন আগেই বঙ্গোপসাগরের জলসীমা পেরিয়ে ঢুকে পড়া আরও এক বাংলাদেশি ট্রলার আটক করেছিল ভারতের উপকূল রক্ষীবাহিনী। ৭৯ জন বাংলাদেশি ধরা পড়েছিলেন। ‘নূর-ই-মদিনা’ নামে একটি ট্রলার ভারতীয় জলসীমায় ঢুকে পড়ে। মাঝরাতে ফ্রেজারগঞ্জ মৎস্য বন্দরে নিয়ে গিয়ে ওই ২৪ জনকে পুলিশের হাতে তুলে দেয় কোস্ট গার্ড (Coast Guard)। তবে ধৃতেরা আদৌ মৎস্যজীবী, নাকি ছদ্মবেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা, তা নিয়েই বড় প্রশ্ন উঠছে তদন্তকারীদের মধ্যে।
আইসিজি জানিয়েছে, ভারতীয় মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সমুদ্রসীমায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতেই তাদের নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
বঙ্গোপসাগরের ওপর দিন-রাত আকাশ ও সমুদ্রপথে নজরদারি চালিয়ে ভারতীয় উপকূল রক্ষী বাহিনী সমুদ্র আইন প্রয়োগ ও দেশের সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষায় অটল রয়েছে বলেও জানিয়েছে।
ঠিক এই সময়েই রাজ্যে রাজনৈতিক তাপমাত্রা চরমে উঠেছে। একদিকে এসআইআর ইস্যুতে তৃণমূল-বিজেপি উত্তপ্ত, অন্যদিকে বাংলাদেশে শেষ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘিরে অশান্ত পরিস্থিতি। ফলে সীমান্তে অনুপ্রবেশের ঝুঁকি আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না নিরাপত্তা মহল।
গোটা সীমান্ত জুড়ে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। জলসীমাতেও কোস্ট গার্ডের টহল আরও জোরদার। গোয়েন্দাদেরও তৎপরতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে। প্রশাসনের দাবি, কোনওভাবেই যাতে পরিস্থিতি হাতের বাইরে না যায়, তার জন্য ২৪ ঘণ্টাই কড়া নজরদারি চলছে।