দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাঁচ অর্থনীতির সংগঠন ব্রিকসের পরবর্তী বৈঠকের আয়োজন করতে চলেছে ভারত। এই বৈঠকের নাম হবে – ব্রিকস ডিজিটাল হেলথ সামিট। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে উদ্ধৃত করে এ কথা জানিয়েছেন অর্থনৈতিক সচিব (বিদেশ মন্ত্রক) টিএস তিরুমূর্তি।
ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন ও দক্ষিণ আফ্রিকার ইংরেজি নামের আদ্যাক্ষর নিয়েই ব্রিকস। এই পাঁচ দেশে বিশ্বের ৪২ শতাংশ মানুষের বাস। ব্রিকসের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে এই গোষ্ঠীর অন্য দেশগুলির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়ে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মূলত অর্থনৈতিক জোট হলেও, পারষ্পরিক দ্বিপাক্ষিক সমস্যা নিয়ে আলোচনারও মঞ্চ হয়ে উঠেছে ব্রিকস।
টিএস তিরুমূর্তি জানিয়েছেন, যে নিবিড় ডিজিটাল প্রযুক্তি দিয়ে স্বাস্থ্যপ্রদ জীবনযাত্রা দেওয়া সম্ভব, সেই ধরনের সৃজনশীল সমাধানে পৌঁছানোই হবে ব্রিকস ডিডিটাল হেলথ সামিটের প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, “স্বাস্থ্য জীবনযাত্রা প্রদানের জন্য সৃজনশীল নিবিড় ডিজিটাল প্রযুক্তি, হেলথকেয়ার সম্পর্কিত তথ্য ডায়াগনিসিসের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, ভারতে হবে ব্রিকস ডিজিটাল হেলথ সামিট।”
প্রধানমন্ত্রী মোদীর ‘ফিট ইন্ডিয়া’রই এটি একটি পর্যায়।
ব্রাজিলে ব্রিকসের একাদশ বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি ‘ইকোনমিক গ্রোথ ফর ইনোভেটিভ ফিউচার’ নিয়ে বলেন। ব্রিকসের বৈঠকের জন্য আগে থেকেই ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় সংশ্লিষ্ট পাঁচ দেশের বিশাল বাণিজ্যিক প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিল।
এই মূহূর্তে বিভিন্ন দেশের সামনে সার্বভৌমত্বের প্রসঙ্গ, বিভিন্ন সমস্যা ও সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন নেতার মধ্যে একান্তে আলোচনা হয়। জঙ্গি সমস্যা যে সার্বভৌমত্বের সামবে বড় চ্যালেঞ্জ, সে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী, তিনি চান সদস্য দেশগুলি এই বিষয়ে যথাযথ গুরুত্ব দিক।
বিভিন্ন প্লেনারিতে ভাগ করে ব্রিকসের নেতা সদস্য দেশগুলির মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক আদানপ্রদান নিয়ে আলোচনা করেন। সৃজনশীলতা, নেটওয়ার্ক, আর্কিটেকচার প্রভৃতি ক্ষেত্রে যে সব সুযোগ রয়েছে, সে কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। ব্রিকস উইমেনস অ্যালায়েন্স তৈরির প্রস্তাবও তিনি দিয়েছেন।
ব্রিকসের দেশগুলোর সঙ্গে পণ্য ও পরিষেবা আদানপ্রদান নিয়েও কথা হয়েছে এবং এ ব্যাপারে দেশগুলো একযোগে বিবৃতিও দিয়েছে। চিরাচরিত ওষুধ নিয়েও সমঝোতা পত্রে (মউ) সই হয়েছে। ২০১৬ সালে এ ব্যাপারে প্রথম উদ্যোগী হয় ভারতই।
শহরাঞ্চলে জলের অভাব নতুন কিছু নয়। প্রধানমন্ত্রী চাইছেন, এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ব্রিকসভুক্ত দেশগুলির জলসম্পদ মন্ত্রীদের প্রথম বৈঠক হোক ভারতে।