নতুন আক্রান্ত ৫০ হাজার, উৎসবের মরসুমেও সংক্রমণের হার বৃদ্ধি কম, জানাল স্বাস্থ্যমন্ত্রক
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা আক্রান্তের সংখ্যার নিরিখে ৮৩ লাখের গণ্ডি পার হল ভারত। দৈনিক সংক্রমণ গত কয়েক সপ্তাহে অনেকটাই কম। প্রতিদিনের হিসেবে আক্রান্তের সংখ্যা ৯০ হাজার থেকে ৫০ হাজারে নেমে এসেছে। এখন ফি দিন নতুন সংক্রমণ ৪০ থেকে ৫০ হাজারের মধ্যে
শেষ আপডেট: 4 November 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা আক্রান্তের সংখ্যার নিরিখে ৮৩ লাখের গণ্ডি পার হল ভারত। দৈনিক সংক্রমণ গত কয়েক সপ্তাহে অনেকটাই কম। প্রতিদিনের হিসেবে আক্রান্তের সংখ্যা ৯০ হাজার থেকে ৫০ হাজারে নেমে এসেছে। এখন ফি দিন নতুন সংক্রমণ ৪০ থেকে ৫০ হাজারের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। দু’দিন আগেই দৈনিক সংক্রমণ ৪৫ হাজারের নিচে নেমে গিয়েছিল। আজ কিছুটা বেড়ে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজারে।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের বৃহস্পতিবার সকালের বুলেটিন বলছে, দেশে এখন করোনা সক্রিয় রোগীর সংখ্যা অনেকটাই কমেছে। পরিসংখ্যাণ অনুযায়ী কোভিড অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা ৫ লাখ ২৭ হাজার। অ্যাকটিভ কেস ৬ শতাংশের কাছাকাছি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোভিড অ্যাকটিভ কেস দশ লাখের নিচে নেমে যাওয়া ভাল ইঙ্গিত। অ্যাকটিভ কেস কমলে একজনের থেকে সংক্রমণ বহুজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া বন্ধ হবে। সেই সঙ্গেই কোভিড ট্রান্সমিশন রেট কমবে। করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যাও কমতে থাকবে।
উৎসবের মরসুমেও কোভিড সংক্রমণ সাঙ্ঘাতিকভাবে বাড়েনি, এমনটাই জানিয়েছেন নীতি আযোগের সদস্য ডক্টর ভি কে পল। তাঁর বক্তব্য, দুর্গাপুজো, নবরাত্রিতে দেশের কয়েকটি জায়গায় সংক্রমণ কিছুটা বাড়লেও সার্বিকভাবে সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পায়নি। গত ১০-১৪ দিনের কোভিড ডেটা খতিয়ে দেখে বোঝা গেছে, খুব বিশাল আকারে সংক্রমণ বৃদ্ধি হয়নি। কোনও কোনও রাজ্যে ট্রান্সমিশন রেটও স্থিতিশীল জায়গায় আছে।

তবে চিন্তা বাড়াচ্ছে দিল্লির কোভিড গ্রাফ। করোনার তৃতীয় ঢেউ ধাক্কা দিয়েছে রাজধানীতে এমন কথাই বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ রেজরিওয়াল। তাঁর বক্তব্য, গত কয়েকদিনে দৈনিক সংক্রমণ বৃদ্ধির হার চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একলাফে সংক্রমণ বেড়ে গেছে অনেকটাই। কোভিড পজিটিভিটি রেট প্রায় ১২ শতাংশের কাছাকাছি। অথচ সেপ্টেম্বরের দৈনিক সংক্রমণ ছিল তিন হাজারেরও কম। তবে করোনা মোকাবিলায় সবরকম ব্যবস্থাই নেওয়া হয়েছে বলে আশ্বাস দিয়েছেন কেজরিওয়াল।
দিল্লির স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দূষণ, শীত আর উৎসব—এই তিনের সমন্বয়ে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার শঙ্কা থেকে যাচ্ছে। তবে যদি কোভিড টেস্ট, কনট্যাক্ট ট্রেসিং আর ট্রিটমেন্ট এই তিন ফর্মুলায় সংক্রমণে লাগাম পরানো যায়, তাহলে দেশে সার্বিকভাবে সংক্রামিতের সংখ্যা আরও কমতে শুরু করবে।
https://twitter.com/ICMRDELHI/status/1324191902778880000
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ জানিয়েছে দেশে সুস্থতার হার বাড়ছে। কারণ কোভিড টেস্টে আরও বেশি সংখ্যক করোনা রোগীকে চিহ্নিত করা যাচ্ছে। কেন্দ্রের হিসেবে কোভিড রিকভারি রেট ৯২ শতাংশে পৌঁছে গেছে। ৭৭ লাখের বেশি করোনা রোগী সংক্রমণ জয় করেছেন। মৃত্যুহারও কম, ১.৪৯ শতাংশ। গতকাল অবধি দেশে করোনা পরীক্ষা হয়েছে ১১ কোটি ৪২ লাখ। একদিনে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১২ লাখের বেশি। প্রতিদিন ১৫ লাখ কোভিড টেস্টের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক।