
শেষ আপডেট: 22 June 2020 18:30
দেশে এখন করোনা অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৭৮ হাজার। সংক্রমণ বৃদ্ধির হার কতটা, কত দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে এই সংক্রান্ত গাণিতিক মডেল ‘এসইআইআর’ (SEIR)-এর তথ্য বলছে, সংক্রমণ বৃদ্ধির হার যদি এমনটাই থাকে তাহলে ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে করোনা অ্যাকটিভ কেস বেড়ে দাঁড়াবে আড়াই লাখের কাছাকাছি। ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে সেই সংখ্যাই সাড়ে তিন লাখ ছোঁবে। তবে, সেদিক থেকে আশা জাগিয়েছে চেন্নাইয়ের ইনস্টিটিউট অব ম্যাথেমেটিক্যাল সায়েন্স (আইএমএসসি)-এর গবেষক সীতাভ্র সিনহার রিপোর্ট। তিনি অঙ্ক কয়ে দেখিয়েছেন, সংক্রমণের হার বাড়লেও, কনট্যাক্ট ট্রেসিং বাড়ানো হচ্ছে। অর্থাৎ একজন করোনা সংক্রামিত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসাদের দ্রুত চিহ্নিত করে আলাদা করে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু হযে গেছে। তাই একজন করোনা রোগীর থেকে বহুজনের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা কমেছে। এই কনট্যাক্ট ট্রেসিং যদি আরও বাড়ানো হয় তাহলে দেশে কোভিড সংক্রমণের ‘এফেক্টিভ রিপ্রোডাকশন নম্বর’ তথা R Value ১-এর নীচে নেমে যাবে। গত এক মাসে এই ‘আর নম্বর’১.২২ থেকে ১.১৩-তে নেমে গেছে।
করোনা আক্রান্তের সংখ্যায় এখনও শীর্ষেই মহারাষ্ট্র। কোভিড পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৩৫ হাজার। রাজ্যে করোনা আক্রান্তের অর্ধেকের বেশি বাণিজ্যনগরী মুম্বইতে। তবে রাজ্যে সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থও হয়েছেন ৬৭ হাজারের বেশি। করোনা আক্রান্তের সংখ্যার নিরিখে মহারাষ্ট্রের পরেই দিল্লি। আক্রান্ত ৬২ হাজার ৬৫৫। সংক্রমণের নিরিখে তামিলনাড়ুকেও ছাপিয়ে গেছে। আজকের হিসেবে তামিলনাড়ুতে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৬২ হাজার ৮৭।
কোভিড টেস্টিং ও কনট্যাক্ট ট্রেসিং বাড়লে আক্রান্তদের দ্রুত চিহ্নিত করে চিকিৎসা শুরু করা যাবে বলেই জানিয়েছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)। দেশে কোভিড টেস্টিং বেড়েছে বলে দাবি আইসিএমআরের। ৭২৩টি সরকারি ও ২৬২টি বেসরকারি ল্যাবরেটরিতে করোনা পরীক্ষার জন্য আরটি-পিসিআর টেস্ট, অ্যান্টিজেন টেস্টিং, ট্রুন্যাট টেস্টিংয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। করোনা টেস্টিংয়ের কারণেই আক্রান্তের সংখ্যা বেশি দেখাচ্ছে বলে দাবি স্বাস্থ্যমন্ত্রকের। তবে দেশে সুস্থ হয়ে ওঠাদের সংখ্যাও আশা জাগিয়েছে। একদিনে করোনা সারিয়েছেন ১০ হাজারের বেশি। দেশে এখন সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থ হযে ওঠাদের সংখ্যা ২ লাখ ৪৮ হাজার ২১৫ জন।