কমিশন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের মতো সীমান্তবর্তী জেলাগুলির অন্তত ৫০টি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রজেনি ম্যাপিংয়ের হার অস্বাভাবিক রকম বেশি।

ছবি-সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 3 January 2026 09:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটার তালিকার ‘প্রজেনি ম্যাপিং’ ঘিরে বড়সড় অসঙ্গতি সামনে আনল নির্বাচন কমিশন (Inconsistency in family addition in voter list, notice commission to 24 lakh voters)। কমিশন সূত্রে খবর, এক ব্যক্তির সঙ্গে ছ’জনের নাম যুক্ত রয়েছে, এমন ভোটারের সংখ্যা প্রায় ২৪ লক্ষ! পাশাপাশি, নামের গরমিল ধরা পড়েছে ৫১ লক্ষ ভোটারের ক্ষেত্রে। বয়স সংক্রান্ত অসামঞ্জস্যের ছবিটাও উদ্বেগজনক—বাবা ও সন্তানের বয়সের পার্থক্য ১৫ বছরের কম এমন ভোটার ৪ লক্ষ ৭৪ হাজার। আবার বাবার বয়সের সঙ্গে ভোটারের বয়সের ফারাক ৫০ বছরের বেশি—এমন ঘটনাও রয়েছে ৮ লক্ষ ৪১ হাজার। ঠাকুরদার বয়সের সঙ্গে ভোটারের বয়সে অসঙ্গতি মিলেছে আরও ৩ লক্ষ ক্ষেত্রে।
কমিশন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের মতো সীমান্তবর্তী জেলাগুলির অন্তত ৫০টি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রজেনি ম্যাপিংয়ের হার অস্বাভাবিক রকম বেশি। এর আগেই ‘নো ম্যাপড’ তালিকায় থাকা প্রায় ৩০ লক্ষ ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে। এ বার সেই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে আরও ২৪ লক্ষ ‘প্রজেনি ম্যাপড’ ভোটার।
এতদিন মূলত যাঁদের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ছিল না, তাঁদেরই শুনানিতে ডাকা হচ্ছিল। কিন্তু কমিশনের কাছে এমন বহু তথ্য এসেছে, যেখানে ২০০২ সালের তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও ভোটারদের শুনানিতে হাজির হতে হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গত বৃহস্পতিবার থেকে কমিশন ‘প্রজেনি ম্যাপড’ ভোটারদের নোটিস পাঠানো শুরু করেছে। কমিশন সূত্রে খবর, আগামী সাত দিনের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট ভোটারদের হাতে নোটিস পৌঁছে যাবে।
এদিকে, তথ্যগত অসঙ্গতি বা ‘লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি’-র সংখ্যাও কিছুটা কমেছে। বর্তমানে সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৪ লক্ষ ৪৯ হাজারে। এর আগে তা ছিল ১ কোটি ৩৬ লক্ষ। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সামনে এই বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে সাংবাদিক বৈঠকেও তিনি অভিযোগ করেন, এই ধরনের লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সির আড়ালেই ‘ব্যাক এন্ড’ থেকে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এখানেই ভোট চুরির আশঙ্কার কথাও তুলেছিলেন তিনি।
সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকা সংশোধনের এই পর্ব ঘিরে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর বাড়ল।