এই বছর রাজ্যের সাতটি জেলা মূল লিচু উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তার মধ্যে এককভাবে সবচেয়ে বেশি লিচু উৎপাদন হয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায়।

বাংলায় লিচুর বাম্পার ফলন
শেষ আপডেট: 31 May 2025 18:22
এ যেন রাজ্যের মিষ্টি সাফল্যের ফল! ২০২৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের লিচু চাষে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক গড়ল মুর্শিদাবাদ (Murshidabad Lichee Production)। রাজ্য সরকারের কৃষি দফতরের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, এ বছর গোটা রাজ্যে লিচুর আনুমানিক মোট উৎপাদন ছুঁয়েছে ৮২.২৮ হাজার মেট্রিক টন। চমকে ওঠার মতো এই সংখ্যা শুধু পরিসংখ্যানেই নয়, কৃষক পরিবারগুলোর মুখে এনে দিয়েছে প্রশান্তির হাসিও।
লিচু চাষে এ বছরের নিরঙ্কুশ জয়ী মুর্শিদাবাদ জেলা (Murshidabad)। একাই উৎপাদন করেছে ২৬.৫৭ হাজার মেট্রিক টন লিচু, অর্থাৎ রাজ্যের মোট উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ! স্থানীয় কৃষকদের অভিজ্ঞতা, অনুকূল আবহাওয়া আর আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধন— এই তিনেই এসেছে এমন সাফল্য।
জেলার কৃষকদের মতে, এবারের আবহাওয়া ছিল একেবারে আদর্শ। গ্রীষ্মের ঠিক আগে প্রয়োজন মতো ঠান্ডা ও হালকা বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর ফলে লিচু গাছের ফুল থেকে ফলন, সবই খুব ভাল হয়েছে।
মুর্শিদাবাদের পরেই ঐতিহ্যবাহী লিচু চাষের (Lichee) জেলা হল, মালদহ। এই জেলা বরাবরই আম ও লিচুর জন্য প্রসিদ্ধ। এ বছর এখানেও ফলন হয়েছে ৮.৮৯ হাজার মেট্রিক টন। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কৃষকরাও পিছিয়ে নেই। এখানে উৎপাদন হয়েছে ৮.৬৪ হাজার মেট্রিক টন।
এরপরের তালিকায় রয়েছে:
• উত্তর দিনাজপুর: ৬.৯৪ হাজার মেট্রিক টন
• দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ৫.৬৪ হাজার মেট্রিক টন
• উত্তর ২৪ পরগনা: ৩.৫৬ হাজার মেট্রিক টন
• কোচবিহার: ৩.২৪ হাজার মেট্রিক টন
এই পরিসংখ্যান দেখলেই বোঝা যায়, রাজ্যের একাধিক প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে লিচু চাষের সাফল্য। রাজ্যের উদ্যান পালন ও কৃষি দফতরের মতে, এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে, কৃষকদের এক সুপরিকল্পিত ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ। বিগত কয়েক বছরে চাষিদের প্রশিক্ষণ, উন্নত লিচুর জাত সরবরাহ এবং বিজ্ঞানসম্মত চাষ পদ্ধতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মাটি ও আবহাওয়া বিশ্লেষণের মাধ্যমে অঞ্চলভিত্তিক চাষের পরিকল্পনা তৈরি করে দেওয়া হয়েছে প্রতিটি জেলায়। ফলে শুধুই শ্রম নয়, কৃষির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং সময়জ্ঞান।
নবান্ন সূত্রে খবর, শুধু চাষ নয়, রাজ্যের লিচুকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেও একাধিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। লিচুর সংরক্ষণ, প্যাকেজিং, প্রক্রিয়াকরণ এবং সরাসরি বাজারে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এছাড়াও, উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলের আরও কয়েকটি জেলাকে লিচু চাষে উৎসাহিত করতে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রয়োজনে দেওয়া হবে বিনামূল্যে চারা, কৃষি উপকরণ এবং প্রশিক্ষণ।
সব মিলিয়ে, একসময়ের মরশুমি ফল আজ হয়ে উঠছে রাজ্যের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সঠিক পরিকল্পনা ও প্রযুক্তি প্রয়োগের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ হয়ে উঠতে পারে দেশের অন্যতম লিচু চাষের রাজ্য।