অভিযোগের কেন্দ্রে বিজেপি নেতা রাকেশ সিং। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় এফআইআর দায়ের হয়েছে। তা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য
শেষ আপডেট: 31 August 2025 19:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে চরম উত্তেজনা। প্রদেশ কংগ্রেস কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় প্রবল শোরগোল ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। অভিযোগের কেন্দ্রে বিজেপি নেতা রাকেশ সিং। তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন-সহ একাধিক ধারায় এফআইআর দায়ের হয়েছে। তা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
ঠিক কী ঘটেছিল?
গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ প্রদেশ কংগ্রেস দফতর বিধানভবনে হঠাৎ শুরু হয় গণ্ডগোল। প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কটূক্তির অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এই হামলার সূত্রপাত বলে দাবি। কংগ্রেস সূত্রে খবর, বিজেপি নেতা রাকেশ সিং সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ করতে করতে সদলবলে বিধানভবনে ঢুকে তাণ্ডব চালান। অভিযোগ, প্রায় ৩০ জন অনুগামীকে নিয়ে তিনি রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গের পোস্টার-ব্যানার ছিঁড়ে দেন, ছবিতে কালি লাগান।
শমীকের কথায়, ‘যে ভাষায় দেশের প্রধানমন্ত্রীকে ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ করা হয়েছে, এর থেকে ঘৃণ্য রাজনীতি আর কিছু হতে পারে না। এই সেটা স্বাভাবিক ভাবেই আমদের কর্মীদের আবেগকে আহত করেছে। এসব দেখে প্রত্যেক সুস্থ নাগরিকও এই রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করছেন। তাই সেখানে বিক্ষোভ হওয়াটাই প্রত্যাশিত, স্বাভাবিক।
কিন্তু তারপরে যা ঘটল সেই প্রসঙ্গে শমীক বলেন, ‘বিক্ষোভ করতে গিয়ে কংগ্রেসের কয়েকটা পতাকায় আগুন লেগেছে। সেটা দল করতে চায়নি। তাঁর বাড়িতে ২০০-৩০০ পুলিশ পৌঁছে গেল! তাঁর ছেলে-মেয়েকে রাস্তায় আটকে গাড়ির চাবি নিয়ে নেওয়া হল! তিন জন কে তুলে নিয়ে গিয়ে ব্যাপক মারধর করল পুলিশ। রাকেশ সিং কি কোনও সন্ত্রাসবাদী নাকি কোনও খুনের আসামী?’
তিনি যদিও রাকেশ সম্পর্কে বলতে গিয়ে সুর খানিক বদলে জানান, ‘কংগ্রেস সভাপতি খোলা চিঠিতেই জানিয়েছিলেন রাকেশ সিং একজন সমাজবিরোধী। তিনি তো আগে কংগ্রেসের নেতা ছিলেন। সেখান থেকে পরে বিজেপিতে আসেন।’ কিন্তু শমীকের সাফ জবাব, দলের অফিসে গিয়ে কর্মীরা প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সেই প্রতিবাদকে বিজেপি সমর্থন করছে, পতাকা জ্বালানোকে নয়।
কিন্তু পুলিশের বিরুদ্ধে, তাদের পদক্ষেপেও বেশ ক্ষুব্ধ শমীক। পুলিশের ভূমিকা টেনে তিনি বলেন, ‘রাকেশ সিংয়ের বিরুদ্ধে যেসব গুরুতর ধারায় মামলা করা হচ্ছে, তার পিছনে অন্য কারণ আছে। যে এলাকায় তিনি থাকেন, সেখানকার বহু মানুষের পরিত্রাতা তিনি। তাই সেখানের কিছু ব্লক ভোটারকে, দুধেল গাইকে খুশি করার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে মামলা নিয়ে এসেছে পুলিশ। দল এই ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং তার জন্য যা পদক্ষেপ করতে হয়, করা হবে।
যদিও এই হামলার ঘটনায় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার কড়া ভাষায় বিজেপিকে আক্রমণ করেন। তাঁর বক্তব্য, “রাহুল গান্ধীকে ভয় পেয়ে লুকিয়ে চোরের মতো হামলা করেছে বিজেপি। হরিয়ানা, মহারাষ্ট্রে ভোট চুরি করে জিতেছে ওরা। রাহুল গান্ধী প্রমাণ করে দিয়েছেন সত্যটা। এরা এক বর্বর দল।”
এরপরই কংগ্রেস নেতৃত্ব এন্টালি থানায় গিয়ে রাকেশ সিংয়ের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ইতিমধ্যে ঘটনায় রাকেশ সিংয়ের তিন ঘনিষ্ঠ অনুগামীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তবে মূল অভিযুক্ত বিজেপি নেতা এখনও অধরা। তাঁর খোঁজে বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।