
শেষ আপডেট: 8 March 2024 14:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের জেলগুলিতে মহিলা বন্দিদের গর্ভবতী হয়ে পড়ার ঘটনায় আগেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল শীর্ষ আদালত। এব্যাপারে উষ্মা প্রকাশ করেছিল কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চও। শুক্রবার ওই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে জেলে মহিলা বন্দিদের ঢোকা বেরনোর পথ আলাদা করার জন্য নির্দেশ দিল আদালত।
এদিন আদালত বান্ধব তাপস ভঞ্জ বিচারপতিকে জানান, “রাতের বেলা আদালত থেকে জেলে ঢোকার সময় মহিলা বন্দিদের কমন প্রবেশপথ দিয়ে ঢুকতে হয়। বডি সার্চের নাম করে মহিলা বন্দিদের শ্লীলতাহানি করা হয়। কারণ, কোনও মহিলা কারারক্ষী সেখানে থাকেন না। মূলত প্রভাবশালী পুরুষ জেলবন্দিরা সেই প্রবেশপথ নিয়ন্ত্রণ করে। এটা জেলগুলির নিত্যদিনের ঘটনা।“
এরপরই রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেলের উদ্দেশে বিচারপতির নির্দেশ, জেলে মহিলা বন্দিদের ঢোকা বেরনোর পথ আলাদা করতে হবে। এ ব্যাপারে রাজ্য কী পদক্ষেপ করছে, আগামী ৫ এপ্রিল মামলার পরবর্তী শুনানির দিন তা জানানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
একই সঙ্গে রাজ্যের জেলগুলিতে, কোথায় কত বন্দি রয়েছেন, তার নির্দিষ্ট রিপোর্ট আদালতে পেশ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ, একটি সুনির্দিষ্ট কমিটি তৈরি করে নির্দিষ্ট সময় অন্তর জেলগুলি পরিদর্শন করতে হবে আধিকারিকদের।
এদিন আদালতে বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, “জেলগুলিকে সংশোধনাগার বলার মূল কারণ যে বন্দিদের জীবনের মূল স্রোতে ফিরিয়ে দিতে হবে। সেজন্য জেলগুলিতে বিভিন্ন সংস্কৃতিমূলক এবং কর্মসংস্থানমুখী বেশ কিছু উদ্যোগ নিতে হবে। জেলে মিউজিক থেরাপি এবং নাচ গানের অনুষ্ঠান এর মাধ্যমে একজন কুখ্যাত বন্দি মুক্তি পেয়ে বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত শিল্পী তৈরি হয়েছে,ন এরকম উদাহরণ রয়েছে এই রাজ্যেই। সে ব্যাপারে রাজ্যকে আরও উদ্যোগী হতে হবে।”
এরপরই বিচারপতি জানান, রাজ্যের জেলগুলির সংস্কার করা প্রয়োজন। রাজ্যের সমস্ত জেলগুলিতে বন্দি সংখ্যা কমাতে হবে। বন্দি সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকায় জেলগুলিতে দুর্দশা বাড়ছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সাল থেকে সুপ্রিম কোর্ট সমস্ত রাজ্যকে জেল কোড প্রসিডিওর মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি কেন্দ্রের তরফে প্রকাশিত রিপোর্টে রাজ্যের জেলগুলির অমানবিক ব্যবস্থা ও দুর্দশা নিয়ে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়।