ঘটনার সূচনা বেশ কিছুদিন আগে। ওই ছাত্র নিজের হোয়াটসঅ্যাপ ডিসপ্লে পিকচারে অন্য একটি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রীকে ‘মাই ওয়াইফ’ লিখে পোস্ট করে। তাতে উত্তেজনা বাড়ে।

প্রতীকী ছবি।
শেষ আপডেট: 6 December 2025 09:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রানিগঞ্জের এক হাইস্কুলে (Raniganj High School) ঘটল ভয়াবহ নির্যাতন। অভিযোগ, স্কুলের বাথরুমে ডেকে নিয়ে গিয়ে নবম শ্রেণির এক ছাত্রকে হুমকি দিয়ে বিবস্ত্র করে ভিডিও তোলে একদল যুবক (the school student was stripped naked, video viral) )। পরে সেই ভিডিও (যার সত্যতা ‘দ্য ওয়াল’ যাচাই করেনি) ছড়িয়ে পড়তেই মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ে কিশোরটি। ১ ডিসেম্বর রাতে অপমান-লাঞ্ছনার ধাক্কায় বাড়িতেই আত্মহত্যার চেষ্টা করে সে। বাবার তৎপরতায় অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচে।
পরে ছেলের কাছ থেকেই পুরো ঘটনাটি জানতে পারেন তাঁর বাবা। সঙ্গে সঙ্গে রানিগঞ্জ থানায় এবং স্কুলের টিচার ইনচার্জের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
ঘটনার সূচনা বেশ কিছুদিন আগে। ওই ছাত্র নিজের হোয়াটসঅ্যাপ ডিসপ্লে পিকচারে অন্য একটি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রীকে ‘মাই ওয়াইফ’ লিখে পোস্ট করে। তাতে উত্তেজনা বাড়ে। পরে ছবি সরিয়ে দেওয়া হলেও মানসিক চাপে কয়েক দিন স্কুলে যায়নি ছাত্রীটি। দুই পরিবার আলোচনা করে বিষয়টি মিটিয়েছিল।
কিন্তু এরপরই—অভিযোগ—গত ১৩ নভেম্বর বাথরুমে ডেকে ছাত্রটিকে নগ্ন করে ভিডিয়ো তোলা হয়। পরে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিলে নতুন করে দফায় দফায় আঘাত পায় তার পরিবার।
সূত্রের খবর, অভিযুক্ত যুবকেরা আসানসোলের একটি কলেজের ছাত্র। কিন্তু তাঁরা গোটা অভিযোগই অস্বীকার করেছেন। জানিয়েছেন,“আমরা কোনও ভিডিও দেখিনি, কারও সঙ্গে জড়িত নই।”
অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশের বক্তব্য, “ঘটনায় দুই পরিবার ও দুই কিশোর-কিশোরী জড়িত। তাই তদন্তে তাড়াহুড়ো করা যাবে না।”
ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে থানায় ডেকে কথা বলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সতর্ক স্কুল কর্তৃপক্ষও। তারা জানিয়েছে, অভিযোগটি নিয়ে পরিচালন সমিতির জরুরি বৈঠক হবে। এক শিক্ষক সুভাষপ্রসাদের বক্তব্য , “আমাদের দু’টি ক্যাম্পাসে মাত্র একজন গ্রুপ–ডি কর্মী। একার পক্ষে সব নজর রাখা সম্ভব নয়।”
এ ব্যাপারে বিশিষ্ট মনোবিদ দেবাঞ্জন সাহা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “এ ধরনের ঘটনার পরে ছাত্র-শিক্ষকদের সঙ্গে মনোবিদদের নিয়মিত ইন্টারেকশন প্রয়োজন। আত্মহত্যা প্রতিরোধ, মোবাইলের ঝুঁকি—এসব নিয়ে খোলামেলা আলোচনা জরুরি।”
মনোবিদ ঈশিতা সান্যাল বলেন, “নবম শ্রেণির পড়ুয়াদের পরিপক্কতা কম। তাই স্কুলে অভিভাবক ও পড়ুয়াদের নিয়ে মোবাইল ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস হওয়া প্রয়োজন। মনোবিদ না থাকলে ভার্চুয়াল সেশনের ব্যবস্থা করতেই হবে।”
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রানিগঞ্জের ছাত্র নির্যাতনের এই ঘটনা শিক্ষাঙ্গনের নিরাপত্তা, মনোস্বাস্থ্য, মোবাইল ব্যবহারের সংস্কৃতি—সবকিছুকেই নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।