বিরোধী নেতার দাবি—দেশের অন্যান্য রাজ্য যেখানে দ্রুত ওয়াকফ সম্পত্তির তথ্য UMEED পোর্টালে আপলোড করেছে, সেখানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদাসীনতায় পড়ে আছে প্রায় ৮০ হাজার সম্পত্তি।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 10 December 2025 17:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওয়াকফ সম্পত্তি (Waqf Property) আপলোড সংক্রান্ত জটিলতা ঘিরে ফের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বুধবার তাঁর অভিযোগ—মমতার “মিথ্যাচার, বিভ্রান্তিকর রাজনীতি আর চৌর্যবৃত্তির” জেরেই রাজ্যের ৫৪ হাজার ওয়াকফ সম্পত্তি আপলোডের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
শুভেন্দুর বক্তব্য, “২০২১-এ মুসলিমদের ৯২ শতাংশ এবং ২০২৪-এ ৯১ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন যিনি, তিনিই আজ ওয়াকফ সম্পত্তি ইস্যুতে মুসলিম সমাজকে গাড্ডায় ফেলে দিলেন।” তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল নেতারাই একরের পর একর ওয়াকফ জমি দখল করে আছেন, তাই সরকার ইচ্ছে করেই কাজ আটকে রেখেছে।
ইমামদের ভূমিকাও তুললেন শুভেন্দু। প্রশ্ন ছুড়লেন, “যারা ২০২১-এ মমতার হয়ে প্রচার করেছিলেন, ভোটের সময় যেসব ইমামরা তাঁর সমর্থনে কথা বলেছিলেন—এখন তাঁরা কী বলবেন?
বিরোধী নেতার দাবি—দেশের অন্যান্য রাজ্য যেখানে দ্রুত ওয়াকফ সম্পত্তির তথ্য UMEED পোর্টালে আপলোড করেছে, সেখানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদাসীনতায় পড়ে আছে প্রায় ৮০ হাজার সম্পত্তি।
তাঁর কথায়, “তিন-তিনটি চিঠি পাঠিয়েছিল কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু দফতর—২৭ অক্টোবর, ১৮ নভেম্বর এবং ৪ ডিসেম্বর। অনেক দেরিতে নড়েচড়ে বসেছেন মুখ্যমন্ত্রীর সচিব পি বি সেলিম। ডিএমদের তৎপর হতে নির্দেশ দিতে হয়েছে।”
শুভেন্দুর আরও দাবি, কেন্দ্রের চারটি বৈঠকের মধ্যে দুটিতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের প্রতিনিধিরা—এনায়েতুর রহমান ও মহম্মদ হাসান আলি। “কিন্তু একটিও আপত্তি জানাননি তাঁরা। মুসলিম সমাজের স্বার্থ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আজ যাই বলুন, তাদের প্রতিনিধি কোনও প্রশ্নই তোলেননি।”
মমতার অতীত মন্তব্য নিয়েও আক্রমণ শানান শুভেন্দু। তাঁর কথায়, “ওনার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী বলেছিলেন কলকাতা অচল করে দেবেন। সেই সময় রাজ্যে দাঙ্গাও হয়েছে। আবার বলেছিলেন—দিল্লিতে গিয়ে আন্দোলন করুন, এখানে নয়। বিজেপিকে হিন্দুদের পার্টি বলে তকমা দিয়েছিলেন। এখন নিজেই ধর্মীয় সম্পত্তিকে ঝুলন্ত অবস্থায় রেখে দিয়েছেন।”
শুভেন্দুর কথায়, UMEED-এ এখনও যাদের তথ্য আপলোড হয়নি, তাঁদের সামনে একটাই পথ—সরাসরি সেন্ট্রাল ট্রাইবুনালে আবেদন করা।