প্রসঙ্গত, তৎকালীন অভিযোগ ছিল মাওবাদীরাই খুন করেছিল নিশিকান্তকে। পুলিশের তদন্তে আট জনের নাম ওঠে— তেলেগু দীপক, মধুসূদন মণ্ডল-সহ আরও অনেকে। মামলার শুনানি চললেও ২০২৩ সালের অক্টোবরে প্রমাণের অভাবে সবাইকে বেকসুর খালাস করে আদালত।

শান্তনু প্রামাণিক ও কুণাল ঘোষ।
শেষ আপডেট: 23 September 2025 15:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০০৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর। নন্দীগ্রামের সোনাচূড়ায় গুলিতে খুন হন ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির প্রথম সারির নেতা নিশিকান্ত মণ্ডল (Nandigram, Nishikant Mandal murder)।
১৬ বছর পরও সেই রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ঘিরে তর্ক, অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ থামেনি। সোমবার তাঁর স্মৃতিসৌধে মাল্যদান করতে গিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন খেজুরির বিজেপি বিধায়ক শান্তনু প্রামাণিক (Santanu Pramanik)।
শান্তনুর অভিযোগ, “নিশিকান্ত ছিলেন তৃণমূলের কাঁটা। ওঁর কাছে কিছু নেতারা পেরে উঠতে পারেনি। তাই রাতের অন্ধকারে মাওবাদীদের দিয়ে খুন করাল। অথচ আজ আবার ওরাই মালা দিতে আসে। হত্যা করবে আবার সমবেদনাও জানাবে।”
শান্তনুর এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে নাম না করে নিশানা করলেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। তাঁর খোঁচা, “খেজুরির বিজেপি বিধায়ক নিশিকান্ত খুনে কার দিকে ইঙ্গিত করছেন? তখন জেলায় কারা চালাতেন? তাঁদের অনেকেই তো এখন বিজেপিতে।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, কুণাল আসলে সরাসরি নাম না করলেও আঙুল তুলেছেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক তথা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দিকে (Suvendu Adhikari)। কারণ, নিশিকান্ত খুনের সময় পূর্ব মেদিনীপুরের দায়িত্বে ছিলেন শুভেন্দুই। তখন অবশ্য তিনি তৃণমূলের নেতা ছিলেন।
প্রসঙ্গত, তৎকালীন অভিযোগ ছিল মাওবাদীরাই খুন করেছিল নিশিকান্তকে। পুলিশের তদন্তে আট জনের নাম ওঠে— তেলেগু দীপক, মধুসূদন মণ্ডল-সহ আরও অনেকে। মামলার শুনানি চললেও ২০২৩ সালের অক্টোবরে প্রমাণের অভাবে সবাইকে বেকসুর খালাস করে আদালত।
এখন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে— নিশিকান্ত খুনে বিজেপি বিধায়কের অভিযোগ কি শুধুই রাজনৈতিক বার্তা, নাকি আসলেই অন্য কোনও ইঙ্গিত লুকিয়ে আছে? বিরোধী দলনেতা শুভেন্দুর প্রতিক্রিয়ার দিকেই এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।