দেশের মধ্যে প্রথম মুখ্যসচিব হিসেবে ইতিহাস গড়েছিলেন নির্মলা বুচ। মধ্যপ্রদেশে ১৯৯১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯৯৩ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 1 January 2026 21:04
১৯৯৬ সালের ২৬ নভেম্বর তৎকালীন জ্যোতি বসু সরকারের আমলে লীনা চক্রবর্তীকে (Leena Chakraborty) স্বরাষ্ট্রসচিব (Home Secretary) পদে নিয়োগ করা হয়েছিল। প্রায় দু’বছর তিনি ওই দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৯৮ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তাঁর কার্যকাল শেষ হয়। তার ঠিক ২৫ বছর পর পাকেচক্রে আর এক 'চক্রবর্তী' সেই দায়িত্বভার নিয়েছিলেন। তিনি নন্দিনী চক্রবর্তী (Nandini Chakraborty)। যে নন্দিনী সদ্য পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মহিলা মুখ্যসচিবের দায়িত্ব নিয়েছেন (Woman CS West Bengal)।
প্রশাসনিক জীবনে নন্দিনী চক্রবর্তীর পথচলা কখনও মসৃণ ছিল না। নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়েই তাঁর কেরিয়ার এগিয়েছে। ২০১১ সালে পালা বদলের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সঙ্গে তেমন সখ্য দেখা যায়নি। তবে তাঁকেই পরে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। পরবর্তী সময়ে এই নন্দিনী মুখ্যমন্ত্রীর আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন।
২০২২ সালের নভেম্বরে সিভি আনন্দ বোস (CV Anand Bose) রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নন্দিনীকে রাজ্যপালের প্রধান সচিব করা হয়। কিন্তু রাজভবনের আপত্তির জেরে অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁকে ওই পদ থেকে সরিয়ে পর্যটন দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে রাজ্যের স্পর্শকাতর পাহাড়ি অঞ্চলের দায়িত্বও অর্পণ করেন।
এরপর ২০২৩ সালের শেষ দিকে নন্দিনীকে স্বরাষ্ট্রসচিব পদে নিয়োগ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সিদ্ধান্ত তখন প্রশাসনিক মহলে যথেষ্ট আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। কাকতালীয় ভাবে, এ বারও ৩১ ডিসেম্বরেই নন্দিনীকে মুখ্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হল। খাতায়-কলমে তিনিই বাংলার প্রথম মহিলা মুখ্যসচিব।
দেশের একাধিক রাজ্যে প্রশাসনের সর্বোচ্চ পদ মুখ্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মহিলা আধিকারিকরা। কর্নাটকে যেমন এই মুহূর্তে শালিনী রজনীশ মুখ্যসচিবের পদ সামলাচ্ছেন, তেমনই সাম্প্রতিক সময়ে সেই তালিকায় নতুন সংযোজন ওড়িশার অনু গর্গ এবং পশ্চিমবঙ্গের নন্দিনী চক্রবর্তী। অর্থাৎ, এই মুহূর্তে দেশে মোট মহিলা মুখ্যসচিবের সংখ্যা তিনজন।
শালিনী রজনীশ, ১৯৮৯ ব্যাচের আইএএস অফিসার। তিনি কর্নাটকের মুখ্যসচিব হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন গত বছর ডিসেম্বরে।
১৯৯১ ব্যাচের আইএএস অফিসার অনু গর্গ। তিনি এতদিন ওড়িশার উন্নয়ন পর্ষদের দায়িত্বে ছিলেন। বিদায়ী মুখ্যসচিব মনোজ আহুজার কাছ থেকে পয়লা জানুয়ারি ২০২৬-এ আনুষ্ঠানিক ভাবে মুখ্যসচিবের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
এখন যখন বাংলার প্রথম মুখ্যসচিব হিসেবে নন্দিনী চক্রবর্তীর নাম নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তখন নীচে রাজ্যভিত্তিক যাঁরা প্রথম মহিলা মুখ্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাঁদের তালিকা তুলে ধরা হল—
বস্তুত, দেশের মধ্যে প্রথম মুখ্যসচিব হিসেবে ইতিহাস গড়েছিলেন নির্মলা বুচ। মধ্যপ্রদেশে ১৯৯১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯৯৩ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
নির্মলা বুচ ছিলেন ১৯৬০ ব্যাচের আইএএস অফিসার। প্রশাসনিক মহলে তিনি ‘আয়রন লেডি’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর কেরিয়ারে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন, যেমন— অর্থ ও শিক্ষাসচিব এবং প্রাক্তন পরিকল্পনা কমিশনে (বর্তমানে নীতি আয়োগ) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর। এই সময়ে তিনি গ্রামীণ উন্নয়ন ও পঞ্চায়েত রাজ ব্যবস্থার কাঠামো গঠনে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছিলেন।
অবসর গ্রহণের পর তিনি সামাজিক কাজে যুক্ত হন। বিশেষভাবে মহিলাদের ক্ষমতায়ন ও শিশু অধিকারকে কেন্দ্র করে নানা উদ্যোগে সক্রিয় ছিলেন। নির্মলা বুচের কর্মজীবন ও সমাজসেবার পথ তাকে প্রশাসন ও সমাজে এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
তবে, মুখ্যসচিব পদ নিয়েই যখন এত আলোচনা, তখন এই প্রতিবেদনের শেষটা এভাবে করলে ঠিক হবে না। তার কারণ '২৪ সালে এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থেকেছিল বামশাসিত কেরল।
মুখ্যসচিব স্বামীর অবসরগ্রহণের পর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন স্ত্রী। কেরল তো বটেই, স্বাধীন ভারতে আর কোথাও এমন ঘটনা ঘটেনি।
১৯৯০ সালের ব্যাচের আইএএস ভি বেণুর কর্মজীবনের মেয়াদ শেষ হয় ৩১ অগস্ট, ২০২৪। ওই দিনই নতুন মুখ্যসচিব হিসাবে তাঁর স্ত্রী তথা ১৯৯০ ব্যাচেরই আইএএস সারদা মুরলীধরনকে নিযুক্ত করে কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। স্ত্রী তথা মুখ্যসচিব পদে নিজের উত্তরসূরিকে প্রথামাফিক পুষ্পস্তবক দিয়ে স্বাগত জানিয়েছিলেন স্বামী ভি বেণু।