
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 9 April 2025 22:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জনজাতির বহু ফসলি জমি নষ্ট করে বছরের পর বছর ধরে পাথর মাফিয়ারা অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন ও খাদানের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ।
বীরভূমের রামপুরহাট থানার তারাচুয়া মৌজার ঘটনা। প্রশাসনকে জানিয়েও সমস্যারা সুরাহা না হওয়ায় কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মামলাকারীরা। অবিলম্বে ওই বেআইনি পাথর খাদান বন্ধ করার পাশাপাশি বীরভূম জেলার জেলাশাসককে ঘটনার তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি পার্থসারথি সেন।
মামলাকারী চাঁদ হালদার, বাসুমনি মান্ডি, চন্ডী কিসকু ও রবি হাসদারদের আইনজীবী আশিস কুমার চৌধুরীর অভিযোগ, কিছু কিছু জমির মালিকদের সঙ্গে পাথর মাফিয়ারা যুক্ত হয়ে আদিবাসী সম্প্রদায়ের জমি জোর করে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েও সমস্যার সমাধান হয়নি।
আদালতে মামলাকারীর পক্ষে আইনজীবী আশিস কুমার চৌধুরী বলেন, কোনও জায়গায় পাথর উত্তোলন বা পাথর খাদান করতে হলে কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকারের নির্দিষ্ট আইন মেনে এবং বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের থেকে আইনি অনুমতি নিয়েই এই ধরনের পাথর খাদান এবং পাথর উত্তোলনের কাজ করতে হয়।
কিন্তু সেই সমস্ত আইন নীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অন্যায়ভাবে যারা এই কাজের সাথে যুক্ত তাদের আইনি শাস্তির বিধান রয়েছে। কিন্তু রাজ্যের ভূমি রাজস্ব দফতর ও ভূমি সংস্কার দফতরের একাংশের যোগসাজসে পাথর মাফিয়ারা এভাবেই রমরমিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। যার ফলে স্থানীয় জনজাতির জীবন জীবিকার পাশাপাশি বিরাট অঙ্কের রাজস্ব ক্ষতির মুখে রাজ্য সরকারও।
গোটা ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিস্ময় প্রকাশ করে বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, রাজ্য সরকারের অনুমতি ছাড়া এই ধরনের অবৈধ কাজ কোনভাবেই সম্ভব নয়। মাইনিং অ্যাক্ট না মেনেই কীভাবে এই ধরনের খাদানের কাজ করে হচ্ছে সেই প্রশ্নও তোলেন বিচারপতি। এরপরই জেলা প্রশাসনকে অবিলম্বে পাথর খাদান বন্ধ করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।