দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা লড়াইয়ে ফের সাফল্যের পথে ভারত। কম খরচে অক্সিজেন জেনারেটর বানিয়ে নজির গড়লেন বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স (আইআইএসসি)-এর বিজ্ঞানীরা। এই ডিভাইস পরিবেশ থেকে অক্সিজেন ছেঁকে নেবে এবং সরাসরি চালান করবে সঙ্কটাপন্ন রোগীর শরীরে।
বাজারে অক্সিজেন জেনারেটরের দাম লাখ টাকার বেশি। ল্যাবরেটরিতে বাজারচলতি অক্সিজেন জেনারেটরের থেকেও আধুনিক প্রযুক্তির এমন জেনারেটরের খরচ পড়বে ১০ হাজার টাকার মধ্যেই। এই প্রজেক্টের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন আইআইএসসির অধ্যাপক রামামূর্তি, ডক্টর অরুণ রাও ও ভাস্কর কে।
অধ্যাপক রামামূর্তি বলেছেন, আইআইএসসির এই ল্যাবরেটরিতে সেন্সর ও ইলেকট্রনিক অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে কাজ হয়। লকডাউনের পর থেকেই করোনা রোগীদের চিকিৎসায় কম খরচে অক্সিজেন জেনারেটর বানানোর কাজ শুরু হয়েছে। রামামূর্তির কথায়, “অক্সিজেন জেনারেটরের দাম অনেক। বাজারে ৪০ হাজার টাকা থেকে এক লাখের মধ্যে বা কোনও ক্ষেত্রে তারও বেশি। আমাদের কাছে এই জেনারেটর বানানোর কিছু সামগ্রী ছিল। বাকিটা লকডাউনের মধ্যেও জোগাড় করার চেষ্টা করেছি। তাই দাম সাধ্যের মধ্যেই রাখা হয়েছে।” অধ্যাপক জানিয়েছেন, গ্রামীণ এলাকার হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে যেখানে দামি মেকানিক্যাল ভেন্টিলেটের খরচ সামলানো সম্ভব নয়, সেখানে কম টাকাতেই এমন আধুনিক অক্সিজেন জেনারেটর খুবই কাজে আসবে।
অধ্যাপক রামামূর্তি (ডান দিকে) ও ডক্টর অরুণ রাও
কীভাবে কাজ করবে এই অক্সিজেন জেনারেটর?
অধ্যাপক রামামূর্তি বলেছেন, বাতাসে ৭৮% নাইট্রোজেন, ২১% অক্সিজেন ও অন্যান্য গ্যাস থাকে। এখন এই অক্সিজেন জেনারেটরের কাজ হল বাতাস থেকে অক্সিজেন ছেঁকে বার করে নেওয়া। সেটা কীভাবে? এই অক্সিজেন জেনারেটর তার চারপাশের বাতাস শুষে নিয়ে সেটা জিওলাইট স্তরে পাঠিয়ে দেবে। জিওলাইট সূক্ষ্ম ছিদ্রবিশিষ্ট এমন প্রাকৃতিক খনিজ যা অনেকটা ছাঁকনির মতো কাজ করে। বিভিন্ন দ্রব্য শোষণ, বিশুদ্ধিকরণ ও পৃথকীকরণের জন্য এই খনিজ ব্যবহার করা হয়। শিল্প কারখানাতে, পেট্রোলিয়াম উৎপাদনে এই খনিজের চাহিদা আছে। প্রাকৃতিক উপায় বিভিন্ন খনিতে জিওলাইট পাওয়া গেলেও এখন অবশ্য বাণিজ্যিক হারে এই খনিজের চাহিদা বাড়ায় একে ল্যাবরেটরিতেও তৈরি করে নেওয়া হয়।
অধ্যাপক বলেছেন খুবই সাধারণ উপায় বাতাস শুদ্ধ করতে এই জিওলাইটের স্তরকেই ব্যবহার করা হয়েছে, যার কাজ অনেকটা স্পঞ্জের মতো। পরিবেশ থেকে শুষে নেওয়া বাতাসের মধ্যে থেকে নাইট্রোজেন ছেঁকে শুধুমাত্র অক্সিজেন পাঠিয়ে দেবে সাপ্লাই চ্যানেলে। এই পরিশুদ্ধ অক্সিজেনই রোগীর শরীরে ঢুকবে।
এই ডিভাইস ওজনেও হালকা, ৭০ শতাংশ অক্সিজেন সরবরাহ করতে সক্ষম। অধ্যাপক বলেছেন, এর গুণমান আরও বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। কম করেও ৯০ শতাংশ অক্সিজেন সরবরাহের জন্য এর পরিকাঠামোতে কিছু বদল আনা হচ্ছে। এই অক্সিজেন জেনারেটরের ট্রায়াল ইতিমধ্যেই সফল। অধ্যাপক রামামূর্তি বলেছেন, এর নয়া ভার্সনও বাজারে চলে আসবে কিছুদিনের মধ্যেই।
“খুব বড় আইসোলেশন ওয়ার্ডে এমন অক্সিজেন জেনারেটর খুবই কাজে আসবে। প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতে এর চাহিদা রয়েছে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা স্কুল-কলেজ ক্যাম্পাস যেখানে আইসোলেশন ইউনিট বানানো হয়েছে, সেইসব জায়গায় এমন অক্সিজেন জেনারেটর খুবই উপকারি প্রমাণিত হবে,” বলেছেন অধ্যাপক রামামূর্তি।