
কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি
শেষ আপডেট: 20 February 2025 17:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নীল-সাদা রঙ নিয়ে দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলায় হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির বড় প্রশ্নের মুখে পড়লেন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল।
ওই মামলায় ক্ষুব্ধ বিচারপতি রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেলের উদ্দেশে এও বলেন, "ভাগ্যিস জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চ হাউকোর্টের নজরদারিতে হচ্ছিল, না হলে ওখানেও তো আপনারা নীল-সাদা রঙ করে দিতেন!"
পালা বদলের বাংলায় রাজ্যের সমস্ত সরকারি অফিসের রঙ নীল-সাদা করা হয়েছে। একইভাবে ট্রাফিক গার্ডের গার্ডওয়ালেও নীল-সাদা রঙ করা হয়েছে। তা নিয়েই বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়েরের আবেদন জমা পড়েছিল। তবে আবেদনকারীর আবেদন পত্রে ট্রাফিক সংক্রান্ত ওই মামলার ছবি নিয়ে ডিসপুট থাকায় এদিন আদালত আবেদনটি গ্রহণ করেনি। তবে ওই মামলার সূত্র ধরেই রাজ্যকে নানাবিধ প্রশ্নে বিঁধেছেন প্রধান বিচারপতি।
মামলাকারীর অভিযোগ, কলকাতা এয়ারপোর্ট থেকে কলকাতায় প্রবেশ-সহ শহরের বিভিন্ন রাস্তায় গার্ডরেলে যে নীল-সাদা রঙ করা হয়েছে, তার ফলে রাতের দিকে দুর্ঘটনা বাড়ছে। কারণ, অন্ধকারে ওই নীল-সাদা রঙটা চালকেরা স্পষ্ট করে বুঝতে পারেন না। এক্ষেত্রে আগের মতো হলুদ বা সাদা-কালো রঙ করা হয়, তাহলে তা চালকদের পক্ষে সুবিধেজনক হয়। এতে দুর্ঘটনা কমবে।
ওই মামলাতেই হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, আমাদের নতুন করে আর কিছু বলার নেই। কলকাতা হাইকোর্টে নতুন যে চেয়ারগুলো দেওয়া হল, সেই চেয়ারগুলো এতটাই নিম্নমানের যে সেগুলো বসতে গিয়ে বহু আইনজীবী পড়ে গিয়েছেন!
এরপরই সার্কিট বেঞ্চের প্রসঙ্গ টেনে রাজ্যকে বিঁধেছেন প্রধান বিচারপতি। যা নিয়ে এদিন হাইকোর্টে হাসির রোলও উঠতে দেখা যায় আইনজীবীদের একাংশের মধ্যে। তবে টিপ্পনির সুরে তাঁরা বলেন, হাইকোর্টের রঙে সার্কিট বেঞ্চের রঙ করা হয়েছে ঠিকই তবে দেওয়াগুলো কিন্তু সেই নীল-সাদা।
ছবি সংক্রান্ত সমস্যা থাকায় আবেদনকারীকে পুনরায় আদালতে আবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। আগামী সপ্তাহে মামলার শুনানি হবে।