শুভেন্দুর আরও বক্তব্য, “এই আন্দোলন রাজনীতির নয়। এটা এক মা-বাবার বিচারের লড়াই। সেখানে পুলিশ যদি উস্কানিমূলক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তার পরিণতি ভয়াবহ হবে। এই আন্দোলনের পথে যদি একটিও রক্ত ঝরে, তার প্রতিশোধ বাংলার মানুষ নেবে। প্রশাসনকে কড়া বার্তা দিয়ে রাখলাম।”

শুভেন্দু অধিকারী।
শেষ আপডেট: 8 August 2025 23:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেখতে দেখতে বছর পার। ৯ অগস্ট, ২০২৪ - কলকাতার অন্যতম সরকারি মেডিক্যাল কলেজ আরজি করের (RG Kar Case) চতুর্থ তলার সেমিনার হলে মিলেছিল এক তরুণী চিকিৎসক পড়ুয়ার রক্তাক্ত দেহ। ময়নাতদন্তে স্পষ্ট ধর্ষণের পর খুন। ওই ঘটনায় বিচারহীনতার অভিযোগে আগামিকাল ৯ অগস্ট, নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে নবান্ন অভিযানের (Nabanna Abhijan) ডাক দেওয়া হয়েছে। সেই আন্দোলনে অংশ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন নিহত তরুণীর বাবা-মা। তাঁদের এই ডাকে ইতিমধ্যেই সাড়া মিলেছে রাজ্যের নানা স্তরের মানুষের তরফে।
অন্যদিকে, এই অভিযান রুখতে প্রশাসনও কড়া প্রস্তুতি নিচ্ছে। নবান্ন ও সংলগ্ন এলাকায় কড়া নজরদারি ও পুলিশি টহল জারি রয়েছে। ব্যারিকেড, রাস্তায় নজরদারি ও সম্ভাব্য ধরপাকড়ের আশঙ্কায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক আবহ।
এই আবহেই রাজ্য প্রশাসনের উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari )। শুক্রবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট বলেন, “নবান্ন অভিযানে অভয়ার মা-বাবার ডাকে যাঁরা সামিল হবেন, তাঁদের কারও গায়ে যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশ হাত তোলে, তাহলে গোটা পশ্চিমবঙ্গ ৭২ ঘণ্টা স্তব্ধ করে দেওয়া হবে। তার দায় সম্পূর্ণভাবে নিতে হবে মুখ্যমন্ত্রীকে।”
শুভেন্দুর আরও বক্তব্য, “এই আন্দোলন রাজনীতির নয়। এটা এক মা-বাবার বিচারের লড়াই। সেখানে পুলিশ যদি উস্কানিমূলক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তার পরিণতি ভয়াবহ হবে। এই আন্দোলনের পথে যদি একটিও রক্ত ঝরে, তার প্রতিশোধ বাংলার মানুষ নেবে। প্রশাসনকে কড়া বার্তা দিয়ে রাখলাম।”
তবে বিরোধী দলনেতার এই হুঁশিয়ারি ঘিরে রাজনীতির পারদ চড়ছে। প্রশাসনের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে নবান্ন অভিযানে পুলিশি প্রস্তুতি যেভাবে জোরকদমে চলছে, তাতে বড়সড় সংঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
হঠাৎ শুভেন্দুর এঙেন হুঁশিয়ারির কারণ কী?
বিরোধী দলনেতা নিজেই জানান, ৯ অগস্টের নবান্ন অভিযানে যাঁরা শামিল হবেন তাঁদের জল, খাবারের ব্যবস্থা করছে একটি এনজিও। এদিন সাঁতরাগাছিতে রেলের জায়গায় ওই সংস্থার কর্মীরা যখন দাঁড়িয়েছিলেন তখন সাতজন আইপিএসের নেতৃত্বে কয়েকশো পুলিশ তাঁদের ঘিরে ধরে।
বিরোধী দলনেতা বলেন, "আমি ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিলাম। কিছু একটা গোলমাল হচ্ছে বুঝতে পেরে গাড়ি ঘোরাতেই পুলিশ পালিয়ে যায়। তাই পুলিশকে হুঁশিয়ারি দিয়ে একথা জানিয়ে রাখলাম।"
শুভেন্দুর অভিযোগ, মানুষ যাতে নবান্ন অভিযানে শামিল না হন, তাই একটা ভয়ের বাতাবরণের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। যেভাবে লোহার বড় বড় কন্টেনার দিয়ে নবান্নের অনেক আগেই রাস্তা আটকাতে এদিন থেকে পুলিশ তৎপর তা নিয়েও কটাক্ষ করেছেন বিরোধী দলনেতা।
শুভেন্দুর অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রশাসনের কোনও প্রতিক্রিয়া না জানা গেলেও এদিন বিকেলেই রাজ্য পুলিশের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নবান্ন অভিযানের কোনও অনুমতি দেওয়া হয়নি। তারপরও অভিযানে এলে প্রয়োজনীয পদক্ষেপ করা হবে।