
শেষ আপডেট: 19 October 2023 23:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের জেরে পুজোর মাঝে নবমী, দশমীতে বৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারই জেরে কলকাতার ছোঁয়া এবার জেলাতেও।
মেদিনীপুর থেকে মালদহ কিংবা বাঁকুড়া থেকে বোলপুর সর্বত্র পঞ্চমীতেই আগে ভাগে ঠাকুর দেখার হিড়িক পড়ে গিয়েছে। বহু জায়গায় এদিন দুপুরে দেবীর বোধন হয়নি। সে সবের তোয়াক্কা না করে দর্শনার্থীদের লম্বা লাইন দেখা গিয়েছে। বেলা গড়িয়ে সন্ধে হতেই ভিড় কার্যত জনসমুদ্রের আকার নিয়েছে।
মেদিনীপুরের রবীন্দ্রনগর সর্বজনীন পুজো কমিটির এবারের থিমে তুলে ধরা হয়েছে মানুষের জীবনের ব্যস্ততার ছবি। 'সময়ের সমুদ্রে আছে, কিন্তু এক মুহুর্তের সময় নেই'! চারিদিকে বিভিন্ন সাইজের ঘড়ি, সিঁড়ি দিয়ে বোঝানো হয়েছে কেউ তড়তড়িয়ে ওপরে উঠছেন, কেউ বা সময়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে হাঁপিয়ে উঠছেন। পঞ্চমীর দুপুর থেকেই এখানে রীতিমতো ঠাকুর দেখার লাইন। সন্ধেয় চারিদিকে থিক থিক করছে কালো মাথার ভিড়।
যা দেখে স্তম্ভিত শহরের বাসিন্দা অনয় মাইতি। অনয় বলছিলেন, “এই মেদিনীপুরেই বেড়ে ওঠা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছু বদল ঘটতে দেখলাম। কিন্তু মফঃস্বল শহরে এভাবে পঞ্চমী থেকেই মানুষের ঠাকুর দেখার হিড়িক আগে কখনও দেখিনি।”
তথৈবচ হাল অন্য জেলাতেও। বাঁকুড়ার শুশুনিয়ায় আমরা সবাই ক্লাবের মণ্ডপে ঢুকলে আপনার গুলিয়ে যেতে পারে, কলকাতা নাকি বাঁকুড়া কোথায় দাঁড়িয়ে আছেন আপনি! কলকাতার সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের রামমন্দিরের আদলে হুবহু মণ্ডপ তৈরি হয়েছে এখানে। দুপুর থেকেই মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গিয়েছে। সন্ধেয় রীতিমতো জনপ্লাবন।
বাঁকুড়ার কলেজ শিক্ষিকা অনুশ্রী মাইতির কথায়, “কলকাতায় চতুর্থী, পঞ্চমী থেকে উপচে পড়া ভিড় হয় ঠিকই, তবে জেলাতেও যে এভাবে দেবী বোধনের আগেই মানুষের লাগামছাড়া ভিড় হবে সেটা কল্পনাতেও ভাবিনি।”
মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গিয়েছে দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, বর্ধমান, ঝাড়গ্রাম সহ প্রায় প্রতিটি জেলাতেই। তথৈবচ হাল উত্তরবঙ্গেও। পঞ্চমী থেকেই কেন এত ভিড়? ওয়াকিবহাল মহলের মতে, যেভাবে নতুন করে পুজোর মাঝে বৃষ্টির ভ্রুকুটি দেখা দিয়েছে, তাতে কেউ আর ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। সকলেই চাইছেন আগেভাগে নিজের পছন্দের মণ্ডপ ঘুরে ফেলতে। সেকারণেই কলকাতার ছোঁয়া এবার জেলাতেও। দেবী বোধনের আগেই উপচে পড়া ভিড় জেলায় জেলায়।