হরিশ্চন্দ্রপুরে প্রশাসনিক বৈঠক থেকে মালদহের জেলাশাসক নীতিন সিংহানিয়ার সাফ বার্তা , ‘জেসিবি লাগাও, উসকো হঠাও!’
.jpeg.webp)
প্রশাসনিক বৈঠকে জেলাশাসক।
শেষ আপডেট: 17 July 2025 12:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সরকারি জমি জবরদখল (Government Land occupied)? এবার চলবে বুলডোজার (Bulldozer)!
সরকারি জমি দখলকারীদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিল মালদহ জেলা প্রশাসন (Strict instructions)। বুধবার হরিশ্চন্দ্রপুরে প্রশাসনিক বৈঠক থেকে মালদহের জেলাশাসক (Maldah District Magistrate) নীতিন সিংহানিয়ার সাফ বার্তা, ‘জেসিবি লাগাও, উসকো হঠাও!’ সরাসরি থানার আইসি-কে নির্দেশ, ‘‘দখল হওয়া জমি দখলমুক্ত করতেই হবে। নজরদারিও করতে হবে আপনাকেই।’’
প্রশাসন সূত্রের খবর, হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ও ২ নম্বর ব্লকের ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন জেলাশাসক। ছিলেন মহকুমা শাসক সৌভিক মুখোপাধ্যায়, হরিশ্চন্দ্রপুর থানার আইসি মনোজিৎ সরকার, দুই বিডিও এবং স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রতিনিধিরা। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী তথা স্থানীয় বিধায়ক তাজমুল হোসেনও।
জানা গিয়েছে, পঞ্চায়েত স্তরে উন্নয়নের খতিয়ান পর্যালোচনা করতেই এদিনের বৈঠক। তবে বৈঠকে একাধিক পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ওঠে, সরকারি বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও তা কাজে লাগানো হয়নি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শুরু না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হন জেলাশাসক।
জেলাশাসকের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, ‘‘যাদের কাছে টাকা রয়েছে, অথচ কাজ করছে না, তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কাজ শেষ করতে হবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই। কেউ রেহাই পাবে না।’’
তবে প্রশাসনের সবচেয়ে কড়া বার্তাটি এসেছে জমি দখল প্রসঙ্গে। জেলার একাধিক প্রান্ত থেকে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ পেয়ে আগেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। তারই স্পষ্ট প্রতিফলন ঘটে বৈঠকে। জেলাশাসক বলেন, ‘‘যেখানে দখল হয়েছে, সেখানে জেসিবি চালিয়ে দখলমুক্ত করতে হবে।’’
বৈঠকের শেষে হরিশ্চন্দ্রপুরের বারোদুয়ারি ডিয়ার পার্কে দু’টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন জেলাশাসক। জানান, ‘‘জেলায় উন্নয়নের গতি আরও বাড়াতে নজরদারি বাড়ানো হবে। অনিয়ম চলবে না।’’
সরকারি জমি রক্ষা এবং পঞ্চায়েত উন্নয়ন, এই দুই ক্ষেত্রেই এখন মালদহ প্রশাসনের লক্ষ্য একটাই, কড়া মনিটরিং, দ্রুত কাজ। তবে জেলাশাসকের বুলডোজারা চালানোর নির্দেশ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল তৈরি হয়েে।