
শেষ আপডেট: 18 July 2020 18:30
আইসিএমআরের এক বিজ্ঞানী জানিয়েছেন, করোনা সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে যে রাজ্যগুলিতে সেখানেই যক্ষ্মার টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ হবে। প্রাথমিকভাবে ৬টি রাজ্যে ট্রায়াল শুরু হবে। বয়স্কদেরই টিকা দেওয়া হবে। ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি যাঁদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, বিসিজি ভ্যাকসিন তাঁদের শরীরে ‘ইমিউন বুস্টার‘ হিসেবে কাজ করবে বলেই আশা করা যায়।
আইসিএমআরের গবেষক ডক্টর নিবেদিতা গুপ্ত বলেছেন, টাস্ক ফোর্স ও অন্যান্য বিজ্ঞানীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। গত ৫০ বছর ধরে ‘ন্যাশনাল ইমিউনাইজেশন প্রোগ্রাম’-এ সদ্যোজাতদের বিসিজির টিকা দেওয়া হয়। এই টিকা শিশু মৃত্যুর হার কমায়। ‘নিউ ইয়র্ক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি’ (এনওয়াইআইটি)বিজ্ঞানীরাও দাবি করেছেন, কোভিড-১৯ সংক্রমণ ঠেকাতে পারে বিসিজি ভ্যাকসিন। এই টিকা দিলে শরীরে যে পরিমাণ অ্যান্টিবডি তৈরি হয় তা শুধু যক্ষ্মা প্রতিরোধী নয়, অন্যান্য সংক্রামক রোগেরও মোকাবিলা করতে পারে।
আইসিএমআর জানিয়েছে, বয়স্ক ব্যক্তিদের ০.১ এমএল ডোজে বিসিজি ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। নির্দিষ্ট সময় অন্তর ভ্যাকসিনের ডোজ দেওয়া হবে। যাঁদের টিকা দেওয়া হবে তাঁদের অন্তত ৬ মাস পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এই সময়ের মধ্যে শরীরে কতটা অ্যান্টিবডি তৈরি হল, কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেল কিনা সেটা পরীক্ষা করা হবে।
করোনা সংক্রমণ রুখতে বিসিজি ভ্যাকসিন কার্যকরী হতে পারে এমন দাবি করেছেন দিল্লির জওহরলাল নেহুরু ইউনিভার্সিটির (জেএনইউ)গবেষকরাও।ছ’রকমের বিসিজি স্ট্রেন নিয়ে তাঁরা কোভিড প্রতিরোধী টিকা তৈরি করছেন। বিসিজি পাস্তুর, বিসিজি টোকিও, বিসিজি ড্যানিশ, বিসিজি রাশিয়া ইত্যাদি স্ট্রেন থেকে তৈরি ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চলছে বিশ্বের নানা দেশে। ভারতে সব স্ট্রেনের কম্বিনেশনে টিকা তৈরি হয়েছে। জেএনইউ-র গবেষকদের দাবি যে কোনও ভাইরাল প্রোটিনের মোকাবিলা করতে সক্ষম এই টিকা।