দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন বিজ্ঞানীরা। বিশেষত, ভ্যাকসিন বিশেষজ্ঞ গগনদীপ কংয়ের বক্তব্য, তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল ও সেফলটি ট্রায়ালের বিস্তারিত তথ্য আসার আগেই কীভাবে কোভ্যাক্সিনকে ছাড়পত্র দিল কেন্দ্রীয় ড্রাগ নিয়ামক সংস্থা। টিকার সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন গগনদীপ। জবাবে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)-এর ডিরেক্টর বলরাম ভার্গব বলেছেন, কোভ্যাক্সিন টিকা মানুষের শরীরে কার্যকরী হয়েছে। করোনার নতুন মিউট্যান্ট স্ট্রেন থেকেও সুরক্ষা দিতে পারবে এই টিকা।
শনিবারই জরুরি ভিত্তিতে কোভ্যাক্সিন টিকাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এরপরেই প্রশ্ন উঠেছে, হায়দরাবাদের কৃষ্ণা এল্লার সংস্থা ভারত বায়োটেক ও আইসিএমআরের যৌথ উদ্যোগে তৈরি কোভ্যাক্সিন টিকার সেফটি ট্রায়ালের বিস্তারিত তথ্য কোথায়। কোনও মেডিক্যাল জার্নালে এই টিকার ট্রায়ালের বিস্তারিত তথ্যও প্রকাশিত হয়নি। তাহলে কীভাবে কোভ্যাক্সিন টিকাকে এখনই ছাড় দেওয়া হল। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকার প্রথম দুই পর্যায়ের ট্রায়াল রিপোর্ট সামনে এনেছিল ল্যানসেট মেডিক্যাল জার্নাল। ফাইজার ও মোডার্নার টিকার প্রতি পর্যায়ের ট্রায়াল রিপোর্টের বিস্তারিত তথ্য সামনে আনে দ্য নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন। ভারত বায়োটেকের টিকার তথ্য এখনও অবধি কোনও সায়েন্স বা মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত হয়নি।
কোভ্যাক্সিন টিকা নিয়ে যাবতীয় দ্বিধা-দ্বন্দ্বের ব্যাখ্যা দিয়ে আইসিএমআর প্রধান বলেছেন, যে কোনও টিকা আগে পশুদের শরীরে পরীক্ষা করে অ্যানিমাল ট্রায়ালের রিপোর্ট সামনে আনা হয়। ভারত বায়োটেক আগেই তা করেছে। রেসাস প্রজাতির বাঁদরদের শরীরে এই টিকা দুর্দান্ত কাজ করেছে। দেশের তৈরি টিকাগুলির মধ্যে প্রথম অ্যানিমাল ট্রায়ালের রিপোর্ট ভারত বায়োটেকই জানায়।
মানুষের শরীরে ট্রায়ালের সময় দেখা যায় এই টিকা ৯৫ শতাংশ কার্যকরী হয়েছে। গবেষকরা বলছেন, কোভ্যাক্সিন টিকা তথা BBV152 ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট করোনার স্ট্রেন নিষ্ক্রিয় করে তৈরি, অর্থাৎ ইনঅ্যাকটিভ ভ্যাকসিন। বায়োসেফটি লেভেল-৩ ল্যাবোরেটরির সুবিধা থাকায় ভারত বায়োটেকের ভাইরোলজিস্টরা সংক্রামক ভাইরাল স্ট্রেনের বিশেষ অংশ চিহ্নিত করে তাকে আলাদা করে নিয়েছেন। এরপরে সেই সংক্রামক স্ট্রেনকে বিশেষ বিজ্ঞানসম্মত উপায় পিউরিফাই করে তাকে নিষ্ক্রিয় বা ইনঅ্যাকটিভ (Inactive) করেছেন । এই নিষ্ক্রিয় ভাইরাল স্ট্রেন দুর্বল, তার সংক্রমণ ছড়ানো বা দেহকোষে ঢুকে প্রতিলিপি তৈরি করে সংখ্যায় বাড়ার ক্ষমতা নেই। কাজেই মানুষের শরীরে প্রয়োগ নিরাপদ ও সুরক্ষিত। পাশাপাশি এই স্ট্রেন শরীরে ঢুকলে করোনার প্রোটিনের নকল করে মেমরি-বি কোষকে সক্রিয় করে তুলতে পারে। অ্যাডাপটিভ ইমিউন রেসপন্স তৈরি করতে পারে।
এর আরও একটা সুবিধা হল করোনার নতুন মিউট্যান্ট বি.১.১.৭ স্ট্রেনকেও নিষ্ক্রিয় করার ক্ষমতা রাখে কোভ্যাক্সিন। নতুন স্ট্রেনে ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনে দুই অ্যামাইনো অ্যাসিডের কোডের বদল হচ্ছে। প্রোটিনের বিন্যাস বদলে N501Y মিউটেশন বা জিনের গঠন রাসায়নিক বদল ঘটাচ্ছে ভাইরাস। এই কারণেই এই স্ট্রেনের দ্রুত বিভাজিত হয়ে প্রতিলিপি তৈরির ক্ষমতা বাড়ছে। কোভ্যাক্সিন এই প্রতিলিপি তৈরির প্রক্রিয়াকে থামিয়ে দিতে পারে বলেই দাবি গবেষকদের। কোভ্যাক্সিনে করোনার স্ট্রেন ছাড়াও ইমিউনোজেন (এপিটোপ) ব্যবহার করা হয়েছে। এই ইমিইনোজেন যে কোনও ভাইরাল জিনের বিরুদ্ধে মোকাবিলা করতে পারে বলেই দাবি গবেষকদের।