ফিরহাদের বক্তব্য, “মনে রাখতে হবে, প্রত্যেকের বাড়িতে মা, বোন আছে। যারা মেয়েদের সম্মান করে না, তারাই এই পশুবৃত্তি করে। এখন সময় এসেছে সমাজকে একসঙ্গে দাঁড়ানোর।”

নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 23 October 2025 15:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রতিবছরের মতো এবারও ভাইফোঁটার (Bhaiphonta) দিনে দিদি-বোনেদের হাত থেকে ফোঁটা নিলেন তিনি। কিন্তু উৎসবের হাসির মাঝেই কড়া বার্তা দিলেন কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)।
একের পর এক ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তাঁর মন্তব্য—“আমাদের বোনেরা যেমন আজ আমাদের দীর্ঘজীবন কামনা করছে, তেমনই আমাদেরও শপথ নিতে হবে—বোনেদের সম্মান রক্ষায় (Protection of women) যদি প্রাণও যায়, তবু লড়ব।”
চেতলা অগ্রণী ক্লাবে প্রতিবছরের মতো এ বছরও ভাইফোঁটার আয়োজন ছিল জমজমাট। শহরের নানা প্রান্ত থেকে এসেছিলেন দিদি-বোনেরা। সেখানেই সাংবাদিকদের সামনে মুখ খোলেন মন্ত্রী। তাঁর কণ্ঠে ক্ষোভ, “যাঁরা মেয়েদের অসম্মান করেন, তাঁরা মানুষ নন। তাঁদের সমাজ থেকে আলাদা করে দিতে হবে। একটা নারীর অসম্মান মানে গোটা মানবজাতির লজ্জা।”
ফিরহাদের এই মন্তব্য এসেছে এমন সময়ে, যখন একের পর এক নারী নির্যাতনের ঘটনায় রাজ্য জুড়ে তীব্র ক্ষোভ। গত বছর আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে ডাক্তারি ছাত্রীর ধর্ষণ-খুনের পর জয়নগর, কসবা, নিউটাউন, জোকা—রাজ্যের নানা প্রান্তে সামনে এসেছে একইরকম নৃশংস অভিযোগ। সম্প্রতি বেঙ্গালুরুর ভাড়াবাড়িতেও এক তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনায় তোলপাড় দেশ।
ফিরহাদের বক্তব্য, “মনে রাখতে হবে, প্রত্যেকের বাড়িতে মা, বোন আছে। যারা মেয়েদের সম্মান করে না, তারাই এই পশুবৃত্তি করে। এখন সময় এসেছে সমাজকে একসঙ্গে দাঁড়ানোর।”
শুধু প্রশাসনিক পরিচয় নয়, ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তির জন্যও রাজনীতির মঞ্চে আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম। মুসলমান হয়েও দুর্গাপুজো, কালীপুজো, ভাইফোঁটা—সব উৎসবে তাঁর স্বচ্ছন্দ উপস্থিতি তাঁকে করে তুলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের এক বিশ্বস্ত মুখ।
তাঁর কথায়, “ধর্মের উপরে সম্পর্ক। ভাই-বোনের বন্ধন কোনও ধর্ম মানে না—এটাই আমাদের বাংলার সংস্কৃতি।”