বিধানসভা ভোটে (West Bengal Election 2026) নিয়ে এমনিতেই রাজ্য রাজনীতি সরগরম। তার মধ্যেই আই প্যাক মামলা (I PAC Case Supreme Court) নিয়ে বুধবার তীব্র আইনি লড়াই চলল সুপ্রিম কোর্টে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুপ্রিম কোর্ট
শেষ আপডেট: 18 March 2026 16:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভা ভোটে (West Bengal Election 2026) নিয়ে এমনিতেই রাজ্য রাজনীতি সরগরম। তার মধ্যেই আই প্যাক মামলা (I PAC Case Supreme Court) নিয়ে বুধবার তীব্র আইনি লড়াই চলল সুপ্রিম কোর্টে। এদিন শীর্ষ আদালতে সওয়াল-জবাবের সময়ে রাজ্যের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবাল ও শ্যাম দিওয়ান প্রশ্ন তোলেন, ইডি কি আদৌ কোনও ‘মৌলিক অধিকার’ লঙ্ঘনের দোহাই দিয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে? তাঁদের দাবি, তদন্ত করা কোনও জন্মগত অধিকার নয়, বরং স্রেফ আইনের একটি ক্ষমতা মাত্র।
বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র ও বিচারপতি এন ভি অঞ্জারিয়ার বেঞ্চে এদিন শুনানি শুরু হওয়ার পর রাজ্যের আইনজীবী শ্যাম দিবান মুলতবির আবেদন করে আরও সময় চান। তাঁর বক্তব্য ছিল, ইডি যে ‘রিজয়েন্ডার অ্যাফিডেভিট’ জমা দিয়েছে, তাতে নতুন কিছু অভিযোগ ও তথ্য যুক্ত হয়েছে। সেগুলির জবাব প্রস্তুত করতে সময় প্রয়োজন। কিন্তু ইডির পক্ষের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এই আবেদন তীব্রভাবে বিরোধিতা করেন। তাঁর সাফ বক্তব্য, এটি শুধুই শুনানি বিলম্ব করার কৌশল। আদালতকে তিনি জানান, চার সপ্তাহ আগেই ওই নথি জমা পড়েছে, ফলে রাজ্যের কাছে পর্যাপ্ত সময় ছিল জবাব দেওয়ার।
এই অবস্থায় শীর্ষ আদালতও রাজ্যের যুক্তিতে সন্তুষ্ট হয়নি। বিচারপতি মিশ্র স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আপনারা আদালতকে নির্দেশ দিতে পারেন না। রেকর্ডে যা আছে, সবই বিবেচনা করা হবে।” একইসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, “এখানে যেন স্থগিতাদেশ নিয়েই লড়াই চলছে।”
আবার এক সময়ে বিচারপতি মিশ্র তাঁর পর্যবেক্ষণে এও বলেন, “কোনও মুখ্যমন্ত্রী যদি কেন্দ্রীয় সংস্থার কাজে বাধা দেন, তাহলে অস্বাভাবিক পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।”
আবার রাজ্য সরকারের তরফে আইনজীবীরা তাঁদের সওয়ালে বলেন, ইডির মতো একটি কেন্দ্রীয় দফতর যদি সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে সরাসরি রাজ্যের বিরুদ্ধে রিট পিটিশন করতে পারে, তাহলে তা দেশের সাংবিধানিক ভারসাম্যের জন্য বিপজ্জনক নজির তৈরি করবে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে আইনজীবী কপিল সিবাল সোজাসুজি ইডির রিট পিটিশনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি পিএমএলএ (PMLA) আইনের বিভিন্ন ধারা উল্লেখ করে বলেন, “তদন্ত করা কোনও মৌলিক অধিকার নয়। এটি আইনের দ্বারা নির্ধারিত একটি ক্ষমতা মাত্র। যখন কোনও অধিকারই নেই, তখন কোন ভিত্তিতে ইডি সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদ ব্যবহার করে মামলা করছে?” সিবালের যুক্তি, ইডি নিজে থেকে সিবিআই তদন্তের দাবিও করতে পারে না, কারণ তার জন্য নির্দিষ্ট আইনি কাঠামো রয়েছে।
রাজ্যের অন্য এক আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান এদিন ‘প্রেসিডেন্সিয়াল রেফারেন্স’ মামলার প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তাঁর মতে, সংবিধানের ১৩১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কেন্দ্র ও রাজ্যের বিরোধ নিষ্পত্তির যে আইনি পথ রয়েছে, এই মামলা তার পরিপন্থী কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি মনে করিয়ে দেন, কেন্দ্রীয় সংস্থা হিসেবে ইডির ক্ষমতা আইনের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত।
সিবাল বলেন, যদি তল্লাশির সময়ে কোনও সরকারি কর্মীকে কাজে বাধা দেওয়া হয়ে থাকে, তবে তার প্রতিকার ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’র (BNS) ২২১ নম্বর ধারাতেই রয়েছে। তার জন্য সুপ্রিম কোর্টে আসার প্রয়োজন নেই।
ইডির পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, তাঁরা সিবিআই তদন্ত চাইছেন না। ইডির মূল অভিযোগ ছিল তল্লাশির সময় তাদের আধিকারিকদের নিরাপত্তা নিয়ে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, আইপ্যাক অফিসে অভিযানের সময় তাদের আধিকারিকরা হুমকির মুখে পড়েছিলেন এবং প্রশাসনিক স্তরে তাতে বাধা দেওয়া হয়েছিল।
দু' পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র জানান, মামলার মূল উদ্দেশ্য ঠিক কী, সেটাই এখন বিবেচনার বিষয়। সিবাল পাল্টা বলেন, কোনও ‘প্রেডিকেট অফেন্স’ বা প্রাথমিক অপরাধের প্রমাণ ছাড়া ইডি তদন্তেই নামতে পারে না। সব শোনার পর শীর্ষ আদালত জানায়, এই মামলা ২৪ মার্চ অর্থাৎ সামনের সপ্তাহে ফের শোনা হবে।
যার অর্থ বাংলায় ভোট নিয়ে উত্তপ্ত পরিবেশের মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে ইডি মামলার শুনানি চলবে।