দ্য ওয়াল ব্যুরো : একসময় ভারতে তৈরি কোভিশিল্ড (Covishield) ভ্যাকসিন নিয়ে আপত্তি তুলেছিল ব্রিটেন। কিন্তু শুক্রবার রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভার সভাপতি আবদুল্লা শাহিদ বলেন, তিনি নিজে ভারতে তৈরি কোভিশিল্ডের দু'টি ডোজ নিয়েছেন। বিশ্বের এক বিরাট অংশের মানুষই ওই ভ্যাকসিন নিচ্ছেন।
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে শাহিদকে কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। তিনি বলেন, "আপনারা একটা টেকনিক্যাল প্রশ্ন করেছেন। আমি ভারত থেকে কোভিশিল্ড ভ্যাকসিন পেয়েছি। তার দু'টো ডোজও নিয়েছি। আমি জানি না কোন দেশ কোভিশিল্ডকে স্বীকৃতি দিচ্ছে না। কিন্তু বিশ্বের এক বড় অংশের মানুষই ওই ভ্যাকসিন নিচ্ছেন।"
ভারত এখনও পর্যন্ত ১০০ টি দেশে ভ্যাকসিনের ৬ কোটি ৬৬ লক্ষ ডোজ পাঠিয়েছে। শাহিদ মালদ্বীপের নাগরিক। প্রথম যে দেশগুলি ভারত থেকে ভ্যাকসিন আমদানি করেছে, তাদের মধ্যে মালদ্বীপ অন্যতম। গত জানুয়ারিতেই মালদ্বীপে কোভিশিল্ডের এক লক্ষ ডোজ পাঠানো হয়।
শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দাবি করেন, টিকাকরণের ক্ষেত্রে চমকপ্রদ সাফল্য অর্জন করেছে দেশ। তাঁর মতে, প্রযুক্তির দিক থেকে ভারত এখন আত্মনির্ভর। সেই প্রযুক্তির সাহায্যেই এই সাফল্য অর্জন করা গিয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্তের সমালোচনা হয়েছে নানা মহলে। এসম্পর্কে প্রশ্ন করলে মোদী বলেন, তিনি সমালোচনায় যথেষ্ট গুরুত্ব দেন।
এক সর্বভারতীয় পত্রিকার সাক্ষাৎকারে মোদী বলেন, "ভেবে দেখুন, এখনও যদি ভ্যাকসিন না পাওয়া যেত, তাহলে কী হত? বিশ্বের এক বড় অংশের মানুষ এখনও ভ্যাকসিন পাননি। ভারত আত্মনির্ভর হয়েছে বলেই আমরা টিকাকরণে সাফল্য অর্জন করেছি।"
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, কয়েক বছর আগে বিজ্ঞান কংগ্রেসে তিনি বলেছিলেন, এখনকার স্লোগান হল 'জয় জওয়ান', 'জয় কিষাণ' এবং 'জয় বিজ্ঞান' এবং 'জয় অনুসন্ধান'। অনুসন্ধান মানে গবেষণা। মোদী দাবি করেন, তাঁর সরকার গবেষণার ওপরে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে।
মোদীর কথায়, "২০২০ সালের মে মাস থেকে আমরা টিকাকরণের পরিকল্পনা করেছিলাম। তখন বিশ্বে কোনও ভ্যাকসিনকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। আমরা ভেবেছিলাম, আগের পদ্ধতিতে টিকাকরণ করে লাভ নেই। কারণ তাতে সবাইকে টিকা দিতে ১০ বছর লাগবে।"
প্রধানমন্ত্রীর দাবি, "গরিব মানুষকে এখন কোনও পরিষেবা পাওয়ার জন্য অফিসারদের ঘুষ দিতে হয় না। কোনও দরিদ্র পরিযায়ী শ্রমিক যে শহরে কাজ করেন, সেখানেই ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ নিতে পারেন।" মোদীর দাবি, টিকাকরণের ক্ষেত্রে অনেক উন্নত দেশের চেয়ে ভাল কাজ করেছে ভারত। কিন্তু কায়েমি স্বার্থবাহী এমন অনেকে আছেন, যাঁদের কাজই হল ভারতের ভাবমূর্তির ক্ষতি করা।