
শেষ আপডেট: 12 January 2024 15:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুর নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত সূত্রে শুক্রবার সকালে বরাহনগরের বিধায়ক তাপস রায়ের বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছেন ইডির গোয়েন্দারা। দুপুরেও তাঁর বাড়ি থেকে বেরোননি তাঁরা। তল্লাশি চলছে।
কিন্তু তাপস রায়ের বাড়িতে এই তল্লাশি নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ কথা বললেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। অধীরবাবু ঘোরতর তৃণমূল বিরোধী নেতা। কিন্তু তা সত্ত্বেও এদিন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “তাপস রায় চোর চোট্টা বলে মনে করি না। হতে পারে ভিড়ের মধ্যে পড়ে গেছেন।”
শুক্রবার সাত সকালে বউবাজারে বি বি গাঙ্গুলি স্ট্রিটে বরানগরের বিধায়ক তাপস রায়ের বাড়ির সামনে সিআরপিএফ জওয়ানদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আশ্চর্যই হয়েছিলেন স্থানীয় মানুষজন। বিধায়কের বাড়িতে ইডি হানার খবর জানতে পেরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা অনেককেই বলতে শোনা গিয়েছে, যতদূর জানি তাপসদা এই ধরনের লোক নন। উনি সজ্জন মানুষ।
পরে দুপুরে অধীর চৌধুরী বলেন,“আমি ওনাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি। উনি এই চরিত্রের বলে মনে করি না। তবে চোরের সঙ্গে থাকলে তো বদনামের ভাগীদার হতে হবে। এখন সঙ্গদোষে কিছু হলে আলাদা কথা। তবে তাপস রায়কে আমি যতদূর চিনি উনি দুর্নীতি করার লোক নন।”
কংগ্রেসের ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে উঠে আসা নেতা হলেন তাপস রায়। ছাত্র পরিষদের সভাপতি ছিলেন। তা ছাড়া উত্তর কলকাতায় বরাবরই ডাকাবুকো ও দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা বলে পরিচিত তিনি। বাম জমানায় তাপসবাবু কাউন্সিলর ও বিধায়ক দুই হয়েছেন।
শুধু উত্তর কলকাতায় নয় তাঁর নির্বাচন কেন্দ্র বরাহনগর এলাকাতেও সমান জনপ্রিয় তাপস রায়। নিজের নির্বাচন কেন্দ্র নিয়ে থাকেন। সেখানে কেউ ডাকলেই যান। তা ছাড়া বাংলার রাজনীতিতে তাপস রায়ের ভাবমূর্তি বরাবরই স্বচ্ছ। কংগ্রেসের রাজনীতিতে তাপস রায় ও অধীরবাবু এক সঙ্গে খুব কম সময়েই কাজ করেছেন।
তবে তাঁদের একটা অভিন্ন যোগসূত্র ছিল। তাপস রায় ছিলেন সোমেন মিত্রর অনুগামী নেতা। আবার অধীরও সোমেন মিত্রর আস্থাভাজন ছিলেন। এদিন অধীর তাঁর সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন, তা তাপসবাবুর ব্যক্তিগত রাজনীতি ও ভাবমূর্তির রক্ষার জন্য ইতিবাচক বলে অনেকে মনে করছেন।
একই সঙ্গে শাহজাহানের প্রসঙ্গও টেনে এনেছেন অধীর। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির কথায়, "সবাই তো শেখ শাহজাহানের মতো মস্তান নয়।"
সন্দেশখালি প্রসঙ্গে আক্রমণ শানিয়েছেন কেন্দ্রীয় এজেন্সি ইডিকেও। অধীর বলেন, "সন্দেশখালির ঘটনায় ইডির কিছু করা সম্ভব হয়নি। ভারতবর্ষে এমন কোনও রাজ্য আছে কিনা জানা নেই, যেখানে কোর্টে গিয়ে ইডিকে বলতে হচ্ছে, রাজ্য সহযোগিতা করছে না। ইডির এই ধরনের আত্ম সমপর্ণ, কোর্টের কাছে ভিক্ষা দেশে আগে কোথাও দেখা যায়নি।"